সন্ধ্যা ৭:৪৪ | রবিবার | ২৫শে আগস্ট, ২০১৯ ইং | ১০ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নারী কর্মীদের ভালো বেতন দিতে ফেসবুক সিওও’র আহ্বান

নারীদের ন্যায্য ও ভালো বেতন দেওয়া কর্মক্ষেত্রের নীতি হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) শেরিল স্যান্ডবার্গ। নারী ও পুরুষের মধ্যে বেতনবৈষম্য কমাতে তিনি আরও কাজ করার আহ্বান জানান।
বিবিসি রেডিওতে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্যান্ডবার্গ এ কথা বলেন।
স্যান্ডবার্গ বলেন, ‘আমরা তরুণীদের নেতৃত্বে আসার ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করি। কিন্তু তরুণদের নেতৃত্বে আসতে উৎসাহ দিই। এটি বড় ধরনের ভুল।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, প্রত্যেকের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা রয়েছে। কর্মীদের কখনোই লিঙ্গভেদে মূল্যায়ন করা উচিত নয়। বরং তাঁদের যোগ্যতা কতটুকু অথবা তাঁরা কী হতে চান, তার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত।’
একান্ত ওই সাক্ষাৎকারে স্যান্ডবার্গ নিজের কিছু ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা বলেন। ২০১৫ সালে তাঁর স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুর কথা উল্লেখ করেন তিনি। সে সময় তাঁর দুই তরুণ ছেলেমেয়ের ওপর কী প্রভাব পড়েছিল, সে কথাও বলেন।
২০১৩ সালে কর্মক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়নবিষয়ক বই ‘লিন ইন’ লেখার পর থেকেই স্যান্ডবার্গ সুপরিচিত। এরপর থেকেই গণমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রে আসেন তিনি।
এটি বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বিক্রীত বইয়ের তালিকায় আসে। তবে সমালোচকেরা বলছেন, বইটি সমাজের অভিজাত শ্রেণির নারীদের জন্য প্রযোজ্য। যে নারীরা সমাজে সুবিধাজনক অবস্থানে নেই, তাঁদের চিত্র বইটি তুলে ধরেনি।
কর্মক্ষেত্রে বিরূপ পরিবেশের প্রভাব নারীদের ওপর কতটা পড়ে, তা বোঝাতে গিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলেন স্যান্ডবার্গ। তিনি বলেন, হার্ভার্ডে কাজ করার সময় তাঁর মধ্যে কিছু বিষয়ে অন্তর্দ্বন্দ্ব ছিল। তিনি দেখেছেন, নারীরা নিজেদের যোগ্যতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকেন না। নিজেদের ছোট করে দেখেন। সামনে এগিয়ে যাওয়া থেকে নিজেদের সরিয়ে রাখেন। এমনকি বেশি বেতনের দাবিও করেন না।
ফেসবুকের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা শেরিল স্যান্ডবার্গ আরও বলেন, ‘আমাদের নারী কর্মীদের ভালো বেতন দেওয়া শুরু করা প্রয়োজন। এ জন্য জনসাধারণ এবং করপোরেট নীতি দরকার।’
সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে আবারও মৃত স্বামীর কথা উল্লেখ করেন শেরিল স্যান্ডবার্গ। তাঁর স্বামী ডেভ গোল্ডবার্গ হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিলেন। ব্যায়ামাগারের মেঝেতে পড়ে যান তিনি। মাথায় আঘাত পান। স্বামীর মৃত্যুর পর জীবন পুরোপুরি বদলে যায় বলে জানান স্যান্ডবার্গ। বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি অনেক কেঁদেছেন। এত বেশি কাঁদতেন যে তাঁর বোন ঠাট্টা করে বলতেন, তাঁর শরীরে পুরোটাই পানি। তাঁর স্বামী অনলাইন সংগীত সাইট লঞ্চ মিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা। স্বামীর মৃত্যুর পর নিজের ঘনিষ্ঠ বান্ধবীরা পাশে থেকেছেন বলে জানান তিনি।
স্বামী মারা যাওয়ার পর স্যান্ডবার্গ বিষণœতায় ভুগছিলেন। বিষণœতা কাটাতে তিনি তাঁর কর্মক্ষেত্র ফেসবুকে বেশি সময় দেওয়া শুরু করেন।
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ফেসবুক কতটা ভূমিকা রাখছে, সে বিষয়ে হোম সেক্রেটারি আম্বর রাডের সঙ্গে কিছুদিন আগে বৈঠক হয় শেরিল স্যান্ডবার্গের। সে সম্পর্কে জানতে চাইলে স্যান্ডবার্গ বলেন, আলোচনার বিষয়গুলো বাস্তবায়নের কাজ চলছে। ২২ মার্চ ওয়েস্টমিনস্টারে সন্ত্রাসী হামলার পর হোয়াটসঅ্যাপে সন্ত্রাসীদের বার্তা বিনিময়ের ব্যাপারে নজরদারির অনুমতি চান আম্বর রাড।

Print Friendly, PDF & Email
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন : Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» ডিবি পুলিশের অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী জুয়ারিসহ ২১ জন গ্রেফতার

» ময়মনসিংহ ক্লাব পাড়ায় র‍্যাবের অভিযান;জরিমানা

» পাগলায় হত্যা মামলার আসামি বন্দুকযুদ্ধে নিহত

» শেখ হাসিনাকে বাঁচিয়ে বাংলাদেশকে বাঁচানো হয়েছে- মোহিত উর রহমান শান্ত

» গারো মেয়েকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মামলা পদ্ধা ক্লিনিকের মালিক আটক

» ময়মনসিংহে সড়ক দূর্ঘটনায় একই পরিবারের নিহত ৪

» যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন বঙ্গবন্ধু থাকবে -মোহিত উর রহমান শান্ত

» ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঠিকাদার মুরাদের আয়োজনে আলোচনা সভা

» নির্ধারিত টোলে দাপুনিয়ায় ঐতিহাসিক কুরবানির পশুর হাট

» জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে কোতোয়ালী থানায় চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা

» ময়মনসিংহ দুদকের অভিযানে পাসপোর্ট দালাল গ্রেফতার, ১৫ দিনের কারাদণ্ড

» দেশিয় অস্ত্র গুলি মাদকসহ দিপু ও তার ৫ সহযোগী র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার

» ময়মনসিংহে বন্ধুকযুদ্ধে ধর্ষকসহ ২ যুবক নিহত, ৪ পুলিশ আহত

» ডাঃ মুশফিকুর রহমান শুভ মেমোরিয়াল হাসপাতালের নির্মান কাজের উদ্বোধন

» ঘাগড়ায় বিজিএফ চাল বিতরণ পরিদর্শন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান

আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

২২ সি কে ঘোষ রোড, ময়মনসিংহ
বার্তা কক্ষ : ০১৭৩৬ ৫১৪ ৮৭২
ইমেইল : dailyjonomot@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার দৈনিক জনমত .কম

কারিগরি সহযোগিতায় বিডি আইটি এক্সপার্ট

,

basic-bank

নারী কর্মীদের ভালো বেতন দিতে ফেসবুক সিওও’র আহ্বান

নারীদের ন্যায্য ও ভালো বেতন দেওয়া কর্মক্ষেত্রের নীতি হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) শেরিল স্যান্ডবার্গ। নারী ও পুরুষের মধ্যে বেতনবৈষম্য কমাতে তিনি আরও কাজ করার আহ্বান জানান।
বিবিসি রেডিওতে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্যান্ডবার্গ এ কথা বলেন।
স্যান্ডবার্গ বলেন, ‘আমরা তরুণীদের নেতৃত্বে আসার ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করি। কিন্তু তরুণদের নেতৃত্বে আসতে উৎসাহ দিই। এটি বড় ধরনের ভুল।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, প্রত্যেকের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা রয়েছে। কর্মীদের কখনোই লিঙ্গভেদে মূল্যায়ন করা উচিত নয়। বরং তাঁদের যোগ্যতা কতটুকু অথবা তাঁরা কী হতে চান, তার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত।’
একান্ত ওই সাক্ষাৎকারে স্যান্ডবার্গ নিজের কিছু ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা বলেন। ২০১৫ সালে তাঁর স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুর কথা উল্লেখ করেন তিনি। সে সময় তাঁর দুই তরুণ ছেলেমেয়ের ওপর কী প্রভাব পড়েছিল, সে কথাও বলেন।
২০১৩ সালে কর্মক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়নবিষয়ক বই ‘লিন ইন’ লেখার পর থেকেই স্যান্ডবার্গ সুপরিচিত। এরপর থেকেই গণমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রে আসেন তিনি।
এটি বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বিক্রীত বইয়ের তালিকায় আসে। তবে সমালোচকেরা বলছেন, বইটি সমাজের অভিজাত শ্রেণির নারীদের জন্য প্রযোজ্য। যে নারীরা সমাজে সুবিধাজনক অবস্থানে নেই, তাঁদের চিত্র বইটি তুলে ধরেনি।
কর্মক্ষেত্রে বিরূপ পরিবেশের প্রভাব নারীদের ওপর কতটা পড়ে, তা বোঝাতে গিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলেন স্যান্ডবার্গ। তিনি বলেন, হার্ভার্ডে কাজ করার সময় তাঁর মধ্যে কিছু বিষয়ে অন্তর্দ্বন্দ্ব ছিল। তিনি দেখেছেন, নারীরা নিজেদের যোগ্যতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকেন না। নিজেদের ছোট করে দেখেন। সামনে এগিয়ে যাওয়া থেকে নিজেদের সরিয়ে রাখেন। এমনকি বেশি বেতনের দাবিও করেন না।
ফেসবুকের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা শেরিল স্যান্ডবার্গ আরও বলেন, ‘আমাদের নারী কর্মীদের ভালো বেতন দেওয়া শুরু করা প্রয়োজন। এ জন্য জনসাধারণ এবং করপোরেট নীতি দরকার।’
সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে আবারও মৃত স্বামীর কথা উল্লেখ করেন শেরিল স্যান্ডবার্গ। তাঁর স্বামী ডেভ গোল্ডবার্গ হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিলেন। ব্যায়ামাগারের মেঝেতে পড়ে যান তিনি। মাথায় আঘাত পান। স্বামীর মৃত্যুর পর জীবন পুরোপুরি বদলে যায় বলে জানান স্যান্ডবার্গ। বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি অনেক কেঁদেছেন। এত বেশি কাঁদতেন যে তাঁর বোন ঠাট্টা করে বলতেন, তাঁর শরীরে পুরোটাই পানি। তাঁর স্বামী অনলাইন সংগীত সাইট লঞ্চ মিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা। স্বামীর মৃত্যুর পর নিজের ঘনিষ্ঠ বান্ধবীরা পাশে থেকেছেন বলে জানান তিনি।
স্বামী মারা যাওয়ার পর স্যান্ডবার্গ বিষণœতায় ভুগছিলেন। বিষণœতা কাটাতে তিনি তাঁর কর্মক্ষেত্র ফেসবুকে বেশি সময় দেওয়া শুরু করেন।
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ফেসবুক কতটা ভূমিকা রাখছে, সে বিষয়ে হোম সেক্রেটারি আম্বর রাডের সঙ্গে কিছুদিন আগে বৈঠক হয় শেরিল স্যান্ডবার্গের। সে সম্পর্কে জানতে চাইলে স্যান্ডবার্গ বলেন, আলোচনার বিষয়গুলো বাস্তবায়নের কাজ চলছে। ২২ মার্চ ওয়েস্টমিনস্টারে সন্ত্রাসী হামলার পর হোয়াটসঅ্যাপে সন্ত্রাসীদের বার্তা বিনিময়ের ব্যাপারে নজরদারির অনুমতি চান আম্বর রাড।

Print Friendly, PDF & Email
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন : Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin

সর্বশেষ খবর



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

২২ সি কে ঘোষ রোড, ময়মনসিংহ
বার্তা কক্ষ : ০১৭৩৬ ৫১৪ ৮৭২
ইমেইল : dailyjonomot@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার দৈনিক জনমত .কম

কারিগরি সহযোগিতায় বিডি আইটি এক্সপার্ট