সকাল ৯:১৯ | সোমবার | ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

মোশতাকের সরকার যে সাংবিধানিক ছিলো না নিজের ভাষণেই উল্লেখ করেছিলেন তিনি

পনেরই আগস্টের অভ্যুথানের মধ্যদিয়ে যে সরকার গঠিত হয়েছিল তা যে সাংবিধানিকভাবে বৈধ ছিলো না। সরকার প্রধান হিসেবে খন্দকার মোশতাক আহমদও তার প্রথম ভাষণে তা উল্লেখ করেছিলেন।
অবশ্য পরবর্তি সময়ে হাইকোর্টের একটি রায়েও মোশতাকসহ আরো কয়েকজনকে অবৈধ ক্ষমতা দখলকারি হিসেবে রায় দেয়া হয়েছে।
পনেরই আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর প্রেসিডেন্ট হিসেবে অধিষ্ঠিত হন খন্দকার মোশতাক আহমদ। সামরিক আইনের জবর দখলকারী স্বত্বের জোরে, সরকার ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে জাতির উদ্দেশ্যে রেডিও ও টেলিভিশনে তিনি এদিন এক ভাষণ দেন।
১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট দৈনিক ইত্তেফাকে এ সংক্রান্ত সংবাদ ছাপা হয় । ভাষণে মোশতাক এক ঐতিহাসিক প্রয়োজনে এবং বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের সঠিক ও সত্যিকারের আকাঙ্খাকে বাস্তবে রুপদানের পূতপবিত্র কর্তব্য সামগ্রিক ও সমষ্টিগতভাবে সম্পাদনের জন্য করুণাময়ের দোয়ার ওপর ভরসা করে রাষ্ট্রপতি হিসেবে সরকারের দাযিত্ব তার ওপর অর্পিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
তবে তিনি বলেন, দেশের শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন সর্ব মহলের কাম্য হওয়া সত্ত্বেও বিধান অনুযায়ী তা সম্ভব না হওয়ায় সরকার পরিবর্তনের জন্য সামরিক বাহিনীকে এগিয়ে আসতে হয়েছে ।
মোশতাকের এই ভাষণে অবশ্য আরো একটি দাবি করা হয়েছে সেনাবাহিনীও এই পরিবর্তনের জন্য কাজ করেছে এবং সরকারের (তার) প্রতি অকুন্ঠ আনুগত্য ও আস্থা প্রকাশ করেছেন। তবে সেনাবাহিনীর পুরো অংশ এই ষড়যন্ত্র এবং অভ্যুথানের সাথে জড়িত ছিলো তা কিন্তু খোদ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়নি। আওয়ামী লীগ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল মনে করে, সেনাবাহিনীর বিপদগামী একটি অংশ এ হত্যাকান্ডে অংশগ্রহণ করেছিল।
১৯৮০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গবন্ধুসহ চার নেতা হত্যার তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছিল লন্ডনে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুই কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা, মনসুর আলীর পুত্র মোহাম্মদ সেলিম এবং সৈয়দ নজরুল ইসলামের পুত্র সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের আবেদনক্রমে স্যার থমাস উইলিয়ামস কিউ. সি. এমপি’র নেতৃত্বে এই কমিশন গঠন করা হয়।
পরবর্তি সময়ে কমিশন বিভিন্ন প্রমাণ সম্বলিত দলিলপত্রাদি পরীক্ষা করে এই সিদ্ধান্তে উপণীত হন যে, এ হত্যাকান্ডগুলো অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত কতিপয় সামরিক অফিসারের নেতৃত্বে সামরিক বাহিনীর স্বল্পসংখ্যক ব্যক্তির দ্বারা সংগঠিত হয়।
অন্যদিকে বিধান অনুযায়ী পরিবর্তন সম্ভব না হওয়ার কথা বলে নিজেই নিজের সরকারকে অবৈধতার সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন মোশতাক। মোশতাক ক্ষমতায় ছিলেন মাত্র ৮২ দিন। এরই মধ্যে দেশকে পাকিস্তানীকরণের দিকে এগিয়ে নেয়া ছাড়া তার সবচেয়ে বড় দুটি কীর্তি হলো জেলে জাতীয় চার নেতাকে খুন এবং ১৫ আগস্টের খুনীদের বিচার করা যাবে না- দায়মুক্তির অধ্যাদেশ জারি করা। পঁচাত্তরের ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি এই অধ্যাদেশ জারি করেন। আর জেলে নির্মম হত্যাকান্ড ঘটান ৩ নভেম্বর ভোর রাতে।
গোলাম মুরশিদ তার ‘মুক্তিযুদ্ধ ও তারপর’ গ্রন্থে লিখেছেন মোশতাক জেলহত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন কেবল ফারুক আর রশিদকে নিয়ে। তিনি ঠিক করেছিলেন যে, যে কোন পাল্টা অভ্যুথান হলে কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক তাজউদ্দিন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মনসুর আলী এবং কামারুজ্জামানকে হত্যা করা হবে। যাতে নতুন সরকার গঠিত হলেও এই নেতারা তাতে নেতৃত্ব দিতে না পারেন।
মোশতাক রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে যেতে বাধ্য হন ৬ নভেম্বর। রাষ্ট্রপতি হিসেবে ক্ষমতা লাভ করেন বিচারপতি আবু সাদত সায়েম। তবে মোশতাক অথবা সায়েমের অধীনে যে সরকার ছিল, তা আদৌ বৈধ ছিলো না। এরা দুজনেই ক্ষমতায় বসেছিলেন সম্পূর্ণ বেআইনি পথে। আর এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তি সময়ে জিয়াউর রহমান এবং এরশাদ ক্ষমতায় আসলেও সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী বাতিল করে ২০১০ সালে হাইকোর্টের একটি রায়ে খন্দকার মোশতাক আহমেদ , আবু সা‘দাত মোহাম্মদ সায়েম ও জিয়াউর রহমান এবং হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে অবৈধ ক্ষমতা দখলকারি হিসাবে রায় দেয়া হয়।

Print Friendly, PDF & Email

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» যোগ্য জায়গায় যোগ্য ব্যক্তিকে না বসালে ক্ষতি হয় নিজের-মোহিত উর রহমান শান্ত

» দুর্ধর্ষ ট্রেন ডাকাত চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১৪

» তিন নির্দেশনায় ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা সম্পন্ন

» দুঃসময়ের ত্যাগী নেতৃত্বের হাতেই থাকবে আগামী আওয়ামী লীগ- ময়মনসিংহে বাহাউদ্দিন নাছিম

» শেখ রেহেনার জন্মদিনে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা যুবলীগের উদ্যোগে মিলাদ ও দোয়া

» বাহাউদ্দিন নাসিম এর আগমন উপলক্ষে  ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত

» কথা ক্লিয়ার-শিক্ষিত,ক্লিন ইমেজ যুবকদের জন্য অবারিত যুবলীগ- কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খসরু

» ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে

» ময়মনসিংহ মহানগরী জু্ড়ে শোক আয়োজনে মোহিত উর রহমান শান্ত

» শোক দিবসে যুবলীগনেতা সব্যসাচীর উদ্যেগে অসহায়দের মাঝে বস্ত্র বিতরণ ও গণভোজ

» ১৫ আগস্ট পালন উপলক্ষে ময়মনসিংহ মহানগর সাধারণ সম্পাদকের মতবিনিময় সভা

» ময়মনসিংহে মহানগর যুবলীগের উদ্যোগে মাসব্যাপী রেশনিং সিস্টেমে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

» শর্ত সাপেক্ষে খুলে দেয়া হয়েছে জেলা স্কুল মোড়ের সেই ত্রুটিপূর্ণ ১৪ তলা ভবন

» সংসার ফিরে পেতে চায় ময়মনসিংহের ডাক্তার জান্নাতুল   

» নগর জুড়ে ময়মনসিংহ মহানগর সাধারণ সম্পাদকের ইফতার বিতরণ

আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

২২ সি কে ঘোষ রোড, ময়মনসিংহ
বার্তা কক্ষ : ০১৭৩৬ ৫১৪ ৮৭২
ইমেইল : dailyjonomot@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার দৈনিক জনমত .কম

কারিগরি সহযোগিতায় BDiTZone.com

,

basic-bank

মোশতাকের সরকার যে সাংবিধানিক ছিলো না নিজের ভাষণেই উল্লেখ করেছিলেন তিনি

পনেরই আগস্টের অভ্যুথানের মধ্যদিয়ে যে সরকার গঠিত হয়েছিল তা যে সাংবিধানিকভাবে বৈধ ছিলো না। সরকার প্রধান হিসেবে খন্দকার মোশতাক আহমদও তার প্রথম ভাষণে তা উল্লেখ করেছিলেন।
অবশ্য পরবর্তি সময়ে হাইকোর্টের একটি রায়েও মোশতাকসহ আরো কয়েকজনকে অবৈধ ক্ষমতা দখলকারি হিসেবে রায় দেয়া হয়েছে।
পনেরই আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর প্রেসিডেন্ট হিসেবে অধিষ্ঠিত হন খন্দকার মোশতাক আহমদ। সামরিক আইনের জবর দখলকারী স্বত্বের জোরে, সরকার ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে জাতির উদ্দেশ্যে রেডিও ও টেলিভিশনে তিনি এদিন এক ভাষণ দেন।
১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট দৈনিক ইত্তেফাকে এ সংক্রান্ত সংবাদ ছাপা হয় । ভাষণে মোশতাক এক ঐতিহাসিক প্রয়োজনে এবং বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের সঠিক ও সত্যিকারের আকাঙ্খাকে বাস্তবে রুপদানের পূতপবিত্র কর্তব্য সামগ্রিক ও সমষ্টিগতভাবে সম্পাদনের জন্য করুণাময়ের দোয়ার ওপর ভরসা করে রাষ্ট্রপতি হিসেবে সরকারের দাযিত্ব তার ওপর অর্পিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
তবে তিনি বলেন, দেশের শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন সর্ব মহলের কাম্য হওয়া সত্ত্বেও বিধান অনুযায়ী তা সম্ভব না হওয়ায় সরকার পরিবর্তনের জন্য সামরিক বাহিনীকে এগিয়ে আসতে হয়েছে ।
মোশতাকের এই ভাষণে অবশ্য আরো একটি দাবি করা হয়েছে সেনাবাহিনীও এই পরিবর্তনের জন্য কাজ করেছে এবং সরকারের (তার) প্রতি অকুন্ঠ আনুগত্য ও আস্থা প্রকাশ করেছেন। তবে সেনাবাহিনীর পুরো অংশ এই ষড়যন্ত্র এবং অভ্যুথানের সাথে জড়িত ছিলো তা কিন্তু খোদ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়নি। আওয়ামী লীগ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল মনে করে, সেনাবাহিনীর বিপদগামী একটি অংশ এ হত্যাকান্ডে অংশগ্রহণ করেছিল।
১৯৮০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গবন্ধুসহ চার নেতা হত্যার তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছিল লন্ডনে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুই কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা, মনসুর আলীর পুত্র মোহাম্মদ সেলিম এবং সৈয়দ নজরুল ইসলামের পুত্র সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের আবেদনক্রমে স্যার থমাস উইলিয়ামস কিউ. সি. এমপি’র নেতৃত্বে এই কমিশন গঠন করা হয়।
পরবর্তি সময়ে কমিশন বিভিন্ন প্রমাণ সম্বলিত দলিলপত্রাদি পরীক্ষা করে এই সিদ্ধান্তে উপণীত হন যে, এ হত্যাকান্ডগুলো অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত কতিপয় সামরিক অফিসারের নেতৃত্বে সামরিক বাহিনীর স্বল্পসংখ্যক ব্যক্তির দ্বারা সংগঠিত হয়।
অন্যদিকে বিধান অনুযায়ী পরিবর্তন সম্ভব না হওয়ার কথা বলে নিজেই নিজের সরকারকে অবৈধতার সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন মোশতাক। মোশতাক ক্ষমতায় ছিলেন মাত্র ৮২ দিন। এরই মধ্যে দেশকে পাকিস্তানীকরণের দিকে এগিয়ে নেয়া ছাড়া তার সবচেয়ে বড় দুটি কীর্তি হলো জেলে জাতীয় চার নেতাকে খুন এবং ১৫ আগস্টের খুনীদের বিচার করা যাবে না- দায়মুক্তির অধ্যাদেশ জারি করা। পঁচাত্তরের ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি এই অধ্যাদেশ জারি করেন। আর জেলে নির্মম হত্যাকান্ড ঘটান ৩ নভেম্বর ভোর রাতে।
গোলাম মুরশিদ তার ‘মুক্তিযুদ্ধ ও তারপর’ গ্রন্থে লিখেছেন মোশতাক জেলহত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন কেবল ফারুক আর রশিদকে নিয়ে। তিনি ঠিক করেছিলেন যে, যে কোন পাল্টা অভ্যুথান হলে কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক তাজউদ্দিন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মনসুর আলী এবং কামারুজ্জামানকে হত্যা করা হবে। যাতে নতুন সরকার গঠিত হলেও এই নেতারা তাতে নেতৃত্ব দিতে না পারেন।
মোশতাক রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে যেতে বাধ্য হন ৬ নভেম্বর। রাষ্ট্রপতি হিসেবে ক্ষমতা লাভ করেন বিচারপতি আবু সাদত সায়েম। তবে মোশতাক অথবা সায়েমের অধীনে যে সরকার ছিল, তা আদৌ বৈধ ছিলো না। এরা দুজনেই ক্ষমতায় বসেছিলেন সম্পূর্ণ বেআইনি পথে। আর এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তি সময়ে জিয়াউর রহমান এবং এরশাদ ক্ষমতায় আসলেও সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী বাতিল করে ২০১০ সালে হাইকোর্টের একটি রায়ে খন্দকার মোশতাক আহমেদ , আবু সা‘দাত মোহাম্মদ সায়েম ও জিয়াউর রহমান এবং হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে অবৈধ ক্ষমতা দখলকারি হিসাবে রায় দেয়া হয়।

Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ খবর



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

২২ সি কে ঘোষ রোড, ময়মনসিংহ
বার্তা কক্ষ : ০১৭৩৬ ৫১৪ ৮৭২
ইমেইল : dailyjonomot@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার দৈনিক জনমত .কম

কারিগরি সহযোগিতায় BDiTZone.com