রাত ২:১৭ | শুক্রবার | ৩১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহে এক শহীদ জননীর শেষ আকুতি প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষাৎ

বিল্লাল হোসেন প্রান্তঃ

১৯৭১ সাল। রক্তাক্ত বাংলাকে পাকিস্তানের হাত থেকে মুক্ত করতে নিজের টগবগে সন্তানকে এক মা যুদ্ধে পাঠিয়ে স্বপরিবারে নির্যাতনের শিকার হন। হানাদার বাহিনী নির্মম অত্যাচার চালিয়ে বাড়িঘরে আগুন জ্বালালেও তিনি ছিলেন অনড়। স্বাধীনতার ৪৯ বছর পর ১০৫ বছর বয়সে গত ২০ বছর ধরে তিনি একটি কামনায় বুক বেঁধে আছেন। একবার বঙ্গবন্ধু কণ্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সরাসরি দেখতে চান। দোয়া করতে চান। মনের কিছু আকুতি জানাতে চান। কথা বলতে চান।

 

 

ময়মনসিংহ মুক্তাগাছা উপজেলার ১০ নং খেরুয়াজানি বন্দগোয়ালিয়া গ্রামের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের ১০৫ বছর বয়সী জননী মোসাঃ হাজেরা খাতুন। জীবনের গোধূলি বেলায় একটি ইচ্ছা নিয়েই বুক বেঁধে আছেন। কবে পাবেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার স্বাক্ষাৎ। তার এই ইচ্ছার কথা মুক্তাগাছার অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকে তিনি গত ২০ বছর ধরে বলে আসছেন।

 

 

এমনকি ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষাতের অপেক্ষায় ২৫ দিন রাজধানীর ঢাকায় কাটিয়েছেন তিনি। মুক্তাগাছা মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য রাশিদা জানান, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের তৎকালিন এক নেতার সাথে কথা বলেন তিনি। তার আশ্বাসে ঢাকায় গিয়েও প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করার সুযোগ পাননি। আজও আশা ছাড়েননি শহীদ জননী হাজেরা খাতুন।

 

 

মুক্তাগাছার মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী রাশিদার কাছ থেকে কথায় কথায় বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারেন ময়মনসিংহ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেগম নুরুন্নাহার সেফালী। তিনি সাবেক ধর্মমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের স্ত্রী। সবকিছু শুনে বেগম নুরুন্নাহার অনেকটা আবেগ আপ্লুত হয়েই ছুটে যান মুক্তাগাছা বন্দগোয়ালিয়া গ্রামে। কথা বলেন শহীদ পরিবারটির সাথে। বয়োবৃদ্ধ হাজেরা খাতুনের হাতে তুলে দেন ফুলের তোড়া,কিছু টাকা,শাড়ি,শীতের কম্বল।

 

 

মুক্তাগাছা শহর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দুরে ছোট্ট একটি টিনের ঘরে বসবাস করেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের মা, ভাই ও তাদের পরিবার। বেগম নুরুন্নাহার কথা বলেন শহীদ নুরুল ইসলামের মা ও দুই ভাইয়ের সাথে। যুদ্ধকালীন সময়ে তাদের পরিবারের উপর পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত লোমহর্ষক নির্যাতনের বর্ননা করেন শহীদ নুরুলের ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম ও আব্দুল কুদ্দুস।

 

 

অশ্রুসিক্ত হাজেরা খাতুনের সবটুকু স্মৃতিচারণ জুড়েই ছিলো মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সন্তান নুরুলকে ঘিরে। যুদ্ধচলাকালীন সময়ে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানকে নিজের হাতে শেষবার খাওয়ানোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি ডুকরে কেঁদে উঠেন। নিজের অবুঝ দুই সন্তান,স্বামীর উপর পাকিস্তানি বাহীনির পাশবিক নির্যাতনের বর্ননা শুনে উপস্থিত সকলেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

 

 

শহীদ নুরুল ইসলাম কালিহাতি যুদ্ধে অংশ নেন। এরপর শেপুরের যুদ্ধরত অবস্থায় শহীদ হন। শেরপুর রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নে তাকে সমাহিত করা হয়। হাজেরা খাতুনের আকুতি শহীদ সন্তানের কবরটি চিহ্নিত করে বাধাই করা ও প্রধানমন্ত্রীর সাথে স্বাক্ষাৎ করা।

Print Friendly, PDF & Email

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» নাসিরাবাদ কলেজ গর্ভনিং বডির কমিটি বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ

» দ্বিতীয় দফায় এমপি মোহিত উর রহমানের ফ্রি চক্ষু সেবা

» প্রয়াত মতিউর রহমানের স্নেহধন্য আবু সাঈদ জনতার ভালোবাসা

» অস্ত্র মামলায় কাউন্সিলর নোমানের ১০ বছর কারাদণ্ড

» আমি বাংলাদেশের সবচাইতে অজনপ্রিয় সাংসদ হবো- মোহিত উর রহমান শান্ত

» ময়মনসিংহ ডিবির অভিযানে ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

» তাপদাহ প্রশমনে ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগের উদ্যোগে পানি-জুস-সেলাইন বিতরণ

» এমপি মোহিত উর রহমানের সহায়তায় ১১০ জনের চোখের ছানি অপারেশন সম্পন্ন

» উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আশরাফ-সাঈদ প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস, ১৪ জন বৈধ ঘোষিত

» আগামীকাল ময়মনসিংহ মেতে উঠবে স্বাধীনতা কনসার্টে

» ভাষা শহীদদের প্রতি সংসদ সদস্য মোহিত উর রহমান শান্তর শ্রদ্ধাঞ্জলী

» ১৪৭ বেকার তরুণ তরুণীকে চাকুরির প্রস্তুতি কর্মশালা করালেন এমপি মোহিত উর রহমান শান্ত

» হালুয়াঘাট-ধোবাউড়ায় ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি ; কৃষি সেচে গুরুত্ব এমপির

» ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আবু সাঈদ

» সংবর্ধনা বাতিল করে শীতার্তদের মাঝে এমপি মোহিত উর রহমানের কম্বল বিতরণ

আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

২২ সি কে ঘোষ রোড, ময়মনসিংহ
বার্তা কক্ষ : ০১৭৩৬ ৫১৪ ৮৭২
ইমেইল : dailyjonomot@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার দৈনিক জনমত .কম

কারিগরি সহযোগিতায় BDiTZone.com

,

basic-bank

ময়মনসিংহে এক শহীদ জননীর শেষ আকুতি প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষাৎ

বিল্লাল হোসেন প্রান্তঃ

১৯৭১ সাল। রক্তাক্ত বাংলাকে পাকিস্তানের হাত থেকে মুক্ত করতে নিজের টগবগে সন্তানকে এক মা যুদ্ধে পাঠিয়ে স্বপরিবারে নির্যাতনের শিকার হন। হানাদার বাহিনী নির্মম অত্যাচার চালিয়ে বাড়িঘরে আগুন জ্বালালেও তিনি ছিলেন অনড়। স্বাধীনতার ৪৯ বছর পর ১০৫ বছর বয়সে গত ২০ বছর ধরে তিনি একটি কামনায় বুক বেঁধে আছেন। একবার বঙ্গবন্ধু কণ্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সরাসরি দেখতে চান। দোয়া করতে চান। মনের কিছু আকুতি জানাতে চান। কথা বলতে চান।

 

 

ময়মনসিংহ মুক্তাগাছা উপজেলার ১০ নং খেরুয়াজানি বন্দগোয়ালিয়া গ্রামের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের ১০৫ বছর বয়সী জননী মোসাঃ হাজেরা খাতুন। জীবনের গোধূলি বেলায় একটি ইচ্ছা নিয়েই বুক বেঁধে আছেন। কবে পাবেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার স্বাক্ষাৎ। তার এই ইচ্ছার কথা মুক্তাগাছার অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকে তিনি গত ২০ বছর ধরে বলে আসছেন।

 

 

এমনকি ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষাতের অপেক্ষায় ২৫ দিন রাজধানীর ঢাকায় কাটিয়েছেন তিনি। মুক্তাগাছা মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য রাশিদা জানান, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের তৎকালিন এক নেতার সাথে কথা বলেন তিনি। তার আশ্বাসে ঢাকায় গিয়েও প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করার সুযোগ পাননি। আজও আশা ছাড়েননি শহীদ জননী হাজেরা খাতুন।

 

 

মুক্তাগাছার মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী রাশিদার কাছ থেকে কথায় কথায় বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারেন ময়মনসিংহ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেগম নুরুন্নাহার সেফালী। তিনি সাবেক ধর্মমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের স্ত্রী। সবকিছু শুনে বেগম নুরুন্নাহার অনেকটা আবেগ আপ্লুত হয়েই ছুটে যান মুক্তাগাছা বন্দগোয়ালিয়া গ্রামে। কথা বলেন শহীদ পরিবারটির সাথে। বয়োবৃদ্ধ হাজেরা খাতুনের হাতে তুলে দেন ফুলের তোড়া,কিছু টাকা,শাড়ি,শীতের কম্বল।

 

 

মুক্তাগাছা শহর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দুরে ছোট্ট একটি টিনের ঘরে বসবাস করেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের মা, ভাই ও তাদের পরিবার। বেগম নুরুন্নাহার কথা বলেন শহীদ নুরুল ইসলামের মা ও দুই ভাইয়ের সাথে। যুদ্ধকালীন সময়ে তাদের পরিবারের উপর পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত লোমহর্ষক নির্যাতনের বর্ননা করেন শহীদ নুরুলের ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম ও আব্দুল কুদ্দুস।

 

 

অশ্রুসিক্ত হাজেরা খাতুনের সবটুকু স্মৃতিচারণ জুড়েই ছিলো মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সন্তান নুরুলকে ঘিরে। যুদ্ধচলাকালীন সময়ে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানকে নিজের হাতে শেষবার খাওয়ানোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি ডুকরে কেঁদে উঠেন। নিজের অবুঝ দুই সন্তান,স্বামীর উপর পাকিস্তানি বাহীনির পাশবিক নির্যাতনের বর্ননা শুনে উপস্থিত সকলেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

 

 

শহীদ নুরুল ইসলাম কালিহাতি যুদ্ধে অংশ নেন। এরপর শেপুরের যুদ্ধরত অবস্থায় শহীদ হন। শেরপুর রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নে তাকে সমাহিত করা হয়। হাজেরা খাতুনের আকুতি শহীদ সন্তানের কবরটি চিহ্নিত করে বাধাই করা ও প্রধানমন্ত্রীর সাথে স্বাক্ষাৎ করা।

Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ খবর



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

২২ সি কে ঘোষ রোড, ময়মনসিংহ
বার্তা কক্ষ : ০১৭৩৬ ৫১৪ ৮৭২
ইমেইল : dailyjonomot@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার দৈনিক জনমত .কম

কারিগরি সহযোগিতায় BDiTZone.com