দুপুর ২:২৩ | বুধবার | ৩০শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহে এক শহীদ জননীর শেষ আকুতি প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষাৎ

বিল্লাল হোসেন প্রান্তঃ

১৯৭১ সাল। রক্তাক্ত বাংলাকে পাকিস্তানের হাত থেকে মুক্ত করতে নিজের টগবগে সন্তানকে এক মা যুদ্ধে পাঠিয়ে স্বপরিবারে নির্যাতনের শিকার হন। হানাদার বাহিনী নির্মম অত্যাচার চালিয়ে বাড়িঘরে আগুন জ্বালালেও তিনি ছিলেন অনড়। স্বাধীনতার ৪৯ বছর পর ১০৫ বছর বয়সে গত ২০ বছর ধরে তিনি একটি কামনায় বুক বেঁধে আছেন। একবার বঙ্গবন্ধু কণ্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সরাসরি দেখতে চান। দোয়া করতে চান। মনের কিছু আকুতি জানাতে চান। কথা বলতে চান।

 

 

ময়মনসিংহ মুক্তাগাছা উপজেলার ১০ নং খেরুয়াজানি বন্দগোয়ালিয়া গ্রামের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের ১০৫ বছর বয়সী জননী মোসাঃ হাজেরা খাতুন। জীবনের গোধূলি বেলায় একটি ইচ্ছা নিয়েই বুক বেঁধে আছেন। কবে পাবেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার স্বাক্ষাৎ। তার এই ইচ্ছার কথা মুক্তাগাছার অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকে তিনি গত ২০ বছর ধরে বলে আসছেন।

 

 

এমনকি ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষাতের অপেক্ষায় ২৫ দিন রাজধানীর ঢাকায় কাটিয়েছেন তিনি। মুক্তাগাছা মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য রাশিদা জানান, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের তৎকালিন এক নেতার সাথে কথা বলেন তিনি। তার আশ্বাসে ঢাকায় গিয়েও প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করার সুযোগ পাননি। আজও আশা ছাড়েননি শহীদ জননী হাজেরা খাতুন।

 

 

মুক্তাগাছার মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী রাশিদার কাছ থেকে কথায় কথায় বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারেন ময়মনসিংহ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেগম নুরুন্নাহার সেফালী। তিনি সাবেক ধর্মমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের স্ত্রী। সবকিছু শুনে বেগম নুরুন্নাহার অনেকটা আবেগ আপ্লুত হয়েই ছুটে যান মুক্তাগাছা বন্দগোয়ালিয়া গ্রামে। কথা বলেন শহীদ পরিবারটির সাথে। বয়োবৃদ্ধ হাজেরা খাতুনের হাতে তুলে দেন ফুলের তোড়া,কিছু টাকা,শাড়ি,শীতের কম্বল।

 

 

মুক্তাগাছা শহর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দুরে ছোট্ট একটি টিনের ঘরে বসবাস করেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের মা, ভাই ও তাদের পরিবার। বেগম নুরুন্নাহার কথা বলেন শহীদ নুরুল ইসলামের মা ও দুই ভাইয়ের সাথে। যুদ্ধকালীন সময়ে তাদের পরিবারের উপর পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত লোমহর্ষক নির্যাতনের বর্ননা করেন শহীদ নুরুলের ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম ও আব্দুল কুদ্দুস।

 

 

অশ্রুসিক্ত হাজেরা খাতুনের সবটুকু স্মৃতিচারণ জুড়েই ছিলো মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সন্তান নুরুলকে ঘিরে। যুদ্ধচলাকালীন সময়ে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানকে নিজের হাতে শেষবার খাওয়ানোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি ডুকরে কেঁদে উঠেন। নিজের অবুঝ দুই সন্তান,স্বামীর উপর পাকিস্তানি বাহীনির পাশবিক নির্যাতনের বর্ননা শুনে উপস্থিত সকলেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

 

 

শহীদ নুরুল ইসলাম কালিহাতি যুদ্ধে অংশ নেন। এরপর শেপুরের যুদ্ধরত অবস্থায় শহীদ হন। শেরপুর রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নে তাকে সমাহিত করা হয়। হাজেরা খাতুনের আকুতি শহীদ সন্তানের কবরটি চিহ্নিত করে বাধাই করা ও প্রধানমন্ত্রীর সাথে স্বাক্ষাৎ করা।

Print Friendly, PDF & Email

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» সোহরাওয়ার্দীর যুব সমুদ্রে ময়মনসিংহ যুবলীগ

» মেঘনা গ্রুপে ডাকাতি; ৮ ডাকাত গ্রেফতার, ৪ হাজার লিটার তেল উদ্ধার ; কোতোয়ালী পুলিশের সফল অভিযান

» ময়মনসিংহে নাশকতার দায়ে জামায়াতের ১৯ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালী পুলিশ

» বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট মেম্বার হলেন সাবেক ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান

» যুবলীগ চেয়ারম্যানের রোগমুক্তি কামনায় ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগের দোয়া মাহফিল

» দেশরত্ন শেখ হাসিনার জন্মদিনে এতিমদের মাঝে ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগের খাবার বিতরণ

» জিডি ও মামলায় ১২ ঘন্টার মধ্যে ঘটনাস্থলে পুলিশ- নবাগত এসপি মাছুম আহাম্মদের প্রতিশ্রুতি

» প্রিয়াংকাকে আহবায়ক করে ময়মনসিংহ মহানগর যুবমহিলা লীগের কমিটি ঘোষনা

» সুসংগঠিত সাংগঠনিক শক্তির বিকল্প নেই- ময়মনসিংহে শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল

» সাংগঠনিক ব্যাক্তিত্ব নির্বাচন করে নেতৃত্বে আনা হবে-ময়মনসিংহ মহানগর ওয়ার্ড সম্মেলনে বক্তারা

» শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে ময়মনসিংহ যুবলীগের বর্ণাঢ্য র‍্যালী

» নেত্রকোনায় কোটি টাকার জুয়ার আসর সেহরি করিয়ে বিদায়; পুলিশ ম্যানেজ!

» গৌরীপুরে সরকারি সম্পত্তির শত শত ট্রাক মাটি কেটে সাবাড় করছে আ’লীগ নেতার ছেলে !  

» ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মঞ্চ কাঁপালেন এলিজা

» শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে মমেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকসহ ১০ শিক্ষার্থী বহিস্কার

আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

২২ সি কে ঘোষ রোড, ময়মনসিংহ
বার্তা কক্ষ : ০১৭৩৬ ৫১৪ ৮৭২
ইমেইল : dailyjonomot@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার দৈনিক জনমত .কম

কারিগরি সহযোগিতায় BDiTZone.com

,

basic-bank

ময়মনসিংহে এক শহীদ জননীর শেষ আকুতি প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষাৎ

বিল্লাল হোসেন প্রান্তঃ

১৯৭১ সাল। রক্তাক্ত বাংলাকে পাকিস্তানের হাত থেকে মুক্ত করতে নিজের টগবগে সন্তানকে এক মা যুদ্ধে পাঠিয়ে স্বপরিবারে নির্যাতনের শিকার হন। হানাদার বাহিনী নির্মম অত্যাচার চালিয়ে বাড়িঘরে আগুন জ্বালালেও তিনি ছিলেন অনড়। স্বাধীনতার ৪৯ বছর পর ১০৫ বছর বয়সে গত ২০ বছর ধরে তিনি একটি কামনায় বুক বেঁধে আছেন। একবার বঙ্গবন্ধু কণ্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সরাসরি দেখতে চান। দোয়া করতে চান। মনের কিছু আকুতি জানাতে চান। কথা বলতে চান।

 

 

ময়মনসিংহ মুক্তাগাছা উপজেলার ১০ নং খেরুয়াজানি বন্দগোয়ালিয়া গ্রামের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের ১০৫ বছর বয়সী জননী মোসাঃ হাজেরা খাতুন। জীবনের গোধূলি বেলায় একটি ইচ্ছা নিয়েই বুক বেঁধে আছেন। কবে পাবেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার স্বাক্ষাৎ। তার এই ইচ্ছার কথা মুক্তাগাছার অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকে তিনি গত ২০ বছর ধরে বলে আসছেন।

 

 

এমনকি ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষাতের অপেক্ষায় ২৫ দিন রাজধানীর ঢাকায় কাটিয়েছেন তিনি। মুক্তাগাছা মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য রাশিদা জানান, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের তৎকালিন এক নেতার সাথে কথা বলেন তিনি। তার আশ্বাসে ঢাকায় গিয়েও প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করার সুযোগ পাননি। আজও আশা ছাড়েননি শহীদ জননী হাজেরা খাতুন।

 

 

মুক্তাগাছার মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী রাশিদার কাছ থেকে কথায় কথায় বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারেন ময়মনসিংহ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেগম নুরুন্নাহার সেফালী। তিনি সাবেক ধর্মমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের স্ত্রী। সবকিছু শুনে বেগম নুরুন্নাহার অনেকটা আবেগ আপ্লুত হয়েই ছুটে যান মুক্তাগাছা বন্দগোয়ালিয়া গ্রামে। কথা বলেন শহীদ পরিবারটির সাথে। বয়োবৃদ্ধ হাজেরা খাতুনের হাতে তুলে দেন ফুলের তোড়া,কিছু টাকা,শাড়ি,শীতের কম্বল।

 

 

মুক্তাগাছা শহর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দুরে ছোট্ট একটি টিনের ঘরে বসবাস করেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের মা, ভাই ও তাদের পরিবার। বেগম নুরুন্নাহার কথা বলেন শহীদ নুরুল ইসলামের মা ও দুই ভাইয়ের সাথে। যুদ্ধকালীন সময়ে তাদের পরিবারের উপর পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত লোমহর্ষক নির্যাতনের বর্ননা করেন শহীদ নুরুলের ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম ও আব্দুল কুদ্দুস।

 

 

অশ্রুসিক্ত হাজেরা খাতুনের সবটুকু স্মৃতিচারণ জুড়েই ছিলো মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সন্তান নুরুলকে ঘিরে। যুদ্ধচলাকালীন সময়ে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানকে নিজের হাতে শেষবার খাওয়ানোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি ডুকরে কেঁদে উঠেন। নিজের অবুঝ দুই সন্তান,স্বামীর উপর পাকিস্তানি বাহীনির পাশবিক নির্যাতনের বর্ননা শুনে উপস্থিত সকলেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

 

 

শহীদ নুরুল ইসলাম কালিহাতি যুদ্ধে অংশ নেন। এরপর শেপুরের যুদ্ধরত অবস্থায় শহীদ হন। শেরপুর রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নে তাকে সমাহিত করা হয়। হাজেরা খাতুনের আকুতি শহীদ সন্তানের কবরটি চিহ্নিত করে বাধাই করা ও প্রধানমন্ত্রীর সাথে স্বাক্ষাৎ করা।

Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ খবর



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

২২ সি কে ঘোষ রোড, ময়মনসিংহ
বার্তা কক্ষ : ০১৭৩৬ ৫১৪ ৮৭২
ইমেইল : dailyjonomot@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার দৈনিক জনমত .কম

কারিগরি সহযোগিতায় BDiTZone.com