সকাল ১১:২৪ | মঙ্গলবার | ২৮শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পকেট করনের ঘেরাটোপে হতাশ ময়মনসিংহ ছাত্রলীগ

বিল্লাল হোসেন প্রান্তঃ

ময়মনসিংহ ছাত্রলীগের কমিটিতে কারা আসছে; নেতাদের পকেট থেকে না রাজপথ থেকে। দীর্ঘদিন মাঠে থাকা কর্মীরা হতাশ। অন্যদিকে রাজনীতিতে আনকোরা সুবিধাবাদীদের আগমনের গুঞ্জন। ময়মনসিংহ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক এ দুর্বলতার দায়ভার কার?

 

 

দফায় দফায় উদ্যেগী হওয়ার পরও যখন ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি। হতাশা তখন প্রকোপ। এ হতাশা শুধুযে পদবঞ্চিতদের তাই নয়। হতাশা প্রকাশ করেছেন ময়মনসিংহে স্বাধীনতাকালিন ও পরবর্তী ছাত্রলীগের নেতৃত্বদানকারী নেতারাও। এক্ষত্রে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয়হীনতা,নিজস্ব কেন্দ্রিক ব্যাক্তি, গ্রুপিং, আস্থার সংকটকে দায়ি করা হয়েছে।

 

 

৭১ এ ময়ময়নসিংহ জেলা ছাত্রলীগ সভাপতির দায়িত্ব পালন করা সাবেক ছাত্রনেতা বর্তমান এমপি নাজিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, নেতৃত্বশূন্য হবে ছাত্রলীগ। রাজনীতির শুরুতে স্বপ্ন ঝরে পড়বে। যোগ্য নেতৃত্ব আসবে না। মাঠে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্নারা বঞ্চিত হলে সাংগঠনিক দুর্বলতা তৈরি হবে। আনকোরা নেতৃত্ব দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে।

 

 

ময়মনসিংহের কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে দায়ি করে নাজিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, এটি মনিটরিং করার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের। যা তারা করতে পারেনি।

 

 

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সোনালী অতীতের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন মতিয়া চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ অনেকেই ছাত্র জীবনে সারা বাংলাদেশে পরিচিত ছিলেন। বর্তমান রাজনীতিতে সেক্রিফাইস নেই। একজন আরেকজনকে পিছনে টেনে ধরার প্রবনতা থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে। যোগ্যদের মূল্যায়নের মাধ্যমে সংগঠন শক্তিশালী হবে।

 

 

তিনি ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগকে সাংগঠনিকভাবে সচল রাখতে মাঠে থাকা কর্মীদের নিয়ে অতিসত্বর কমিটি পূর্নাঙ্গ করার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি পরামর্শ দেন। ছাত্রলীগে এখন বয়সসীমা রয়েছে। তাই একটি ছেলে অথবা মেয়ে ছাত্রলীগ করার জন্য এসে বঞ্চিত হলে পরবর্তী পথচলা বন্ধুর হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তাদের অন্য সংগঠনেও জায়গা পাওয়াটা কষ্টকর হয়।

 

 

ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের যুবও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রেজাউল হাসান বাবু বলেন, ময়মনসিংহ ছাত্রলীগের জন্য ভয়াবহ দূর্যোগ। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে এমন অবস্থা কখনো হয়নি। অবিলম্বে পূর্নাঙ্গ  কমিটি দিয়ে ছাত্রলীগকে বাঁচানো দরকার।

 

 

ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি শরিফ হাসান অনু বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ছাএলীগ আমার কর্মী গড়ার পাঠশালা। পাঠশালা এখন ছাএ শূন্য। অপাত্রে কন্যা দান করলে যা হয়। কষ্ট লাগে ছাএলীগের এ অবস্থা দেখলে। হৃদয়ে ধারন করি ছাএলীগকে তাই হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। শুধু শুধু ওদেরকেই দোষ দিয়ে কি লাভ- এদেরকে যারা দেখভাল করে আগে তাদেরকে রাজনৈতিক মন মানসিকতা তৈরি করতে হবে। নিয়ন্ত্রিত ছাএলীগতো এমনই হবে।

 

 

ময়মনসিংহে সবশেষ তাজ রানা ও আক্তারোজ্জামান রবিন এর কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়। ওই কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবিএম আক্তারোজ্জামান রবিন বলেন,প্রায় ৮ বছর পূর্ণতা পায়নি ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগ। ইতিমধ্যেই নেতৃত্বের সংকট পড়েছে ছাত্রলীগ। পদপদবী ছাড়া রাজনীতিতে যোগ্যতা প্রমানের সুযোগ নেই। পরবর্তী নেতৃত্বে কাকে আনা হবে সে প্রশ্নে যোগ্য নেতৃত্ব খুঁজে পাওয়া এখানে কষ্টকর।

 

 

তিনি বলেন, আমার জানামতে, বর্তমান ময়মনসিংহ কমিটি দিয়েছে সাইফুজ্জামান সোহাগ ও এসএম জাকির। তাদের কাছে ময়মনসিংহ কমিটি পূর্নাঙ্গ করার জন্য তালিকা জমা দিয়ে অপেক্ষমান ছিলো রকিব ও সাচী। কালক্ষেপনে কেন্দ্রীয় সম্মেলন পেরিয়ে বর্তমান নেতৃত্বের কাছেও ফের পূর্ণাঙ্গ তালিকা জমা দিয়েছে তারা। ময়মনসিংহ ছাত্রলীগের সংকট সমাধানে একমাত্র কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকেই এখানে ভূমিকা রাখতে হবে। অন্যথায় ছাত্রলীগের দুর্বলতা স্পর্শ করবে ময়মনসিংহ আওয়ামী লীগকে।

 

 

গুঞ্জন রয়েছে একটি প্রভাবশালী মহল রাজনীতিকে নিজস্ব করনে নিজেদের আশির্বাদপুষ্ঠদের আনতে মরিয়া। অন্যদিকে বর্তমান জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সাধারণ সম্পাদক দপ্তর সেলে যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দিয়েছেন তাতে রয়েছে বিগত দিনে মাঠে থাকা  দক্ষ একনিষ্ঠ স্থানীয় ক্লিন ইমেজের যোগ্য ছেলেরা। যারা কমিটিতে এলে ময়মনসিংহের রাজপথে ছাত্রলীগই পরিনত হবে আওয়ামী লীগের প্রধান শক্তি। এতে ময়মনসিংহ ছাত্রলীগের অতীত ইতিহাস পুনরুদ্ধার হবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহলের ধারনা।

ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ রকিবুল ইসলাম রকিব বলেন, বিগত সময়ে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্দেশনা বাস্তবায়ন,জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে পুনরায় ক্ষমতায় আনার ক্ষেত্রে,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে প্রচলিত গুজব রুখে দিতে,বিএনপি-জামাতের আগ্রাসন প্রতিহত করতে,শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টিতে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগ সর্বদা বিচক্ষণ ভূমিকা রেখেছে যা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নির্দ্বিধায় স্বীকার করে নিয়েছে।

 

 

কিন্তু আক্ষেপের বিষয় হচ্ছে আমরা এ যাবত যতবারই আমাদের প্রাপ্য অধিকারের সাংগঠনিক স্বীকৃতি চাইতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দ্বারস্থ হয়েছে ঠিক ততবারই স্থানীয়ভাবে আমাদের বাধা প্রদান করা হয়েছে। সত্যি বলতে কি আমরা ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগ রাজপথে রাজনীতিতে সবসময়ই আওয়ামীলীগের সহায়ক ভূমিকা পালন করেছি কিন্তু পরিণামে বারবার প্রহসনের শিকার হয়েছি।”

 

 

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী  ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগ তাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটির একটি কপি ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ও উপ দপ্তর সম্পাদকের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দপ্তর সেলে জমা হয়েছে। এরপর থেকে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের প্রত্যেক কর্মী মধ্যে আবারও আশা জেগেছে এবং রাজপথ প্রাণের সঞ্চার ঘটেছে।

 

 

ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, শিক্ষা শান্তি প্রগতির পতাকা হাতে দেশ মাতৃকার সেবায় নিজেকে সর্বদাই নিবেদীত রেখেছি রাজপথে। দলের সকল নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেছি। ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগ তাদের কর্মীদের প্রাপ্য সাংগঠনিক স্বীকৃতির আশায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে আছে।

 

 

তিনি বলেন, ছাত্র রাজনীতিটা রাজনীতিকদের হাতে রাখতে হলে যারা মাঠের কর্মী তাদেরকে পদায়ন করতে হবে। ছাত্ররাজনীতির ধারাবাহিকতায় আমি ও আমার সভাপতি দায়িত্ব পেয়েছিলাম। আমরা যাদের মাঠে ময়দানে সংগঠনের জন্য পেয়েছি;তাদের নিয়ে পূর্ণাঙ্গ করতে তালিকা জমা দিয়েছি। এখন সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের।

 

 

এ বিষয়ে সম্পর্কে জানতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে একাধিকবার মুুুুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া  যায়নি।

Print Friendly, PDF & Email

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» নাসিরাবাদ কলেজ গর্ভনিং বডির কমিটি বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ

» দ্বিতীয় দফায় এমপি মোহিত উর রহমানের ফ্রি চক্ষু সেবা

» প্রয়াত মতিউর রহমানের স্নেহধন্য আবু সাঈদ জনতার ভালোবাসা

» অস্ত্র মামলায় কাউন্সিলর নোমানের ১০ বছর কারাদণ্ড

» আমি বাংলাদেশের সবচাইতে অজনপ্রিয় সাংসদ হবো- মোহিত উর রহমান শান্ত

» ময়মনসিংহ ডিবির অভিযানে ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

» তাপদাহ প্রশমনে ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগের উদ্যোগে পানি-জুস-সেলাইন বিতরণ

» এমপি মোহিত উর রহমানের সহায়তায় ১১০ জনের চোখের ছানি অপারেশন সম্পন্ন

» উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আশরাফ-সাঈদ প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস, ১৪ জন বৈধ ঘোষিত

» আগামীকাল ময়মনসিংহ মেতে উঠবে স্বাধীনতা কনসার্টে

» ভাষা শহীদদের প্রতি সংসদ সদস্য মোহিত উর রহমান শান্তর শ্রদ্ধাঞ্জলী

» ১৪৭ বেকার তরুণ তরুণীকে চাকুরির প্রস্তুতি কর্মশালা করালেন এমপি মোহিত উর রহমান শান্ত

» হালুয়াঘাট-ধোবাউড়ায় ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি ; কৃষি সেচে গুরুত্ব এমপির

» ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আবু সাঈদ

» সংবর্ধনা বাতিল করে শীতার্তদের মাঝে এমপি মোহিত উর রহমানের কম্বল বিতরণ

আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

২২ সি কে ঘোষ রোড, ময়মনসিংহ
বার্তা কক্ষ : ০১৭৩৬ ৫১৪ ৮৭২
ইমেইল : dailyjonomot@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার দৈনিক জনমত .কম

কারিগরি সহযোগিতায় BDiTZone.com

,

basic-bank

পকেট করনের ঘেরাটোপে হতাশ ময়মনসিংহ ছাত্রলীগ

বিল্লাল হোসেন প্রান্তঃ

ময়মনসিংহ ছাত্রলীগের কমিটিতে কারা আসছে; নেতাদের পকেট থেকে না রাজপথ থেকে। দীর্ঘদিন মাঠে থাকা কর্মীরা হতাশ। অন্যদিকে রাজনীতিতে আনকোরা সুবিধাবাদীদের আগমনের গুঞ্জন। ময়মনসিংহ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক এ দুর্বলতার দায়ভার কার?

 

 

দফায় দফায় উদ্যেগী হওয়ার পরও যখন ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি। হতাশা তখন প্রকোপ। এ হতাশা শুধুযে পদবঞ্চিতদের তাই নয়। হতাশা প্রকাশ করেছেন ময়মনসিংহে স্বাধীনতাকালিন ও পরবর্তী ছাত্রলীগের নেতৃত্বদানকারী নেতারাও। এক্ষত্রে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয়হীনতা,নিজস্ব কেন্দ্রিক ব্যাক্তি, গ্রুপিং, আস্থার সংকটকে দায়ি করা হয়েছে।

 

 

৭১ এ ময়ময়নসিংহ জেলা ছাত্রলীগ সভাপতির দায়িত্ব পালন করা সাবেক ছাত্রনেতা বর্তমান এমপি নাজিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, নেতৃত্বশূন্য হবে ছাত্রলীগ। রাজনীতির শুরুতে স্বপ্ন ঝরে পড়বে। যোগ্য নেতৃত্ব আসবে না। মাঠে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্নারা বঞ্চিত হলে সাংগঠনিক দুর্বলতা তৈরি হবে। আনকোরা নেতৃত্ব দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে।

 

 

ময়মনসিংহের কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে দায়ি করে নাজিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, এটি মনিটরিং করার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের। যা তারা করতে পারেনি।

 

 

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সোনালী অতীতের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন মতিয়া চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ অনেকেই ছাত্র জীবনে সারা বাংলাদেশে পরিচিত ছিলেন। বর্তমান রাজনীতিতে সেক্রিফাইস নেই। একজন আরেকজনকে পিছনে টেনে ধরার প্রবনতা থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে। যোগ্যদের মূল্যায়নের মাধ্যমে সংগঠন শক্তিশালী হবে।

 

 

তিনি ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগকে সাংগঠনিকভাবে সচল রাখতে মাঠে থাকা কর্মীদের নিয়ে অতিসত্বর কমিটি পূর্নাঙ্গ করার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি পরামর্শ দেন। ছাত্রলীগে এখন বয়সসীমা রয়েছে। তাই একটি ছেলে অথবা মেয়ে ছাত্রলীগ করার জন্য এসে বঞ্চিত হলে পরবর্তী পথচলা বন্ধুর হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তাদের অন্য সংগঠনেও জায়গা পাওয়াটা কষ্টকর হয়।

 

 

ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের যুবও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রেজাউল হাসান বাবু বলেন, ময়মনসিংহ ছাত্রলীগের জন্য ভয়াবহ দূর্যোগ। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে এমন অবস্থা কখনো হয়নি। অবিলম্বে পূর্নাঙ্গ  কমিটি দিয়ে ছাত্রলীগকে বাঁচানো দরকার।

 

 

ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি শরিফ হাসান অনু বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ছাএলীগ আমার কর্মী গড়ার পাঠশালা। পাঠশালা এখন ছাএ শূন্য। অপাত্রে কন্যা দান করলে যা হয়। কষ্ট লাগে ছাএলীগের এ অবস্থা দেখলে। হৃদয়ে ধারন করি ছাএলীগকে তাই হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। শুধু শুধু ওদেরকেই দোষ দিয়ে কি লাভ- এদেরকে যারা দেখভাল করে আগে তাদেরকে রাজনৈতিক মন মানসিকতা তৈরি করতে হবে। নিয়ন্ত্রিত ছাএলীগতো এমনই হবে।

 

 

ময়মনসিংহে সবশেষ তাজ রানা ও আক্তারোজ্জামান রবিন এর কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়। ওই কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবিএম আক্তারোজ্জামান রবিন বলেন,প্রায় ৮ বছর পূর্ণতা পায়নি ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগ। ইতিমধ্যেই নেতৃত্বের সংকট পড়েছে ছাত্রলীগ। পদপদবী ছাড়া রাজনীতিতে যোগ্যতা প্রমানের সুযোগ নেই। পরবর্তী নেতৃত্বে কাকে আনা হবে সে প্রশ্নে যোগ্য নেতৃত্ব খুঁজে পাওয়া এখানে কষ্টকর।

 

 

তিনি বলেন, আমার জানামতে, বর্তমান ময়মনসিংহ কমিটি দিয়েছে সাইফুজ্জামান সোহাগ ও এসএম জাকির। তাদের কাছে ময়মনসিংহ কমিটি পূর্নাঙ্গ করার জন্য তালিকা জমা দিয়ে অপেক্ষমান ছিলো রকিব ও সাচী। কালক্ষেপনে কেন্দ্রীয় সম্মেলন পেরিয়ে বর্তমান নেতৃত্বের কাছেও ফের পূর্ণাঙ্গ তালিকা জমা দিয়েছে তারা। ময়মনসিংহ ছাত্রলীগের সংকট সমাধানে একমাত্র কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকেই এখানে ভূমিকা রাখতে হবে। অন্যথায় ছাত্রলীগের দুর্বলতা স্পর্শ করবে ময়মনসিংহ আওয়ামী লীগকে।

 

 

গুঞ্জন রয়েছে একটি প্রভাবশালী মহল রাজনীতিকে নিজস্ব করনে নিজেদের আশির্বাদপুষ্ঠদের আনতে মরিয়া। অন্যদিকে বর্তমান জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সাধারণ সম্পাদক দপ্তর সেলে যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দিয়েছেন তাতে রয়েছে বিগত দিনে মাঠে থাকা  দক্ষ একনিষ্ঠ স্থানীয় ক্লিন ইমেজের যোগ্য ছেলেরা। যারা কমিটিতে এলে ময়মনসিংহের রাজপথে ছাত্রলীগই পরিনত হবে আওয়ামী লীগের প্রধান শক্তি। এতে ময়মনসিংহ ছাত্রলীগের অতীত ইতিহাস পুনরুদ্ধার হবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহলের ধারনা।

ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ রকিবুল ইসলাম রকিব বলেন, বিগত সময়ে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্দেশনা বাস্তবায়ন,জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে পুনরায় ক্ষমতায় আনার ক্ষেত্রে,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে প্রচলিত গুজব রুখে দিতে,বিএনপি-জামাতের আগ্রাসন প্রতিহত করতে,শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টিতে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগ সর্বদা বিচক্ষণ ভূমিকা রেখেছে যা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নির্দ্বিধায় স্বীকার করে নিয়েছে।

 

 

কিন্তু আক্ষেপের বিষয় হচ্ছে আমরা এ যাবত যতবারই আমাদের প্রাপ্য অধিকারের সাংগঠনিক স্বীকৃতি চাইতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দ্বারস্থ হয়েছে ঠিক ততবারই স্থানীয়ভাবে আমাদের বাধা প্রদান করা হয়েছে। সত্যি বলতে কি আমরা ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগ রাজপথে রাজনীতিতে সবসময়ই আওয়ামীলীগের সহায়ক ভূমিকা পালন করেছি কিন্তু পরিণামে বারবার প্রহসনের শিকার হয়েছি।”

 

 

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী  ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগ তাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটির একটি কপি ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ও উপ দপ্তর সম্পাদকের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দপ্তর সেলে জমা হয়েছে। এরপর থেকে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের প্রত্যেক কর্মী মধ্যে আবারও আশা জেগেছে এবং রাজপথ প্রাণের সঞ্চার ঘটেছে।

 

 

ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, শিক্ষা শান্তি প্রগতির পতাকা হাতে দেশ মাতৃকার সেবায় নিজেকে সর্বদাই নিবেদীত রেখেছি রাজপথে। দলের সকল নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেছি। ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগ তাদের কর্মীদের প্রাপ্য সাংগঠনিক স্বীকৃতির আশায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে আছে।

 

 

তিনি বলেন, ছাত্র রাজনীতিটা রাজনীতিকদের হাতে রাখতে হলে যারা মাঠের কর্মী তাদেরকে পদায়ন করতে হবে। ছাত্ররাজনীতির ধারাবাহিকতায় আমি ও আমার সভাপতি দায়িত্ব পেয়েছিলাম। আমরা যাদের মাঠে ময়দানে সংগঠনের জন্য পেয়েছি;তাদের নিয়ে পূর্ণাঙ্গ করতে তালিকা জমা দিয়েছি। এখন সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের।

 

 

এ বিষয়ে সম্পর্কে জানতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে একাধিকবার মুুুুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া  যায়নি।

Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ খবর



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

২২ সি কে ঘোষ রোড, ময়মনসিংহ
বার্তা কক্ষ : ০১৭৩৬ ৫১৪ ৮৭২
ইমেইল : dailyjonomot@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার দৈনিক জনমত .কম

কারিগরি সহযোগিতায় BDiTZone.com