দুপুর ২:৩৫ | শনিবার | ১৩ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে চৈত্র, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহের বুক ফাটে মুখ ফোটেনা হতভাগা সদর-৪ শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে

বিল্লাল হোসেন প্রান্তঃ
ময়মনসিংহের মন বোঝেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। না চাইতেই তিনি অনেক কিছু দিয়েছেন এ জনপদের মানুষের জন্য। তার কাছে চাওয়ার মানুষটিও হারিয়ে ফেলেছে ময়মনসিংহ। চলে গেছেন এ জনপদের মাটি ও মানুষের নেতা প্রিন্সিপাল মতিউর রহমান। তিনি এমপি থাকাকালীন ময়মনসিংহে যে উন্নয়ন হয়েছে তার পর নাই। অভিভাবকহীন ময়মনসিংহ এখন একমাত্র জননেত্রী শেখ হাসিনার মুখের দিকে তাকিয়ে। বিগত ১৪ বছরে দেশের উন্নয়ন হয়েছে অভাবনীয় । ময়মনসিংহ পেয়েছে বিভাগ। বিভাগের তিন জেলা বদলে গেছে খোলস পাল্টে। জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোণায় অভুতর্পূব উন্নয়ন হয়েছে। প্রবাসীরা দেশে আসলে নিজের গ্রাম, নিজের বাড়ি চিনতে কষ্ট হয়। হতচকিয়ে চোখ কপালে উঠে। জেলা শহরেও ফ্লাইওভার, ফুটওভার, বিদেশের মতো চকচকে ঝকঝকে সড়ক। দেশ এগিয়ে গেছে অনেকদুর। পিছিয়ে পড়েছে ময়মনসিংহ সদর। শতশত উন্নয়ন কাজের পরিকল্পনা ও ভিত্তিপ্রস্তর হয়েছে এখানে। বাস্তবায়ন হয়নি বেশিরভাগ। এখানকার জনগণ দেশ এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর। তারা আওয়ামী লীগের সাফল্যে নিজেদের অপ্রাপ্তি,অভিযোগ ভুলে যায়। তাদের বুক ফাটে মুখ ফোটেনা।

ময়মনসিংহ সদর আসনের এমপি সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ বার্ধক্য ও বিভিন্ন কারণে অসুস্থ থেকেছেন বিগত ১০ বছর। দেশে ও দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন থাকায় তিনি পুরো মেয়াদে এলাকায় আসতে পারেননি। তবে সম্প্রতি তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করেছেন সৌজন্য স্বাক্ষাতে। গুঞ্জন উঠেছে, তিনি এবারও ময়মনসিংহ সদর-৪ সহ আরও পাচটি সংসদীয় আসন চাইছেন। এ নিয়ে জেলায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সচেতন নাগরীকদের মতে, জোটের কারণে যদি জাতীয় পার্টিকে সিট দিতেই হয় তবে বার বার ময়মনসিংহ সদর কেন ?। তিনি চাইলেই অন্য আসন থেকে নির্বাচন করতে পারেন। ময়মনসিংহ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ জেলা ময়মনসিংহ সদর। এখানে এমপি নিস্কৃয় থাকায় উন্নয়নের ছিটেফোটাও লাগেনি। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আওয়ামী রাজনীতির উর্বর ভূমি ময়মনসিংহ সদর হবে অবহেলিত জনপদের উপাখ্যান। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এ বিষয়ে সরাসরি কিছু না বললেও সভা সমাবেশে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছেন দলীয় নেতার জন্য। নেতাকর্মীরা আশাবাদী এবার দলীয় প্রধান জননেত্রী শেখ হাসিনা ময়মনসিংহ সদরের জন্য কিছু একটা করবেন। সদরে এবার আওয়ামী লীগের এমপি আসবে। তবে আওয়ামী লীগের সাংসদ সময়ের দাবি মনে করেন এখানকার সচেতন নাগরিকসহ সাধারণ জনতা। ব্লগার উৎপল কর ফেসবুকে লিখেছেন,

“এইবার আমরারে মাফ কইরা দেন প্লিজ।

একবার ভাবুনতো বিগত দশ বছর এই আসনের এমপি থাকাকালীন আপনি কয়বার ময়মনসিংহ এসেছেন। কি করেছেন ময়মনসিংহের জন্য। ময়মনসিংহের অনেকেই জানেনা এই আসনের এমপি কে?

অনেকে কথায় কথায় জামালপুরের উন্নয়নের উদাহরণ টেনে বলেন মির্জা আজমের মতোন একজন লোক এই শহরে থাকলে এই শহরটাও অনেক উন্নত হতে পারতো। আপনাকে মনে রাখতে হবে যে আজম ভাই ১৯৯১ সাল থেকে একটানা ৬ বারের এমপি। তন্মধ্যে একবার তিনি বিরোধী দলীয় হুইপ, একবার সরকার দলীয় হুইপ এবং একবার প্রতিমন্ত্রীও ছিলেন। বর্তমান আওয়ামী কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকও তিনি। –তাছাড়া সদর আসনে বিগত ৫ বারের সংসদ সদস্যও নৌকার।

আজম ভাইয়ের মতো হাইপ্রোফাইল লোক না থাকলেও লোক আমাদের আছে। প্রোফাইল তাদেরও ফেলনা না। তাছাড়া প্রোফাইল বিল্ড আপ করার মতো সুযোগ তারা পাচ্ছে কোথায়? নেত্রীর নির্দেশনা পালন করতে বারবার আমরা ত্যাগ স্বীকার করে যাচ্ছি। –জোটের স্বার্থে নেত্রী বললে প্রয়োজনে আবারও করতেও রাজি আছি।

কথা সেইটা না!

কথা হইলো —-আপনিতো জানেন যে অনেক জেলা বা বিভাগ আওয়ামী লীগের এই তিন টার্মে উন্নয়নের কোন সীমায় গিয়ে পৌঁছেছে। আমরা কিছুই পারছিনা। জেলা হিসাবেও না, নবজাতক বিভাগ হিসাবেও না। আমাদের হয়ে কথা বলার মতো আমাদের প্রতিনিধি সংসদে নাই। আপনি থাকলেও কিছু বলেন না। আপনারও দোষ নাই। আপনিতো আমাদের সমস্যাই জানেন না। জানবেনই বা কিভাবে? আমাদের কাছে আসলেতো জানবেন।

যথাবিহিত সন্মানপূর্বক বিনীত প্রার্থনা,

ময়মনসিংহ-৪ আসনটা এবার আপনি চাইয়েন না।

আরো ২৯৯ আসন আছে। তার মধ্য থেকে একটা নিন।

#পাদটীকাঃ

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার কাছে চাইলাম না। জোটের স্বার্থে মন থেকে না চাইলেও অনেক কিছুই তাকে মেনে নিতে হয়। তাই অনুরোধটা সরাসরি রওশন এরশাদের কাছেই করলাম। ১৯৯৬, ২০১৪, ২০১৮ –এই তিন টার্ম সদরের এমপি থেকে আপনি আমাদের ধন্য করেছেন। এইবার মুক্তি দেন প্লিজ।”

২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ময়মনসিংহ বিভাগ ঘোষণা করেন। ১০ হাজার ৬৬৮ বর্গ কিলোমিটারের এই বিভাগে জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ। ঘোষণার পর বিভাগীয় শহর স্থাপনের জন্য ময়মনসিংহ শহর থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপারে বিভাগীয় সদর দপ্তর নির্মাণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। দুইপাড়কে সংযুক্ত করতে ব্রীজ,আবাসিক এলাকা, সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাঁধ, জাদুঘর, নভোথিয়েটার, কৃত্রিম জলাশয়, আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র, মানসম্মত হোটেল। নানা জটিলতায় যা এখনও দৃশ্যমান নয়। এদিকে দিনে দিনে নগরীতে বাড়ছে মানুষের চাপ। নগরীতে সরু সড়কের ভিতর দিয়ে চলাচল রিতিমতো জীবন যুদ্ধ। যানজটে নাকাল নগরবাসী। নগরীর ভেতর দিয়ে ট্রেন চলাচল করায় ক্রসিং জটে দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে নগর জীবন। বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, ভূমি অধিগ্রহনের কাজ অচিরেই শুরু হবে। অধিগ্রহন শেষেই অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু হবে। তবে বর্তমান সরকারের এ মেয়াদে অধিগ্রহন শেষ হবে না। আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে শেষ হবে।

রাজনৈতিক সচেতন মহল মনে করেন শেষতক দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে সব দলের অংশগ্রহনে। সে হিসাবে ময়মনসিংহ সদর-৪ আসনের ভোটযুদ্ধে বিএনপির বিপরীতে এবার আওয়ামী লীগ না হলে সিট যেতে পারে বিএনপির ঘরে। জাতীয় পার্টি ২০১৮ সালের নির্বাচন ফরমেটে না পেলে জামানাত হারাবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবু ওহাব আকন্দ ১ লাখ ৩ হাজার ৭৫৩ ভোট পেয়েছিলেন। ওইবার মোট ভোট ছিলো ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৯৯৬ ভোট। কথিত আছে ময়মনসিংহ সদর আসনে চরাঞ্চলের ভোট নির্ধারন করে সংসদ কার। ভোটের অংকে সদর আসনের বিজয়ে চরাঞ্চল ফ্যাক্টর। আর চরাঞ্চলকে আওয়ামী লীগের দূর্গ করে গেছেন ভূমিপুত্র প্রয়াত অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।

Print Friendly, PDF & Email

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» আগামীকাল ময়মনসিংহ মেতে উঠবে স্বাধীনতা কনসার্টে

» ভাষা শহীদদের প্রতি সংসদ সদস্য মোহিত উর রহমান শান্তর শ্রদ্ধাঞ্জলী

» ১৪৭ বেকার তরুণ তরুণীকে চাকুরির প্রস্তুতি কর্মশালা করালেন এমপি মোহিত উর রহমান শান্ত

» হালুয়াঘাট-ধোবাউড়ায় ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি ; কৃষি সেচে গুরুত্ব এমপির

» ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আবু সাঈদ

» সংবর্ধনা বাতিল করে শীতার্তদের মাঝে এমপি মোহিত উর রহমানের কম্বল বিতরণ

» ব্রহ্মপুত্রে নৌকায় চড়ে অনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করলেন মোহিত উর রহমান শান্ত

» ময়মনসিংহে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে উল্লাসভরে ফুলেল শুভেচ্ছায় সমাবেশ

» লেঃ কর্ণেল (অবঃ)নজরুল ইসলামের হস্তক্ষেপে দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধের অবসান

» ময়মনসিংহ-৪ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মোহিত উর রহমান শান্ত

» আবারও জাপাকে দিলে জনগনের আস্থা হারাবে আওয়ামী লীগ

» ময়মনসিংহ-৪ আসনে মনোনয়ন কিনেছেন মহানগর সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত

» জনসভায় জনসমুদ্র ; সদরের প্রত্যাশা মোহিত উর রহমান শান্ত

» সংবিধান মেনে নির্বাচনে আসেন, আমরাও আসবো-বিএনপিকে মোহিত উর রহমান শান্ত

» প্রতীকী অটোরিকশা চালিয়ে অবরোধের বিরুদ্ধে মোহিত উর রহমান শান্তর প্রতিবাদ

আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

২২ সি কে ঘোষ রোড, ময়মনসিংহ
বার্তা কক্ষ : ০১৭৩৬ ৫১৪ ৮৭২
ইমেইল : dailyjonomot@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার দৈনিক জনমত .কম

কারিগরি সহযোগিতায় BDiTZone.com

,

basic-bank

ময়মনসিংহের বুক ফাটে মুখ ফোটেনা হতভাগা সদর-৪ শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে

বিল্লাল হোসেন প্রান্তঃ
ময়মনসিংহের মন বোঝেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। না চাইতেই তিনি অনেক কিছু দিয়েছেন এ জনপদের মানুষের জন্য। তার কাছে চাওয়ার মানুষটিও হারিয়ে ফেলেছে ময়মনসিংহ। চলে গেছেন এ জনপদের মাটি ও মানুষের নেতা প্রিন্সিপাল মতিউর রহমান। তিনি এমপি থাকাকালীন ময়মনসিংহে যে উন্নয়ন হয়েছে তার পর নাই। অভিভাবকহীন ময়মনসিংহ এখন একমাত্র জননেত্রী শেখ হাসিনার মুখের দিকে তাকিয়ে। বিগত ১৪ বছরে দেশের উন্নয়ন হয়েছে অভাবনীয় । ময়মনসিংহ পেয়েছে বিভাগ। বিভাগের তিন জেলা বদলে গেছে খোলস পাল্টে। জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোণায় অভুতর্পূব উন্নয়ন হয়েছে। প্রবাসীরা দেশে আসলে নিজের গ্রাম, নিজের বাড়ি চিনতে কষ্ট হয়। হতচকিয়ে চোখ কপালে উঠে। জেলা শহরেও ফ্লাইওভার, ফুটওভার, বিদেশের মতো চকচকে ঝকঝকে সড়ক। দেশ এগিয়ে গেছে অনেকদুর। পিছিয়ে পড়েছে ময়মনসিংহ সদর। শতশত উন্নয়ন কাজের পরিকল্পনা ও ভিত্তিপ্রস্তর হয়েছে এখানে। বাস্তবায়ন হয়নি বেশিরভাগ। এখানকার জনগণ দেশ এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর। তারা আওয়ামী লীগের সাফল্যে নিজেদের অপ্রাপ্তি,অভিযোগ ভুলে যায়। তাদের বুক ফাটে মুখ ফোটেনা।

ময়মনসিংহ সদর আসনের এমপি সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ বার্ধক্য ও বিভিন্ন কারণে অসুস্থ থেকেছেন বিগত ১০ বছর। দেশে ও দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন থাকায় তিনি পুরো মেয়াদে এলাকায় আসতে পারেননি। তবে সম্প্রতি তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করেছেন সৌজন্য স্বাক্ষাতে। গুঞ্জন উঠেছে, তিনি এবারও ময়মনসিংহ সদর-৪ সহ আরও পাচটি সংসদীয় আসন চাইছেন। এ নিয়ে জেলায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সচেতন নাগরীকদের মতে, জোটের কারণে যদি জাতীয় পার্টিকে সিট দিতেই হয় তবে বার বার ময়মনসিংহ সদর কেন ?। তিনি চাইলেই অন্য আসন থেকে নির্বাচন করতে পারেন। ময়মনসিংহ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ জেলা ময়মনসিংহ সদর। এখানে এমপি নিস্কৃয় থাকায় উন্নয়নের ছিটেফোটাও লাগেনি। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আওয়ামী রাজনীতির উর্বর ভূমি ময়মনসিংহ সদর হবে অবহেলিত জনপদের উপাখ্যান। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এ বিষয়ে সরাসরি কিছু না বললেও সভা সমাবেশে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছেন দলীয় নেতার জন্য। নেতাকর্মীরা আশাবাদী এবার দলীয় প্রধান জননেত্রী শেখ হাসিনা ময়মনসিংহ সদরের জন্য কিছু একটা করবেন। সদরে এবার আওয়ামী লীগের এমপি আসবে। তবে আওয়ামী লীগের সাংসদ সময়ের দাবি মনে করেন এখানকার সচেতন নাগরিকসহ সাধারণ জনতা। ব্লগার উৎপল কর ফেসবুকে লিখেছেন,

“এইবার আমরারে মাফ কইরা দেন প্লিজ।

একবার ভাবুনতো বিগত দশ বছর এই আসনের এমপি থাকাকালীন আপনি কয়বার ময়মনসিংহ এসেছেন। কি করেছেন ময়মনসিংহের জন্য। ময়মনসিংহের অনেকেই জানেনা এই আসনের এমপি কে?

অনেকে কথায় কথায় জামালপুরের উন্নয়নের উদাহরণ টেনে বলেন মির্জা আজমের মতোন একজন লোক এই শহরে থাকলে এই শহরটাও অনেক উন্নত হতে পারতো। আপনাকে মনে রাখতে হবে যে আজম ভাই ১৯৯১ সাল থেকে একটানা ৬ বারের এমপি। তন্মধ্যে একবার তিনি বিরোধী দলীয় হুইপ, একবার সরকার দলীয় হুইপ এবং একবার প্রতিমন্ত্রীও ছিলেন। বর্তমান আওয়ামী কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকও তিনি। –তাছাড়া সদর আসনে বিগত ৫ বারের সংসদ সদস্যও নৌকার।

আজম ভাইয়ের মতো হাইপ্রোফাইল লোক না থাকলেও লোক আমাদের আছে। প্রোফাইল তাদেরও ফেলনা না। তাছাড়া প্রোফাইল বিল্ড আপ করার মতো সুযোগ তারা পাচ্ছে কোথায়? নেত্রীর নির্দেশনা পালন করতে বারবার আমরা ত্যাগ স্বীকার করে যাচ্ছি। –জোটের স্বার্থে নেত্রী বললে প্রয়োজনে আবারও করতেও রাজি আছি।

কথা সেইটা না!

কথা হইলো —-আপনিতো জানেন যে অনেক জেলা বা বিভাগ আওয়ামী লীগের এই তিন টার্মে উন্নয়নের কোন সীমায় গিয়ে পৌঁছেছে। আমরা কিছুই পারছিনা। জেলা হিসাবেও না, নবজাতক বিভাগ হিসাবেও না। আমাদের হয়ে কথা বলার মতো আমাদের প্রতিনিধি সংসদে নাই। আপনি থাকলেও কিছু বলেন না। আপনারও দোষ নাই। আপনিতো আমাদের সমস্যাই জানেন না। জানবেনই বা কিভাবে? আমাদের কাছে আসলেতো জানবেন।

যথাবিহিত সন্মানপূর্বক বিনীত প্রার্থনা,

ময়মনসিংহ-৪ আসনটা এবার আপনি চাইয়েন না।

আরো ২৯৯ আসন আছে। তার মধ্য থেকে একটা নিন।

#পাদটীকাঃ

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার কাছে চাইলাম না। জোটের স্বার্থে মন থেকে না চাইলেও অনেক কিছুই তাকে মেনে নিতে হয়। তাই অনুরোধটা সরাসরি রওশন এরশাদের কাছেই করলাম। ১৯৯৬, ২০১৪, ২০১৮ –এই তিন টার্ম সদরের এমপি থেকে আপনি আমাদের ধন্য করেছেন। এইবার মুক্তি দেন প্লিজ।”

২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ময়মনসিংহ বিভাগ ঘোষণা করেন। ১০ হাজার ৬৬৮ বর্গ কিলোমিটারের এই বিভাগে জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ। ঘোষণার পর বিভাগীয় শহর স্থাপনের জন্য ময়মনসিংহ শহর থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপারে বিভাগীয় সদর দপ্তর নির্মাণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। দুইপাড়কে সংযুক্ত করতে ব্রীজ,আবাসিক এলাকা, সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাঁধ, জাদুঘর, নভোথিয়েটার, কৃত্রিম জলাশয়, আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র, মানসম্মত হোটেল। নানা জটিলতায় যা এখনও দৃশ্যমান নয়। এদিকে দিনে দিনে নগরীতে বাড়ছে মানুষের চাপ। নগরীতে সরু সড়কের ভিতর দিয়ে চলাচল রিতিমতো জীবন যুদ্ধ। যানজটে নাকাল নগরবাসী। নগরীর ভেতর দিয়ে ট্রেন চলাচল করায় ক্রসিং জটে দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে নগর জীবন। বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, ভূমি অধিগ্রহনের কাজ অচিরেই শুরু হবে। অধিগ্রহন শেষেই অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু হবে। তবে বর্তমান সরকারের এ মেয়াদে অধিগ্রহন শেষ হবে না। আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে শেষ হবে।

রাজনৈতিক সচেতন মহল মনে করেন শেষতক দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে সব দলের অংশগ্রহনে। সে হিসাবে ময়মনসিংহ সদর-৪ আসনের ভোটযুদ্ধে বিএনপির বিপরীতে এবার আওয়ামী লীগ না হলে সিট যেতে পারে বিএনপির ঘরে। জাতীয় পার্টি ২০১৮ সালের নির্বাচন ফরমেটে না পেলে জামানাত হারাবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবু ওহাব আকন্দ ১ লাখ ৩ হাজার ৭৫৩ ভোট পেয়েছিলেন। ওইবার মোট ভোট ছিলো ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৯৯৬ ভোট। কথিত আছে ময়মনসিংহ সদর আসনে চরাঞ্চলের ভোট নির্ধারন করে সংসদ কার। ভোটের অংকে সদর আসনের বিজয়ে চরাঞ্চল ফ্যাক্টর। আর চরাঞ্চলকে আওয়ামী লীগের দূর্গ করে গেছেন ভূমিপুত্র প্রয়াত অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।

Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ খবর



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

২২ সি কে ঘোষ রোড, ময়মনসিংহ
বার্তা কক্ষ : ০১৭৩৬ ৫১৪ ৮৭২
ইমেইল : dailyjonomot@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার দৈনিক জনমত .কম

কারিগরি সহযোগিতায় BDiTZone.com