সকাল ১০:২০ | সোমবার | ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

হত্যা মামলার আসামি আদালতের পেশকার

ভোলায় গৃহবধূ হত্যা মামলার এক আসামি চিফ জুডিসিয়াল আদালতের পেশকার। মামলাটির তদন্তসহ নানা কাজে প্রভাব বিস্তার করার অভিযোগ উঠেছে ওই পেশকারের বিরুদ্ধে। মামলা থেকে তার নাম বাদ দেয়ার জন্য বাদীকে বিভিন্নভাবে হুমকিও দিচ্ছেন ভোলা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট কোর্ট-১ এর পেশকার শহিদুল ইসলাম সবুজ।

চলতি বছরের ৩ মার্চ ভোলা পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের পাখির পোল এলাকায় গৃহবধূ রুমি আক্তারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শ্বশুরবাড়ির লোকজন আত্মহত্যা বলে দাবি করলেও নিহতের পরিবারের অভিযোগ রুমিকে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গৃহবধূর মা বাদী হয়ে ভোলা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি হত্যা মামলা করেন।

মামলায় রুমি আক্তারের স্বামী লিটন ও তার বোনজামাই  শহিদুল ইসলাম সবুজসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

ভুক্তভোগীরা জানান, মামলা থেকে তার নাম বাদ দেয়ার জন্য বাদীকে টাকার লোভ ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন শহিদুল ইসলাম। এ ঘটনায় আদালত শহিদুলকে মনপুরা কোর্টে বদলিও করে। কিন্তু কিছু দিন পর আবার বদলি হয়ে ভোলা কোর্টে আসেন শহিদুল।  শুধু তাই নয় মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তিনি টাকা দিয়ে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আদালতে একটি অভিযোগপত্র দেন। কিন্তু গত ৭ আগস্ট ওই অভিযোগপত্রের ওপর নারাজি দরখাস্ত দেন বাদী। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ওই নারাজির ওপর শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত।

পেশকার শহিদুল ইসলাম ভোলা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট কোর্টে দায়িত্বে থাকায় হত্যা মামলার বিচার নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছে নিহতের স্বজনরা।

মামলার বাদী বিবি নাছিমা জানান, ‘পেশকার শহিদুল ইসলাম সবুজের ইন্ধনে তার মেয়েজামাই লিটন তার মেয়ে রুমিকে মারধর করে হত্যা করেছে। পরে ঘটনা জানাজানি হলে রুমির গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজায় লিটনের পরিবার।’

তিনি আরও বলেন, ‘মামলার পর থেকে শহিদুল ইসলাম আমাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে।’

অভিযুক্ত মো. শহিদুল ইসলাম সবুজ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘আমি শুনেছি রুমি আক্তারের সাথে তার স্বামী লিটনের ঝগড়া হয়েছে। এ থেকে রুমি আত্মহত্যা করেছে। এর সাথে আমি জড়িত না। আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।’ দীর্ঘদিন ধরে আমি শ্বশুরবাড়িতেও যাই না বলে জানান শহিদুল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর খায়রুল কবির ঢাকাটাইমসকে বলেন, মামলার পর লিটনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিরা হাইকোর্ট থেকে জামিনে আছে। গৃহবধূ রুমি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» যোগ্য জায়গায় যোগ্য ব্যক্তিকে না বসালে ক্ষতি হয় নিজের-মোহিত উর রহমান শান্ত

» দুর্ধর্ষ ট্রেন ডাকাত চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১৪

» তিন নির্দেশনায় ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা সম্পন্ন

» দুঃসময়ের ত্যাগী নেতৃত্বের হাতেই থাকবে আগামী আওয়ামী লীগ- ময়মনসিংহে বাহাউদ্দিন নাছিম

» শেখ রেহেনার জন্মদিনে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা যুবলীগের উদ্যোগে মিলাদ ও দোয়া

» বাহাউদ্দিন নাসিম এর আগমন উপলক্ষে  ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত

» কথা ক্লিয়ার-শিক্ষিত,ক্লিন ইমেজ যুবকদের জন্য অবারিত যুবলীগ- কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খসরু

» ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে

» ময়মনসিংহ মহানগরী জু্ড়ে শোক আয়োজনে মোহিত উর রহমান শান্ত

» শোক দিবসে যুবলীগনেতা সব্যসাচীর উদ্যেগে অসহায়দের মাঝে বস্ত্র বিতরণ ও গণভোজ

» ১৫ আগস্ট পালন উপলক্ষে ময়মনসিংহ মহানগর সাধারণ সম্পাদকের মতবিনিময় সভা

» ময়মনসিংহে মহানগর যুবলীগের উদ্যোগে মাসব্যাপী রেশনিং সিস্টেমে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

» শর্ত সাপেক্ষে খুলে দেয়া হয়েছে জেলা স্কুল মোড়ের সেই ত্রুটিপূর্ণ ১৪ তলা ভবন

» সংসার ফিরে পেতে চায় ময়মনসিংহের ডাক্তার জান্নাতুল   

» নগর জুড়ে ময়মনসিংহ মহানগর সাধারণ সম্পাদকের ইফতার বিতরণ

আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

২২ সি কে ঘোষ রোড, ময়মনসিংহ
বার্তা কক্ষ : ০১৭৩৬ ৫১৪ ৮৭২
ইমেইল : dailyjonomot@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার দৈনিক জনমত .কম

কারিগরি সহযোগিতায় BDiTZone.com

,

basic-bank

হত্যা মামলার আসামি আদালতের পেশকার

ভোলায় গৃহবধূ হত্যা মামলার এক আসামি চিফ জুডিসিয়াল আদালতের পেশকার। মামলাটির তদন্তসহ নানা কাজে প্রভাব বিস্তার করার অভিযোগ উঠেছে ওই পেশকারের বিরুদ্ধে। মামলা থেকে তার নাম বাদ দেয়ার জন্য বাদীকে বিভিন্নভাবে হুমকিও দিচ্ছেন ভোলা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট কোর্ট-১ এর পেশকার শহিদুল ইসলাম সবুজ।

চলতি বছরের ৩ মার্চ ভোলা পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের পাখির পোল এলাকায় গৃহবধূ রুমি আক্তারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শ্বশুরবাড়ির লোকজন আত্মহত্যা বলে দাবি করলেও নিহতের পরিবারের অভিযোগ রুমিকে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গৃহবধূর মা বাদী হয়ে ভোলা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি হত্যা মামলা করেন।

মামলায় রুমি আক্তারের স্বামী লিটন ও তার বোনজামাই  শহিদুল ইসলাম সবুজসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

ভুক্তভোগীরা জানান, মামলা থেকে তার নাম বাদ দেয়ার জন্য বাদীকে টাকার লোভ ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন শহিদুল ইসলাম। এ ঘটনায় আদালত শহিদুলকে মনপুরা কোর্টে বদলিও করে। কিন্তু কিছু দিন পর আবার বদলি হয়ে ভোলা কোর্টে আসেন শহিদুল।  শুধু তাই নয় মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তিনি টাকা দিয়ে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আদালতে একটি অভিযোগপত্র দেন। কিন্তু গত ৭ আগস্ট ওই অভিযোগপত্রের ওপর নারাজি দরখাস্ত দেন বাদী। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ওই নারাজির ওপর শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত।

পেশকার শহিদুল ইসলাম ভোলা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট কোর্টে দায়িত্বে থাকায় হত্যা মামলার বিচার নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছে নিহতের স্বজনরা।

মামলার বাদী বিবি নাছিমা জানান, ‘পেশকার শহিদুল ইসলাম সবুজের ইন্ধনে তার মেয়েজামাই লিটন তার মেয়ে রুমিকে মারধর করে হত্যা করেছে। পরে ঘটনা জানাজানি হলে রুমির গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজায় লিটনের পরিবার।’

তিনি আরও বলেন, ‘মামলার পর থেকে শহিদুল ইসলাম আমাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে।’

অভিযুক্ত মো. শহিদুল ইসলাম সবুজ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘আমি শুনেছি রুমি আক্তারের সাথে তার স্বামী লিটনের ঝগড়া হয়েছে। এ থেকে রুমি আত্মহত্যা করেছে। এর সাথে আমি জড়িত না। আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।’ দীর্ঘদিন ধরে আমি শ্বশুরবাড়িতেও যাই না বলে জানান শহিদুল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর খায়রুল কবির ঢাকাটাইমসকে বলেন, মামলার পর লিটনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিরা হাইকোর্ট থেকে জামিনে আছে। গৃহবধূ রুমি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ খবর



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

২২ সি কে ঘোষ রোড, ময়মনসিংহ
বার্তা কক্ষ : ০১৭৩৬ ৫১৪ ৮৭২
ইমেইল : dailyjonomot@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার দৈনিক জনমত .কম

কারিগরি সহযোগিতায় BDiTZone.com