দুপুর ১২:০৭ | সোমবার | ১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং | ২রা পৌষ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

হত্যা মামলার আসামি আদালতের পেশকার

ভোলায় গৃহবধূ হত্যা মামলার এক আসামি চিফ জুডিসিয়াল আদালতের পেশকার। মামলাটির তদন্তসহ নানা কাজে প্রভাব বিস্তার করার অভিযোগ উঠেছে ওই পেশকারের বিরুদ্ধে। মামলা থেকে তার নাম বাদ দেয়ার জন্য বাদীকে বিভিন্নভাবে হুমকিও দিচ্ছেন ভোলা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট কোর্ট-১ এর পেশকার শহিদুল ইসলাম সবুজ।

চলতি বছরের ৩ মার্চ ভোলা পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের পাখির পোল এলাকায় গৃহবধূ রুমি আক্তারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শ্বশুরবাড়ির লোকজন আত্মহত্যা বলে দাবি করলেও নিহতের পরিবারের অভিযোগ রুমিকে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গৃহবধূর মা বাদী হয়ে ভোলা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি হত্যা মামলা করেন।

মামলায় রুমি আক্তারের স্বামী লিটন ও তার বোনজামাই  শহিদুল ইসলাম সবুজসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

ভুক্তভোগীরা জানান, মামলা থেকে তার নাম বাদ দেয়ার জন্য বাদীকে টাকার লোভ ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন শহিদুল ইসলাম। এ ঘটনায় আদালত শহিদুলকে মনপুরা কোর্টে বদলিও করে। কিন্তু কিছু দিন পর আবার বদলি হয়ে ভোলা কোর্টে আসেন শহিদুল।  শুধু তাই নয় মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তিনি টাকা দিয়ে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আদালতে একটি অভিযোগপত্র দেন। কিন্তু গত ৭ আগস্ট ওই অভিযোগপত্রের ওপর নারাজি দরখাস্ত দেন বাদী। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ওই নারাজির ওপর শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত।

পেশকার শহিদুল ইসলাম ভোলা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট কোর্টে দায়িত্বে থাকায় হত্যা মামলার বিচার নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছে নিহতের স্বজনরা।

মামলার বাদী বিবি নাছিমা জানান, ‘পেশকার শহিদুল ইসলাম সবুজের ইন্ধনে তার মেয়েজামাই লিটন তার মেয়ে রুমিকে মারধর করে হত্যা করেছে। পরে ঘটনা জানাজানি হলে রুমির গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজায় লিটনের পরিবার।’

তিনি আরও বলেন, ‘মামলার পর থেকে শহিদুল ইসলাম আমাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে।’

অভিযুক্ত মো. শহিদুল ইসলাম সবুজ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘আমি শুনেছি রুমি আক্তারের সাথে তার স্বামী লিটনের ঝগড়া হয়েছে। এ থেকে রুমি আত্মহত্যা করেছে। এর সাথে আমি জড়িত না। আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।’ দীর্ঘদিন ধরে আমি শ্বশুরবাড়িতেও যাই না বলে জানান শহিদুল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর খায়রুল কবির ঢাকাটাইমসকে বলেন, মামলার পর লিটনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিরা হাইকোর্ট থেকে জামিনে আছে। গৃহবধূ রুমি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন : Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» দেশপ্রেমিক পুলিশ কর্মকর্তা অতিরিক্ত ডিআইজি মঈনুল হক

» ময়মনসিংহে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ১

» নিবেদিত মাঠ কর্মীদের সমন্বয়ে ৩২,৩৩ নং আওয়ামী লীগের নয়া কমিটি অনুমোদন

» ১৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগে দক্ষ সংগঠক আসাদুজ্জামান রুমেল

» মহিলা আঃ লীগে পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হলেন নুরুন নাহার সম্পাদক সেলিনা

» ফুলবাড়ীয়ায় মুক্তিযোদ্ধার উপর হামলা;শাস্তির দাবিতে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের স্বারকলিপি

» যুবলীগকে দক্ষিণ এশিয়ায় সুপরিচিত করেছেন শেখ ফজলুল হক মনি-এড.আজহারুল ইসলাম

» ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগের উদ্যেগে ফজলুল হক মনির ৮০ তম জন্মবার্ষিকী পালন

» ১৪ মাসে ১৩ বার শ্রেষ্ঠ ওসি শাহ কামাল আকন্দ

» ঢাকা টাইমস সম্পাদককে হুমকির প্রতিবাদে ময়মনসিংহে মানববন্ধন

» নবনির্বাচিত স্বেচ্ছাসেবকলীগ সাধারণ সম্পাদকে ময়মনসিংহে অভিনন্দন

» আফজাল বাবুকে সম্পাদক করায় ময়মনসিংহে অভিনন্দনের ঝড়

» তথাকথিত সংবাদ সম্মেলনের নামে চাদাঁবাজির অভিযোগ আড়ালের চেষ্টা

» বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাশার জায়গায় পৌছুতে পেড়েছে আজকের পুলিশ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

» এখনও মানুষকে একটা ভালো সেবা দেয়া আমরা শিখিনি- ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক

আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

২২ সি কে ঘোষ রোড, ময়মনসিংহ
বার্তা কক্ষ : ০১৭৩৬ ৫১৪ ৮৭২
ইমেইল : dailyjonomot@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার দৈনিক জনমত .কম

কারিগরি সহযোগিতায় BDiTZone.com

,

basic-bank

হত্যা মামলার আসামি আদালতের পেশকার

ভোলায় গৃহবধূ হত্যা মামলার এক আসামি চিফ জুডিসিয়াল আদালতের পেশকার। মামলাটির তদন্তসহ নানা কাজে প্রভাব বিস্তার করার অভিযোগ উঠেছে ওই পেশকারের বিরুদ্ধে। মামলা থেকে তার নাম বাদ দেয়ার জন্য বাদীকে বিভিন্নভাবে হুমকিও দিচ্ছেন ভোলা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট কোর্ট-১ এর পেশকার শহিদুল ইসলাম সবুজ।

চলতি বছরের ৩ মার্চ ভোলা পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের পাখির পোল এলাকায় গৃহবধূ রুমি আক্তারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শ্বশুরবাড়ির লোকজন আত্মহত্যা বলে দাবি করলেও নিহতের পরিবারের অভিযোগ রুমিকে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গৃহবধূর মা বাদী হয়ে ভোলা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি হত্যা মামলা করেন।

মামলায় রুমি আক্তারের স্বামী লিটন ও তার বোনজামাই  শহিদুল ইসলাম সবুজসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

ভুক্তভোগীরা জানান, মামলা থেকে তার নাম বাদ দেয়ার জন্য বাদীকে টাকার লোভ ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন শহিদুল ইসলাম। এ ঘটনায় আদালত শহিদুলকে মনপুরা কোর্টে বদলিও করে। কিন্তু কিছু দিন পর আবার বদলি হয়ে ভোলা কোর্টে আসেন শহিদুল।  শুধু তাই নয় মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তিনি টাকা দিয়ে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আদালতে একটি অভিযোগপত্র দেন। কিন্তু গত ৭ আগস্ট ওই অভিযোগপত্রের ওপর নারাজি দরখাস্ত দেন বাদী। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ওই নারাজির ওপর শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত।

পেশকার শহিদুল ইসলাম ভোলা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট কোর্টে দায়িত্বে থাকায় হত্যা মামলার বিচার নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছে নিহতের স্বজনরা।

মামলার বাদী বিবি নাছিমা জানান, ‘পেশকার শহিদুল ইসলাম সবুজের ইন্ধনে তার মেয়েজামাই লিটন তার মেয়ে রুমিকে মারধর করে হত্যা করেছে। পরে ঘটনা জানাজানি হলে রুমির গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজায় লিটনের পরিবার।’

তিনি আরও বলেন, ‘মামলার পর থেকে শহিদুল ইসলাম আমাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে।’

অভিযুক্ত মো. শহিদুল ইসলাম সবুজ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘আমি শুনেছি রুমি আক্তারের সাথে তার স্বামী লিটনের ঝগড়া হয়েছে। এ থেকে রুমি আত্মহত্যা করেছে। এর সাথে আমি জড়িত না। আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।’ দীর্ঘদিন ধরে আমি শ্বশুরবাড়িতেও যাই না বলে জানান শহিদুল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর খায়রুল কবির ঢাকাটাইমসকে বলেন, মামলার পর লিটনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিরা হাইকোর্ট থেকে জামিনে আছে। গৃহবধূ রুমি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন : Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin

সর্বশেষ খবর



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

২২ সি কে ঘোষ রোড, ময়মনসিংহ
বার্তা কক্ষ : ০১৭৩৬ ৫১৪ ৮৭২
ইমেইল : dailyjonomot@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার দৈনিক জনমত .কম

কারিগরি সহযোগিতায় BDiTZone.com