সকাল ১০:২৬ | শনিবার | ২৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং | ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

প্রিন্সেস ডায়ানার ‘হারানো মেয়ে’

জনমত ডেস্ক: ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন প্রিন্সেস ডায়ানা। আর ঠিক সেই সময়টায় নিজের ঘরে বসে কাঁদছিল নয় বছরের অবন্তী রেড্ডি। ডায়ানার মৃত্যুতে তাঁর কাছের মানুষেরা যতটা কষ্ট পেয়েছিলেন, ঠিক ততটাই ভেঙে পড়েছিল অবন্তী। ডায়ানার সঙ্গে যে তাঁর ছিল ‘মা-মেয়ের’ সম্পর্ক!

ইয়াহু নিউজের খবরে বলা হয়েছে, ১৯৯২ সালে প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে ভারত সফরে গিয়েছিলেন প্রিন্সেস ডায়ানা। সফরের একপর্যায়ে হায়দরাবাদে গিয়েছিলেন তাঁরা। সেই সময়ই ডায়ানার সঙ্গে দেখা হয় ছোট্ট অবন্তীর। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র চার বছর। প্রিন্সেসের সম্মানে ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে নেচেছিল সে। নাচ শেষে তাঁর জায়গা হয়েছিল ডায়ানার কোলে। তখন অবন্তীকে ‘মেয়ে’ বলে সম্বোধন করেছিলেন ডায়ানা।

সম্প্রতি শৈশবের সেই স্মৃতি নিয়ে কথা বলেছেন অবন্তী রেড্ডি। ২৮ বছরের অবন্তী এখন স্কুলশিক্ষক। তিনি বলেন, ‘আমার বয়স সবচেয়ে কম ছিল। ডায়ানা আমাকে মাঠে বসে থাকতে দেখেছিলেন। এরপর তিনি আমাকে কোলে তুলে নিয়ে মঞ্চে ওঠেন। আমাকে হাঁটুর ওপর বসিয়েছিলেন তিনি।’

তখন বেশ কথাও হয়েছিল অবন্তী ও ডায়ানার। অবন্তী বলেন, ‘আমার খুব সর্দি হয়েছিল। তিনি নিজের রুমাল দিয়ে আমার নাক মুছে দিয়েছিলেন। সারাক্ষণ তিনি আমাকে সঙ্গে সঙ্গে রেখেছিলেন। যখন তাঁর যাওয়ার সময় হয়েছিল, তখন ডায়ানা বলেছিলেন, আমি তোমাকে ছেড়ে যেতে চাই না। আমার কোনো মেয়ে নেই, তাই আজ থেকে তুমি আমার মেয়ে।’

ভারত থেকে চলে যাওয়ার পরও ‘মেয়েকে’ নিয়মিত চিঠি লিখতেন ডায়ানা। মা-মেয়ের কথা হতো এভাবেই। প্রথম দেখার পাঁচ বছর পর আবার পুনর্মিলন হওয়ার কথা ছিল এ দুজনার। কিন্তু মৃত্যু তা হতে দেয়নি।

অবন্তী বলেন, ‘দ্বিতীয়বার তাঁর সঙ্গে দেখা হওয়ার আশায় আমি শিহরিত ছিলাম। ইউরোপের বেশ কয়েকটি স্কুলে অনুষ্ঠান করেছিলাম আমরা। সফরের শেষের দিকে তাঁর সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা ছিল আমাদের। কিন্তু সেটি আর কখনো হয়নি।’

ডায়ানার লাবণ্য ও উদারতায় এখনো মুগ্ধ অবন্তী। তিনি বলেন, ‘বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি বুঝতে শুরু করেছি যে প্রিন্সেস ডায়ানা কে ছিলেন।’

Print Friendly, PDF & Email
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন : Share on Facebook
Facebook
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» শীতকালীন প্রকৃতি ও মানব জীবনের পরিবেশ দর্শন

» র‍্যাবের দ্বিতীয় দিনের অভিযানে দুই প্রাইভেট হাসপাতালকে ১২ লাখ টাকা জরিমানা

» র‍্যাব-১৪ এর হাতে ৯০৫ বোতল ফেনসিডিলসহ ২ জন গ্রেফতার

» জমি সংক্রান্ত বিরোধে ছোট ভাইদের হাতে বড় ভাই খুন

» জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আল হোসাইন তাজ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত

» শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি;গ্রাম শহরে রুপান্তর হচ্ছে- অষ্টধারে মোহিত উর রহমান শান্ত

» ময়মনসিংহের অবৈধ নদী দখলদারদের তালিকা প্রকাশ

» নগরীর বিভিন্ন মাদক পয়েন্টে ময়মনসিংহ পুলিশের ব্লক রেইড,গ্রেফতার-৭

» ময়মনসিংহে এক শহীদ জননীর শেষ আকুতি প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষাৎ

» মমেক হাসপাতালে ক্যাথল্যাব স্থাপন, কার্যক্রম শুরু ফেব্রুয়ারিতে

» ময়মনসিংহে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অপপ্রচারকারী গ্রেফতার

» অসহায়দের মাঝে ময়মনসিংহ পুনাক সভানেত্রীর শীতবস্ত্র বিতরণ

» অস্ত্র গুলিসহ বিল্লাল র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার

» ময়মনসিংহ আজাদ শপিং সেন্টারে আগুন

» ময়মনসিংহে ডাবল মার্ডার,ঘাতক কিশোরগঞ্জে গ্রেফতার

আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

২২ সি কে ঘোষ রোড, ময়মনসিংহ
বার্তা কক্ষ : ০১৭৩৬ ৫১৪ ৮৭২
ইমেইল : dailyjonomot@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার দৈনিক জনমত .কম

কারিগরি সহযোগিতায় BDiTZone.com

,

basic-bank

প্রিন্সেস ডায়ানার ‘হারানো মেয়ে’

জনমত ডেস্ক: ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন প্রিন্সেস ডায়ানা। আর ঠিক সেই সময়টায় নিজের ঘরে বসে কাঁদছিল নয় বছরের অবন্তী রেড্ডি। ডায়ানার মৃত্যুতে তাঁর কাছের মানুষেরা যতটা কষ্ট পেয়েছিলেন, ঠিক ততটাই ভেঙে পড়েছিল অবন্তী। ডায়ানার সঙ্গে যে তাঁর ছিল ‘মা-মেয়ের’ সম্পর্ক!

ইয়াহু নিউজের খবরে বলা হয়েছে, ১৯৯২ সালে প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে ভারত সফরে গিয়েছিলেন প্রিন্সেস ডায়ানা। সফরের একপর্যায়ে হায়দরাবাদে গিয়েছিলেন তাঁরা। সেই সময়ই ডায়ানার সঙ্গে দেখা হয় ছোট্ট অবন্তীর। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র চার বছর। প্রিন্সেসের সম্মানে ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে নেচেছিল সে। নাচ শেষে তাঁর জায়গা হয়েছিল ডায়ানার কোলে। তখন অবন্তীকে ‘মেয়ে’ বলে সম্বোধন করেছিলেন ডায়ানা।

সম্প্রতি শৈশবের সেই স্মৃতি নিয়ে কথা বলেছেন অবন্তী রেড্ডি। ২৮ বছরের অবন্তী এখন স্কুলশিক্ষক। তিনি বলেন, ‘আমার বয়স সবচেয়ে কম ছিল। ডায়ানা আমাকে মাঠে বসে থাকতে দেখেছিলেন। এরপর তিনি আমাকে কোলে তুলে নিয়ে মঞ্চে ওঠেন। আমাকে হাঁটুর ওপর বসিয়েছিলেন তিনি।’

তখন বেশ কথাও হয়েছিল অবন্তী ও ডায়ানার। অবন্তী বলেন, ‘আমার খুব সর্দি হয়েছিল। তিনি নিজের রুমাল দিয়ে আমার নাক মুছে দিয়েছিলেন। সারাক্ষণ তিনি আমাকে সঙ্গে সঙ্গে রেখেছিলেন। যখন তাঁর যাওয়ার সময় হয়েছিল, তখন ডায়ানা বলেছিলেন, আমি তোমাকে ছেড়ে যেতে চাই না। আমার কোনো মেয়ে নেই, তাই আজ থেকে তুমি আমার মেয়ে।’

ভারত থেকে চলে যাওয়ার পরও ‘মেয়েকে’ নিয়মিত চিঠি লিখতেন ডায়ানা। মা-মেয়ের কথা হতো এভাবেই। প্রথম দেখার পাঁচ বছর পর আবার পুনর্মিলন হওয়ার কথা ছিল এ দুজনার। কিন্তু মৃত্যু তা হতে দেয়নি।

অবন্তী বলেন, ‘দ্বিতীয়বার তাঁর সঙ্গে দেখা হওয়ার আশায় আমি শিহরিত ছিলাম। ইউরোপের বেশ কয়েকটি স্কুলে অনুষ্ঠান করেছিলাম আমরা। সফরের শেষের দিকে তাঁর সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা ছিল আমাদের। কিন্তু সেটি আর কখনো হয়নি।’

ডায়ানার লাবণ্য ও উদারতায় এখনো মুগ্ধ অবন্তী। তিনি বলেন, ‘বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি বুঝতে শুরু করেছি যে প্রিন্সেস ডায়ানা কে ছিলেন।’

Print Friendly, PDF & Email
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন : Share on Facebook
Facebook
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin

সর্বশেষ খবর



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

২২ সি কে ঘোষ রোড, ময়মনসিংহ
বার্তা কক্ষ : ০১৭৩৬ ৫১৪ ৮৭২
ইমেইল : dailyjonomot@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার দৈনিক জনমত .কম

কারিগরি সহযোগিতায় BDiTZone.com