রাত ১:৩৯ | বুধবার | ১১ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং | ২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

আরিচায় যমুনার পানি বাড়ছে, ভাসছে নতুন এলাকা

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আরিচাঘাট পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ২৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। এ নিয়ে বুধবার সকালে এই পয়েন্টে বিপদসীমার ৫৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। এর ফলে নদী তীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমিসহ নতুন নতুন এলাকা। রাস্তা-ঘাট ভেঙে ও ডুবে গিয়ে এসব এলাকার হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। অভাব দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির।

শিবালয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার (জিআর) মো. ফারুক হোসেন জানান, গত কয়েকদিন যমুনা নদীর এই পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। মঙ্গলবার সকাল নয়টা পর্যন্ত পানি বিপদসীমার (৯.৪০ মিটার) এক সেন্টিমিটার নিচে ছিল। এর পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ২৩ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি তিন ঘণ্টা পর পর এই পয়েন্টে পানি স্তর পরিমাপ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

নদী তীরবর্তী এলাকার জনপ্রতিনিধিরা জানায়, গত কয়েকদিন যমুনায় পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ইছামতি, কালিগঙ্গা, ধলেশ্বরীতেও পানি বাড়ছে। এতে দৌলতপুর উপজেলার চরকাটারী, বাঁচামারা, বাঘুটিয়া, জিয়নপুর ও খলসী ইউনিয়নের ইসলামপুর, বাসাইল, মুন্সিকান্দি, জোতকাশি, বেপারীপাড়া, ফকিরপাড়া, রাহাতপুর, চুয়াডাঙ্গা, হাজিপাড়া, কাচারীপাড়া, উত্তরখন্ড, অহেল আলীর পাড়া, গোবিন্দপুর, নকেরআলী মাদবরপাড়া, বাঘপাড়া, মন্ডলপাড়া, বড়টিয়া, আমতলী, কাটাখালি ও বৈন্যা এলাকায় কম-বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে।

শাখা নদী তীরবর্তী শ্রীধরনগর, কুস্তা, ঘিওর, মাইলাগি, জাবরা, তরা, বেউথা, নয়াকান্দিসহ প্রভৃতি নতুন নতুন এলাকাও পড়েছে ভাঙনের মুখে। অনেক স্থানে বাঁধ ভেঙে নদী তীরবর্তী এলাকাসমূহে পানি ঢুকে পড়েছে। নিম্নাঞ্চলের অনেক বাড়িঘর ইতোমধ্যেই ডুবে গেছে। ফসলের ক্ষেতও প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার দুর্গতদের জন্য সরকারিভাবে কোনো ত্রাণ সাহায্যে আসেনি বলেও জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আলিমুজ্জামান মিয়া জানান, পানিতে বোরো-আমন ধান, রোপার বীজতলা ও শাকসবজি’র জমি ডুবে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা হচ্ছে। এক সপ্তাহের বেশি এসব ফসল পানিতে ডুবে থাকলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ৩১১ নম্বর রুমে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ কক্ষের টেলিফোন নম্বর ০২৭৭১১৫৯০ এবং মোবাইল নম্বর ০১৭১৩৫০২৮১৫ ও ০১৮৪১৫০০০১৫।

জেলা প্রশাসক মো. নাজমুছ সাদাত সেলিম বন্যা সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য উপরোক্ত টেলিফোন ও মোবাইল নম্বরে আদান প্রদান করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করেছেন।

Print Friendly, PDF & Email
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন : Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» নিবেদিত মাঠ কর্মীদের সমন্বয়ে ৩২,৩৩ নং আওয়ামী লীগের নয়া কমিটি অনুমোদন

» ১৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগে দক্ষ সংগঠক আসাদুজ্জামান রুমেল

» মহিলা আঃ লীগে পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হলেন নুরুন নাহার সম্পাদক সেলিনা

» ফুলবাড়ীয়ায় মুক্তিযোদ্ধার উপর হামলা;শাস্তির দাবিতে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের স্বারকলিপি

» যুবলীগকে দক্ষিণ এশিয়ায় সুপরিচিত করেছেন শেখ ফজলুল হক মনি-এড.আজহারুল ইসলাম

» ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগের উদ্যেগে ফজলুল হক মনির ৮০ তম জন্মবার্ষিকী পালন

» ১৪ মাসে ১৩ বার শ্রেষ্ঠ ওসি শাহ কামাল আকন্দ

» ঢাকা টাইমস সম্পাদককে হুমকির প্রতিবাদে ময়মনসিংহে মানববন্ধন

» নবনির্বাচিত স্বেচ্ছাসেবকলীগ সাধারণ সম্পাদকে ময়মনসিংহে অভিনন্দন

» আফজাল বাবুকে সম্পাদক করায় ময়মনসিংহে অভিনন্দনের ঝড়

» তথাকথিত সংবাদ সম্মেলনের নামে চাদাঁবাজির অভিযোগ আড়ালের চেষ্টা

» বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাশার জায়গায় পৌছুতে পেড়েছে আজকের পুলিশ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

» এখনও মানুষকে একটা ভালো সেবা দেয়া আমরা শিখিনি- ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক

» করদাতারাই দেশ উন্নয়নের মূল নেয়ামক- সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

» ২০ গজের মধ্যেই চুরি, পুলিশ ব্যস্ত ফেসবুকিং নিয়ে;ময়মনসিংহ রেলওয়ে ষ্টেশন

আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

২২ সি কে ঘোষ রোড, ময়মনসিংহ
বার্তা কক্ষ : ০১৭৩৬ ৫১৪ ৮৭২
ইমেইল : dailyjonomot@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার দৈনিক জনমত .কম

কারিগরি সহযোগিতায় BDiTZone.com

,

basic-bank

আরিচায় যমুনার পানি বাড়ছে, ভাসছে নতুন এলাকা

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আরিচাঘাট পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ২৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। এ নিয়ে বুধবার সকালে এই পয়েন্টে বিপদসীমার ৫৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। এর ফলে নদী তীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমিসহ নতুন নতুন এলাকা। রাস্তা-ঘাট ভেঙে ও ডুবে গিয়ে এসব এলাকার হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। অভাব দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির।

শিবালয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার (জিআর) মো. ফারুক হোসেন জানান, গত কয়েকদিন যমুনা নদীর এই পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। মঙ্গলবার সকাল নয়টা পর্যন্ত পানি বিপদসীমার (৯.৪০ মিটার) এক সেন্টিমিটার নিচে ছিল। এর পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ২৩ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি তিন ঘণ্টা পর পর এই পয়েন্টে পানি স্তর পরিমাপ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

নদী তীরবর্তী এলাকার জনপ্রতিনিধিরা জানায়, গত কয়েকদিন যমুনায় পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ইছামতি, কালিগঙ্গা, ধলেশ্বরীতেও পানি বাড়ছে। এতে দৌলতপুর উপজেলার চরকাটারী, বাঁচামারা, বাঘুটিয়া, জিয়নপুর ও খলসী ইউনিয়নের ইসলামপুর, বাসাইল, মুন্সিকান্দি, জোতকাশি, বেপারীপাড়া, ফকিরপাড়া, রাহাতপুর, চুয়াডাঙ্গা, হাজিপাড়া, কাচারীপাড়া, উত্তরখন্ড, অহেল আলীর পাড়া, গোবিন্দপুর, নকেরআলী মাদবরপাড়া, বাঘপাড়া, মন্ডলপাড়া, বড়টিয়া, আমতলী, কাটাখালি ও বৈন্যা এলাকায় কম-বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে।

শাখা নদী তীরবর্তী শ্রীধরনগর, কুস্তা, ঘিওর, মাইলাগি, জাবরা, তরা, বেউথা, নয়াকান্দিসহ প্রভৃতি নতুন নতুন এলাকাও পড়েছে ভাঙনের মুখে। অনেক স্থানে বাঁধ ভেঙে নদী তীরবর্তী এলাকাসমূহে পানি ঢুকে পড়েছে। নিম্নাঞ্চলের অনেক বাড়িঘর ইতোমধ্যেই ডুবে গেছে। ফসলের ক্ষেতও প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার দুর্গতদের জন্য সরকারিভাবে কোনো ত্রাণ সাহায্যে আসেনি বলেও জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আলিমুজ্জামান মিয়া জানান, পানিতে বোরো-আমন ধান, রোপার বীজতলা ও শাকসবজি’র জমি ডুবে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা হচ্ছে। এক সপ্তাহের বেশি এসব ফসল পানিতে ডুবে থাকলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ৩১১ নম্বর রুমে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ কক্ষের টেলিফোন নম্বর ০২৭৭১১৫৯০ এবং মোবাইল নম্বর ০১৭১৩৫০২৮১৫ ও ০১৮৪১৫০০০১৫।

জেলা প্রশাসক মো. নাজমুছ সাদাত সেলিম বন্যা সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য উপরোক্ত টেলিফোন ও মোবাইল নম্বরে আদান প্রদান করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করেছেন।

Print Friendly, PDF & Email
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন : Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin

সর্বশেষ খবর



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

২২ সি কে ঘোষ রোড, ময়মনসিংহ
বার্তা কক্ষ : ০১৭৩৬ ৫১৪ ৮৭২
ইমেইল : dailyjonomot@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার দৈনিক জনমত .কম

কারিগরি সহযোগিতায় BDiTZone.com