বিকাল ৪:১৬ | রবিবার | ২রা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সাম্প্রদায়িকতা রুখবে সংস্কৃতি

বিল্লাল হোসেন প্রান্তঃ

একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক এ যুগে বেশিরভাগ কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতী যখন আত্মকেন্দ্রীক স্বপ্নে বিভোর। ঠিক সে সময় ঔপনিবেশিক আমলে রচিত সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প যা বর্তমান বিশ্বে বিষফোড়া তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে তৈরি হচ্ছে কিছু সাহসী সন্তান। প্রজন্ম নামের সংগঠন করে ইয়াং বাংলা প্লাটফর্ম থেকে জয় বাংলা এওয়ার্ড অর্জন করে অর্ণব দত্তের সংগঠন। এবার সেই সাহসী কিশোর -কিশোরীরা তৈরি হচ্ছে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে প্রজন্মকে গড়ে উঠতে।

 

 

শুক্রবার ৪ মার্চ ময়মনসিংহ ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে জয়নুল আবেদীন শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে “সাম্প্রদায়িককতা রুখবে সংস্কৃতি” শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে প্রজন্ম সংগঠন।

 

 

ইসরাক নূর, রাবিতা ইসলাম রিশাত, অর্ণব দাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল পাল, কবি ফরিদ আহম্মেদ দুলাল, জেলা আওয়ামী লীগ যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রেজাউল হাসান বাবু, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব আলী ইউসুফ, বহুরুপী নাট্যসংস্থার সাধারণ সম্পাদক শাহাদত হোসেন খান,জাতীয় রাবীন্দ্র সংগীত সম্মেলন পরিষদ ময়মনসিংহ সাধারণ সম্পাদক মামুনুল ইসলাম রনি,বিশ্ব সাহিত্যকেন্দ্রের জেলা প্রতিনিধি রবিউল ইসলাম, সভাপতি প্রজন্ম সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি  অর্ণব দত্ত প্রমুখ।

 

 

১৯৭১ সালে তেলিখালি যুদ্ধে অসাম্প্রদায়িকতার এক বাস্তব স্মৃতিচারণ দিয়ে নিজে বক্তব্য শুরু করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল পাল। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে মৃত্যু বরণকারী এক যোদ্ধার জানাজা অনুষ্ঠানে একজন হুজুর যুদ্ধে নিহতদের নাম বলে তাদের বেহেশত কামনায় দোয়া করছেন। সে সময় তিনি একজন হিন্দু মুক্তিযোদ্ধার নামও বললেন সকল নিহতের সাথে তার জন্যও বেহেশত কামনা করলেন। সেই একাত্তরেই আমি অসাম্প্রদায়িকতা দেখেছি। সাম্প্রাদায়িকতার ট্রেনটি আজ ইচ্ছেমত সচল ও স্থিতিশীল করে দেয়া হয়। তিনি গর্ববোধ করে বলেন প্রজন্মের কিছু সন্তান আজ জীবনের শুরুতেই সেই দোলাচল থেকে বেরিয়ে আসতে সোচ্চার হচ্ছে। যা রাষ্ট্রীয়ভাবে, সামাজিকভাবে গড়ে উঠা জরুরি।

 

 

অনুষ্ঠানের আলোচ্য বিষয়কে উল্টে – সংস্কৃতি রুখবে সাম্প্রদায়িকতা এমনটি হবে দাবি করে কবি ফরিদ আহম্মেদ দুলাল বলেন, সাম্প্রদায়িকতা যারা চাষ করেন তারা ব্যবসায়ীক ধান্ধা নিয়ে তা করেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর কিছু কুৎসা রটনা করা হয়েছিলো। সে সময়ও এর পেছনে ব্যবসার উদ্দেশ্য ছিলো। সংস্কৃতি হচ্ছে প্রবাহমান স্রোত। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর অপসংস্কৃতির মাধ্যমে সাম্প্রদায়িকতাকে লালন করা শুরু হয়েছে।

 

 

তিনি বলেন, মানুষের স্বাধীনতা ধর্মের ভিত্তিতে নয়, ভাষার ভিত্তিতে। ব্রিটিশ শাসনামলের বিদায় লগ্নে যে ভাগ হয় তা দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন হয়নি। তার প্রমান পাকিস্তান থেকে ৭১ এ বাংলাদেশ স্বাধীনতা। ধর্মের স্বাধীনতা নয় ভাষার স্বাধীনতাই স্বাধীনতা। জাতির পিতাকে সম্মান দেখাতে হবে। বঙ্গবন্ধু কন্যাকেও সম্মান দেখাতে হবে উন্নয়নের জন্য। কারণ শেখ হাসিনা পদ্মাসেতু করে দেখিয়ে দিয়েছেন সাহসের সাথে। তাই প্রজন্মকে দেশের জন্য, ভাষার জন্য সাহসের সাথে উন্নয়নের সাথে দেশের সাথে থাকতে হবে।

 

 

জেলা আওয়ামী লীগ যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রেজাউল ইসলাম বাবু বলেন, আমরা যারা ৭০ এর দশকের প্রজন্ম তারা সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প দেখেছি ৭৫ এ জাতির পিতাকে হত্যার পর। ধর্মগুরুদের কাছ থেকেই কিছু কিছু কথাবার্তার মাধ্যমে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়েছে। আর সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কাজ করতে সংস্কৃতি আমাদের সাহস জোগিয়েছে। জাতির পিতার কন্যা পিতার মতো করেই সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছেন। আমি আশা করি এ প্রজন্ম নেত্রীর পাশে থাকবে সাম্প্রদায়িকতাকে রুখতে।

 

 

বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব আলী ইউসুফ বলেন, সংস্কৃতির মাধ্যমে সাম্প্রদায়িকতাকে রুখতে হলে রাষ্ট্রকে সংস্কৃতি লালন করতে হবে। এবং প্রতিটি ধর্মের মানুষকে প্রতিটি ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে। মনেপ্রানে আমরা সংস্কৃতিবান হতে পারলে সাম্প্রদায়িকতা রুখে দেয়া সম্ভব।

 

 

বহুরুপী নাট্যসংস্থার সাধারণ সম্পাদক শাহাদত হোসেন খান বলেন, আমাদের মধ্যে মাঝে মাঝে যে সাম্প্রদায়িকতা জেগে ওঠে তা সংস্কৃতি দিয়েই রোধ করা যাবে। পৃথিবীতে কোন ধর্মই মানুষ মানুষকে হত্যা করা, নির্যাতন করার কথা বলেনি। আমরা সেটি মানিনা কিন্তু কুমন্ত্রণায় একজন আরেকজনের বিরুদ্ধাচারণ করি। আমরা জন্মগতভাবে ধর্ম পালন করি। পরে শিক্ষা গ্রহনের মাধ্যমে তা সম্পর্কে জানতে পারি। যারা ধর্মান্ধ, যারা সাম্প্রদায়িকতা লালন করে, তাদের চিহ্নিত করতে হবে। এটি এ প্রজন্মকেই করতে হবে।

 

 

জাতীয় রাবীন্দ্র সংগীত সম্মেলন পরিষদ ময়মনসিংহ সাধারণ সম্পাদক মামুনুল ইসলাম রনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে সাম্প্রদায়িক অসাম্প্রদায়িক বলতে আমরা দেখি ভারত পাকিস্তান। ৪৭ এর পর ৭১ মানে বাংলাদেশ। অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাহক। এরও আগে ইংরেজ শাসনামল। সাম্প্রদায়িকতার সৃষ্টি, পেছনের ইন্ধন ও ফলশ্রুতি নিয়ে তিনি কথা বলেন। অসাম্প্রদায়িকতার প্রধান শক্তি সংস্কৃতি সেটি তিনি তার বক্তব্যে তুলে ধরেন।

 

 

বিশ্ব সাহিত্যকেন্দ্রের জেলা প্রতিনিধি রবিউল ইসলাম বলেন, আজকের আলোচ্য বিষয় নিয়ে আমাদের সিনিয়ার সিটিজেন ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আলোচনা হওয়ার মতো। প্রজন্ম নামের সংগঠনটির ছোট ছোট ভাই বোনরা যারা এ আয়োজন করেছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা। আজকের প্রজন্ম যা ভাববে আগামীর বাংলাদেশ তাই হয়ে উঠবে।

 

 

অর্ণব দত্ত সভাপতি প্রজন্ম বলেন, আমি বিশ্বাস করি সবার আগে আমি একজন মানুষ, এরপর আমার দেশ এরপর ধর্ম। আমাদের দেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান। উনার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাটা তিনি হিন্দু বা মুসলমান বলে নয়, শ্রদ্ধাটা তিনি আমাদের স্বাধীনতার পথ পদর্শক।

 

 

আমরা প্রজন্ম সংগঠন মাত্র দুই বছর কাজ করে জয় বাংলা প্লাটফর্ম থেকে এওয়ার্ড পেয়েছি। আজ সারা দেশে প্রজন্ম সংগঠন প্রসারিত হয়েছে। তারা আমাদের কাছে খবর নেয়। আমরা ময়মনসিংহ থেকে এর প্রতিনিধিত্ব করছি। এটা ময়মনসিংহবাসীর গর্ব।

 

 

অনুষ্ঠানে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান জানান দিতে কাজী নজরুল ইসলামের “সাম্যবাদী” কবিতা আবৃত্তি করেন সিরাজুম মনিরা নিঝুম,
জিন্নতুল ইসলাম প্রত্যাশা আবৃত্তি করেন, তারিক সুজাতের, “জন্মের আগেই আমি মৃত্যুকে করেছি আলিঙ্গন”।  কবিতা আবৃত্তি করেন অর্ণব দাস, গান করেন, ঈশান দে, রাউফুন নূর আপন, সৃজিতা বশাক টুইংকেল, সাদজান সাকিব অর্ণব, সুস্মিতা তালুকদার, স্নেহা পাল,

Print Friendly, PDF & Email

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» যুবলীগ চেয়ারম্যানের রোগমুক্তি কামনায় ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগের দোয়া মাহফিল

» দেশরত্ন শেখ হাসিনার জন্মদিনে এতিমদের মাঝে ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগের খাবার বিতরণ

» জিডি ও মামলায় ১২ ঘন্টার মধ্যে ঘটনাস্থলে পুলিশ- নবাগত এসপি মাছুম আহাম্মদের প্রতিশ্রুতি

» প্রিয়াংকাকে আহবায়ক করে ময়মনসিংহ মহানগর যুবমহিলা লীগের কমিটি ঘোষনা

» সুসংগঠিত সাংগঠনিক শক্তির বিকল্প নেই- ময়মনসিংহে শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল

» সাংগঠনিক ব্যাক্তিত্ব নির্বাচন করে নেতৃত্বে আনা হবে-ময়মনসিংহ মহানগর ওয়ার্ড সম্মেলনে বক্তারা

» শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে ময়মনসিংহ যুবলীগের বর্ণাঢ্য র‍্যালী

» নেত্রকোনায় কোটি টাকার জুয়ার আসর সেহরি করিয়ে বিদায়; পুলিশ ম্যানেজ!

» গৌরীপুরে সরকারি সম্পত্তির শত শত ট্রাক মাটি কেটে সাবাড় করছে আ’লীগ নেতার ছেলে !  

» ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মঞ্চ কাঁপালেন এলিজা

» শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে মমেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকসহ ১০ শিক্ষার্থী বহিস্কার

» ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগের প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ

» সাম্প্রদায়িকতা রুখবে সংস্কৃতি

» যুবলীগকে মাঠে নামতে বাধ্য করবেন না- বিএনপিকে এড.আজহারুল ইসলামের হুশিয়ারী

» মতিউর রহমানকে “একুশে পদক” প্রদান করায় শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে আনন্দের বণ্যা

আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

২২ সি কে ঘোষ রোড, ময়মনসিংহ
বার্তা কক্ষ : ০১৭৩৬ ৫১৪ ৮৭২
ইমেইল : dailyjonomot@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার দৈনিক জনমত .কম

কারিগরি সহযোগিতায় BDiTZone.com

,

basic-bank

সাম্প্রদায়িকতা রুখবে সংস্কৃতি

বিল্লাল হোসেন প্রান্তঃ

একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক এ যুগে বেশিরভাগ কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতী যখন আত্মকেন্দ্রীক স্বপ্নে বিভোর। ঠিক সে সময় ঔপনিবেশিক আমলে রচিত সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প যা বর্তমান বিশ্বে বিষফোড়া তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে তৈরি হচ্ছে কিছু সাহসী সন্তান। প্রজন্ম নামের সংগঠন করে ইয়াং বাংলা প্লাটফর্ম থেকে জয় বাংলা এওয়ার্ড অর্জন করে অর্ণব দত্তের সংগঠন। এবার সেই সাহসী কিশোর -কিশোরীরা তৈরি হচ্ছে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে প্রজন্মকে গড়ে উঠতে।

 

 

শুক্রবার ৪ মার্চ ময়মনসিংহ ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে জয়নুল আবেদীন শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে “সাম্প্রদায়িককতা রুখবে সংস্কৃতি” শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে প্রজন্ম সংগঠন।

 

 

ইসরাক নূর, রাবিতা ইসলাম রিশাত, অর্ণব দাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল পাল, কবি ফরিদ আহম্মেদ দুলাল, জেলা আওয়ামী লীগ যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রেজাউল হাসান বাবু, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব আলী ইউসুফ, বহুরুপী নাট্যসংস্থার সাধারণ সম্পাদক শাহাদত হোসেন খান,জাতীয় রাবীন্দ্র সংগীত সম্মেলন পরিষদ ময়মনসিংহ সাধারণ সম্পাদক মামুনুল ইসলাম রনি,বিশ্ব সাহিত্যকেন্দ্রের জেলা প্রতিনিধি রবিউল ইসলাম, সভাপতি প্রজন্ম সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি  অর্ণব দত্ত প্রমুখ।

 

 

১৯৭১ সালে তেলিখালি যুদ্ধে অসাম্প্রদায়িকতার এক বাস্তব স্মৃতিচারণ দিয়ে নিজে বক্তব্য শুরু করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল পাল। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে মৃত্যু বরণকারী এক যোদ্ধার জানাজা অনুষ্ঠানে একজন হুজুর যুদ্ধে নিহতদের নাম বলে তাদের বেহেশত কামনায় দোয়া করছেন। সে সময় তিনি একজন হিন্দু মুক্তিযোদ্ধার নামও বললেন সকল নিহতের সাথে তার জন্যও বেহেশত কামনা করলেন। সেই একাত্তরেই আমি অসাম্প্রদায়িকতা দেখেছি। সাম্প্রাদায়িকতার ট্রেনটি আজ ইচ্ছেমত সচল ও স্থিতিশীল করে দেয়া হয়। তিনি গর্ববোধ করে বলেন প্রজন্মের কিছু সন্তান আজ জীবনের শুরুতেই সেই দোলাচল থেকে বেরিয়ে আসতে সোচ্চার হচ্ছে। যা রাষ্ট্রীয়ভাবে, সামাজিকভাবে গড়ে উঠা জরুরি।

 

 

অনুষ্ঠানের আলোচ্য বিষয়কে উল্টে – সংস্কৃতি রুখবে সাম্প্রদায়িকতা এমনটি হবে দাবি করে কবি ফরিদ আহম্মেদ দুলাল বলেন, সাম্প্রদায়িকতা যারা চাষ করেন তারা ব্যবসায়ীক ধান্ধা নিয়ে তা করেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর কিছু কুৎসা রটনা করা হয়েছিলো। সে সময়ও এর পেছনে ব্যবসার উদ্দেশ্য ছিলো। সংস্কৃতি হচ্ছে প্রবাহমান স্রোত। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর অপসংস্কৃতির মাধ্যমে সাম্প্রদায়িকতাকে লালন করা শুরু হয়েছে।

 

 

তিনি বলেন, মানুষের স্বাধীনতা ধর্মের ভিত্তিতে নয়, ভাষার ভিত্তিতে। ব্রিটিশ শাসনামলের বিদায় লগ্নে যে ভাগ হয় তা দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন হয়নি। তার প্রমান পাকিস্তান থেকে ৭১ এ বাংলাদেশ স্বাধীনতা। ধর্মের স্বাধীনতা নয় ভাষার স্বাধীনতাই স্বাধীনতা। জাতির পিতাকে সম্মান দেখাতে হবে। বঙ্গবন্ধু কন্যাকেও সম্মান দেখাতে হবে উন্নয়নের জন্য। কারণ শেখ হাসিনা পদ্মাসেতু করে দেখিয়ে দিয়েছেন সাহসের সাথে। তাই প্রজন্মকে দেশের জন্য, ভাষার জন্য সাহসের সাথে উন্নয়নের সাথে দেশের সাথে থাকতে হবে।

 

 

জেলা আওয়ামী লীগ যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রেজাউল ইসলাম বাবু বলেন, আমরা যারা ৭০ এর দশকের প্রজন্ম তারা সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প দেখেছি ৭৫ এ জাতির পিতাকে হত্যার পর। ধর্মগুরুদের কাছ থেকেই কিছু কিছু কথাবার্তার মাধ্যমে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়েছে। আর সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কাজ করতে সংস্কৃতি আমাদের সাহস জোগিয়েছে। জাতির পিতার কন্যা পিতার মতো করেই সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছেন। আমি আশা করি এ প্রজন্ম নেত্রীর পাশে থাকবে সাম্প্রদায়িকতাকে রুখতে।

 

 

বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব আলী ইউসুফ বলেন, সংস্কৃতির মাধ্যমে সাম্প্রদায়িকতাকে রুখতে হলে রাষ্ট্রকে সংস্কৃতি লালন করতে হবে। এবং প্রতিটি ধর্মের মানুষকে প্রতিটি ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে। মনেপ্রানে আমরা সংস্কৃতিবান হতে পারলে সাম্প্রদায়িকতা রুখে দেয়া সম্ভব।

 

 

বহুরুপী নাট্যসংস্থার সাধারণ সম্পাদক শাহাদত হোসেন খান বলেন, আমাদের মধ্যে মাঝে মাঝে যে সাম্প্রদায়িকতা জেগে ওঠে তা সংস্কৃতি দিয়েই রোধ করা যাবে। পৃথিবীতে কোন ধর্মই মানুষ মানুষকে হত্যা করা, নির্যাতন করার কথা বলেনি। আমরা সেটি মানিনা কিন্তু কুমন্ত্রণায় একজন আরেকজনের বিরুদ্ধাচারণ করি। আমরা জন্মগতভাবে ধর্ম পালন করি। পরে শিক্ষা গ্রহনের মাধ্যমে তা সম্পর্কে জানতে পারি। যারা ধর্মান্ধ, যারা সাম্প্রদায়িকতা লালন করে, তাদের চিহ্নিত করতে হবে। এটি এ প্রজন্মকেই করতে হবে।

 

 

জাতীয় রাবীন্দ্র সংগীত সম্মেলন পরিষদ ময়মনসিংহ সাধারণ সম্পাদক মামুনুল ইসলাম রনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে সাম্প্রদায়িক অসাম্প্রদায়িক বলতে আমরা দেখি ভারত পাকিস্তান। ৪৭ এর পর ৭১ মানে বাংলাদেশ। অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাহক। এরও আগে ইংরেজ শাসনামল। সাম্প্রদায়িকতার সৃষ্টি, পেছনের ইন্ধন ও ফলশ্রুতি নিয়ে তিনি কথা বলেন। অসাম্প্রদায়িকতার প্রধান শক্তি সংস্কৃতি সেটি তিনি তার বক্তব্যে তুলে ধরেন।

 

 

বিশ্ব সাহিত্যকেন্দ্রের জেলা প্রতিনিধি রবিউল ইসলাম বলেন, আজকের আলোচ্য বিষয় নিয়ে আমাদের সিনিয়ার সিটিজেন ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আলোচনা হওয়ার মতো। প্রজন্ম নামের সংগঠনটির ছোট ছোট ভাই বোনরা যারা এ আয়োজন করেছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা। আজকের প্রজন্ম যা ভাববে আগামীর বাংলাদেশ তাই হয়ে উঠবে।

 

 

অর্ণব দত্ত সভাপতি প্রজন্ম বলেন, আমি বিশ্বাস করি সবার আগে আমি একজন মানুষ, এরপর আমার দেশ এরপর ধর্ম। আমাদের দেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান। উনার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাটা তিনি হিন্দু বা মুসলমান বলে নয়, শ্রদ্ধাটা তিনি আমাদের স্বাধীনতার পথ পদর্শক।

 

 

আমরা প্রজন্ম সংগঠন মাত্র দুই বছর কাজ করে জয় বাংলা প্লাটফর্ম থেকে এওয়ার্ড পেয়েছি। আজ সারা দেশে প্রজন্ম সংগঠন প্রসারিত হয়েছে। তারা আমাদের কাছে খবর নেয়। আমরা ময়মনসিংহ থেকে এর প্রতিনিধিত্ব করছি। এটা ময়মনসিংহবাসীর গর্ব।

 

 

অনুষ্ঠানে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান জানান দিতে কাজী নজরুল ইসলামের “সাম্যবাদী” কবিতা আবৃত্তি করেন সিরাজুম মনিরা নিঝুম,
জিন্নতুল ইসলাম প্রত্যাশা আবৃত্তি করেন, তারিক সুজাতের, “জন্মের আগেই আমি মৃত্যুকে করেছি আলিঙ্গন”।  কবিতা আবৃত্তি করেন অর্ণব দাস, গান করেন, ঈশান দে, রাউফুন নূর আপন, সৃজিতা বশাক টুইংকেল, সাদজান সাকিব অর্ণব, সুস্মিতা তালুকদার, স্নেহা পাল,

Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ খবর



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

২২ সি কে ঘোষ রোড, ময়মনসিংহ
বার্তা কক্ষ : ০১৭৩৬ ৫১৪ ৮৭২
ইমেইল : dailyjonomot@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার দৈনিক জনমত .কম

কারিগরি সহযোগিতায় BDiTZone.com