সকাল ৯:৪৩ | বৃহস্পতিবার | ৯ই এপ্রিল, ২০২০ ইং | ২৬শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শুল্ক প্রত্যাহারের আশায় ছয় দিন ধরে চাল খালাস বন্ধ

শুল্ক প্রত্যাহার-সংক্রান্ত খবরে বেনাপোল স্থলবন্দরে চাল আমদানি ও খালাস বন্ধ রেখেছেন আমদানিকারকরা। গত ছয় দিন ধরে চাল খালাস না করে এই স্থলবন্দরের ভেতর পড়ে আছে প্রায় ৩১০টি ট্রাক।

দেশের বাজারে চালের দাম স্বাভাবিক রাখতে ও দ্রুত চালের মজুদ বাড়াতে চাল আমদানিতে পুরোপুরি শুল্ক প্রত্যাহারের বিষয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে চিঠি দেওয়া হয়। গত ৭ আগস্ট মিডিয়ায় এমন খবর প্রকাশের পর থেকেই বিন্দর থেকে চাল খালাস বন্ধ রেখেছেন আমদানিকারকরা।

চাল আমদানিতে শুল্কহার যখন ২৮ ভাগ ছিল, তখন বেনাপোল বন্দর দিয়ে চালের আমদানি প্রায় বন্ধ ছিল। গত ২০ জুন চাল আমদানিতে শুল্কহার কমিয়ে ১০ ভাগ নির্ধারণ করার পর বন্দর দিয়ে চালের আমদানি বাড়ে। বর্তমানে বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ১০০ ট্রাক চাল আমদানি হচ্ছে।

কিন্তু গত কদিন ধরে চাল আমদানি কিংবা আমদানিকৃত চাল খালাস করছেন না আমদানিকারকরা। বেনাপোল বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আ. খালেক জানান, আমদানিকারকরা ট্রাকগুলো থেকে চাল খালাস না নিয়ে শুল্ক প্রত্যাহার-সংক্রান্ত খবরের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, দেশের বাজারে চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকার চাল আমদানিতে আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহার করে নেবে এমন আলোচনা চলছে গত কয়েক দিন ধরে। এর ওপর গত ৭ আগস্ট সোমবার এ-সংক্রান্ত খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ায় বেনাপোল বন্দরের আমদানিকারকরা ভারত থেকে আমদানিকৃত চাল খালাস করছেন না। কারণ সরকার চাল আমদানির শুল্ক প্রত্যাহার করে নিলে তারা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বন্দরে তিন শতাধিক চালের ট্রাক আটকা পড়ে আছে।

এ ছাড়া শুল্ক প্রত্যাহারের খবরে বন্দর দিয়ে চালের আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন আমদানিকারকরা। এর ওপর আবার গত বুধবারে চাল আমদানিতে শুল্কহার ১০ ভাগ থেকে কমিয়ে ৫ ভাগ করতে মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়। কিন্তু এর কোনো কাগজপত্র বা আদেশের কপি কাস্টমসে আসেনি। এতে করে আমদানিকারকরা দ্বিধায় আছেন।

বর্তমানে চাল আমদানিতে যে ১০ ভাগ শুল্ক আরোপ রয়েছে, তাতে প্রতি কেজি চালে তিন থেকে সাড়ে তিন টাকা শুল্ক দিতে হচ্ছে। যদি এই ১০ ভাগ শুল্ক প্রত্যাহার করে নেয়া হয়, তাহলে দেশের বাজারে চালের দাম কিছুটা কমতে পারে।

বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক রেজাউল ইসলাম জানান, আগে বেনাপোল বন্দর দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ১০০ ট্রাক চাল আমদানি হতো এবং প্রতিদিনই সেসব চাল খালাস হয়ে যেত। কিন্তু চাল আমদানিতে আরোপিত ১০ ভাগ শুল্ক প্রত্যাহার করবে সরকার এমন খবর প্রকাশের পর গত সোমবার থেকেই এই বন্দর থেকে চাল খালাস করছেন না আমদানিকারকরা।

Print Friendly, PDF & Email
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন : Share on Facebook
Facebook
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» ছবির মানুষগুলো আছেন আপনার পাশে; চাইছেন শুধু ঘরে থাকার সহযোগীতা

» যুবলীগ নেতা রাসেল পাঠানের উদ্যোগে দ্বিতীয় দিনে চলছে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

» সুষ্ঠু পরিকল্পনায় যুবলীগ নেতা রাসেল পাঠানের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

» থেমে গেল একটি কলম; ময়মনসিংহের কিংবদন্তি সাংবাদিক আশিক চৌধুরীর মহাপ্রস্থান

» ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজির খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

» ঘরে থাকুন, খাবার পৌঁছে যাবে আপনার ঘরে-ময়মনসিংহের ডিসি

» ময়মনসিংহের আঠারো বাড়িতে ছাত্রলীগের উদ্যোগে খাদ্যসামগ্রী হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ

» শম্ভুগঞ্জ বেদে বস্তিতে জেলা পুলিশের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

» ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রলীগ নেতা রাহাতের উদ্যোগে দিনব্যাপী খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

» ময়মনসিংহে ৪ জঙ্গি গ্রেফতার, জিহাদী বইসহ সরঞ্জাম উদ্ধার

» ময়মনসিংহ মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে জীবানুনাশক সামগ্রী বিতরণ

» নিজ এলাকার একশত অসহায় পরিবারকে খাদ্যসহায়তার ঘোষনা দিলেন আসাদুজ্জামান রুমেল

» এবার মাইক হাতে নিজেই মাঠে নেমেছেন ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার

» ময়মনসিংহ পুলিশের পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ

» ময়মনসিংহে সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করতে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী

আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

২২ সি কে ঘোষ রোড, ময়মনসিংহ
বার্তা কক্ষ : ০১৭৩৬ ৫১৪ ৮৭২
ইমেইল : dailyjonomot@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার দৈনিক জনমত .কম

কারিগরি সহযোগিতায় BDiTZone.com

,

basic-bank

শুল্ক প্রত্যাহারের আশায় ছয় দিন ধরে চাল খালাস বন্ধ

শুল্ক প্রত্যাহার-সংক্রান্ত খবরে বেনাপোল স্থলবন্দরে চাল আমদানি ও খালাস বন্ধ রেখেছেন আমদানিকারকরা। গত ছয় দিন ধরে চাল খালাস না করে এই স্থলবন্দরের ভেতর পড়ে আছে প্রায় ৩১০টি ট্রাক।

দেশের বাজারে চালের দাম স্বাভাবিক রাখতে ও দ্রুত চালের মজুদ বাড়াতে চাল আমদানিতে পুরোপুরি শুল্ক প্রত্যাহারের বিষয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে চিঠি দেওয়া হয়। গত ৭ আগস্ট মিডিয়ায় এমন খবর প্রকাশের পর থেকেই বিন্দর থেকে চাল খালাস বন্ধ রেখেছেন আমদানিকারকরা।

চাল আমদানিতে শুল্কহার যখন ২৮ ভাগ ছিল, তখন বেনাপোল বন্দর দিয়ে চালের আমদানি প্রায় বন্ধ ছিল। গত ২০ জুন চাল আমদানিতে শুল্কহার কমিয়ে ১০ ভাগ নির্ধারণ করার পর বন্দর দিয়ে চালের আমদানি বাড়ে। বর্তমানে বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ১০০ ট্রাক চাল আমদানি হচ্ছে।

কিন্তু গত কদিন ধরে চাল আমদানি কিংবা আমদানিকৃত চাল খালাস করছেন না আমদানিকারকরা। বেনাপোল বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আ. খালেক জানান, আমদানিকারকরা ট্রাকগুলো থেকে চাল খালাস না নিয়ে শুল্ক প্রত্যাহার-সংক্রান্ত খবরের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, দেশের বাজারে চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকার চাল আমদানিতে আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহার করে নেবে এমন আলোচনা চলছে গত কয়েক দিন ধরে। এর ওপর গত ৭ আগস্ট সোমবার এ-সংক্রান্ত খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ায় বেনাপোল বন্দরের আমদানিকারকরা ভারত থেকে আমদানিকৃত চাল খালাস করছেন না। কারণ সরকার চাল আমদানির শুল্ক প্রত্যাহার করে নিলে তারা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বন্দরে তিন শতাধিক চালের ট্রাক আটকা পড়ে আছে।

এ ছাড়া শুল্ক প্রত্যাহারের খবরে বন্দর দিয়ে চালের আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন আমদানিকারকরা। এর ওপর আবার গত বুধবারে চাল আমদানিতে শুল্কহার ১০ ভাগ থেকে কমিয়ে ৫ ভাগ করতে মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়। কিন্তু এর কোনো কাগজপত্র বা আদেশের কপি কাস্টমসে আসেনি। এতে করে আমদানিকারকরা দ্বিধায় আছেন।

বর্তমানে চাল আমদানিতে যে ১০ ভাগ শুল্ক আরোপ রয়েছে, তাতে প্রতি কেজি চালে তিন থেকে সাড়ে তিন টাকা শুল্ক দিতে হচ্ছে। যদি এই ১০ ভাগ শুল্ক প্রত্যাহার করে নেয়া হয়, তাহলে দেশের বাজারে চালের দাম কিছুটা কমতে পারে।

বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক রেজাউল ইসলাম জানান, আগে বেনাপোল বন্দর দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ১০০ ট্রাক চাল আমদানি হতো এবং প্রতিদিনই সেসব চাল খালাস হয়ে যেত। কিন্তু চাল আমদানিতে আরোপিত ১০ ভাগ শুল্ক প্রত্যাহার করবে সরকার এমন খবর প্রকাশের পর গত সোমবার থেকেই এই বন্দর থেকে চাল খালাস করছেন না আমদানিকারকরা।

Print Friendly, PDF & Email
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন : Share on Facebook
Facebook
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin

সর্বশেষ খবর



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

২২ সি কে ঘোষ রোড, ময়মনসিংহ
বার্তা কক্ষ : ০১৭৩৬ ৫১৪ ৮৭২
ইমেইল : dailyjonomot@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার দৈনিক জনমত .কম

কারিগরি সহযোগিতায় BDiTZone.com