রাত ২:০৭ | বুধবার | ১১ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং | ২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

গৌরীপুর প্রার্থীকে হতে হবে বেস্ট অব দ্য বেস্ট

আশিক চৌধুরী ॥
ময়মনসিংহ ৩ গৌরীপুর আওয়ামী লীগের দুর্গ। এখানে ঐক্যবদ্ধ আওয়ালীগের সাথে বিএনপি দাড়াতে পারে না। গত ৫টি সংসদ নির্বাচনের দৃষ্টান্ত এটি। কিন্তু গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হয়। বিএনপি আওয়ামী লীগে প্রায় দেড় ডজন মনোনয়ন প্রার্থী রয়েছেন। যাদের মধ্যে ৫ জন সিরিয়াস। শক্তিশালী ও সম্ভাবনাময় । তৃণমূলে যাদের অবস্থান রয়েছে।
সাবেক এমপি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডা: ক্যাপ্টেন (অব) মুজিবের জীবনদশায় শেষ নির্বাচন ছিল দশম সংসদ। তখন গৌরীপুরে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক রাজনীতি দুটি বলয়ে বিভক্ত হয়। একটি অংশ দলীয় মনোনয়ন পরিবর্তনের পক্ষে সোচ্চার হয়।
দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রায় সকলেই এই ইস্যুতে অভিন্ন অবস্থানে আসেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পরিবর্তন দাবিকে আওয়ামী লীগ হাই কমান্ড গ্রহণ করেনি।
এতে জনমনে হতাশা নামে, দলীয় নেতাকর্মীরাও মনোনয়ন বদল না হওয়ায় খুশী হয়। এই বিরূপ পরিস্থিতিতে গৌরীপুরে দলীয় সিদ্ধান্তের বিপরীতে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হননি। একথা যেমন সত্য তেমনি এটা মিথ্যা নয়- জনগন চেয়েছিলেন বিকল্প কিছু। তাই কৌশলগত ভাবে গৌরীপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে মাঠে নামানো হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী হন নাজনীন আলম।
দশম সংসদ নির্বাচনে যেখানে প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় এমপিরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয় সেখানে গৌরীপুরে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যেতে দেয়া হয়নি প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন মুজিবকে।
ভোটযুদ্ধে তাকে কাপিয়ে দিয়েছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী নাজনীন আলম। নির্বাচনের দিন বৈরি পরিবেশে নির্বাচন বর্জন করে কারচুপির প্রতিবাদ জানান তিনি। কিন্তু, মাত্র ৫০ হাজার ভোট পেয়ে সামান্য ভোটের ব্যবধানে পূণ: নির্বাচিত হন ডা: ক্যাপ্টেন মুজিব যেখানে অতীত বিএনপির সাথে প্রতিদ্বদ্বিতায় তার ভোট ব্যবধান থাকতো লক্ষাধিক।
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পরিবর্তন ইস্যুটি শুধু তৎকালীন এমপির জনপ্রিয়তা হ্রাসজনিত কারণ ছিল না। গৌরীপুরে নতুন নেতৃত্বের উত্থান ও জনপ্রিয়তাও ছিল এর কারণ।
সেই সময়ে বিশিষ্ট ব্যাংকার বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সাধারন সম্পাদক ফেরদৌস আলম এর জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে । তিনি ক্যাপ্টেন মুজিবের প্যারালাল অবস্থানে তার জনপ্রিয়তাকে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন।
সেই সময়ে আরো একজন নেতার জনপ্রিয়তা প্রতিদ্বন্দ্বী পর্যায়ে এসেছিল। তিনি কৃষিবিদ ড. সামীউল আলম লিটন। জনপ্রিয়তায় সুসংহত অবস্থানে ছিলেন তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান আলী আহম্মেদ খান পাঠান সিলভী।
আওয়ামী লীগের মনোনয়নয্দ্ধু তখন দারুন জমেছিল। টালমাটাল পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন তৎকালীন এমপি। কিন্তু মনোনয়ন বদল না হওয়ায় তৃণমূল এর জবাব দিতে গোপনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে চেয়েছিল। জনমতে উঠে এসেছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী নাজনীন আলম।
তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রার্থী ফেরদৌস আলমের সহধর্মিনী। ছাত্রলীগ নেত্রী ছিলেন। বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় নেত্রীও তিনি । ওই নির্বাচনে নাজনীন আলম হেরে গেলেও তিনি গৌরীপুরের নির্বাচনী রাজনীতিতে তার অবস্থান করে নেন। জনগনও তার সাথে আছেন।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডা: ক্যাপ্টেন মুজিবুর রহমান ফকির এমপির মৃত্যুর পর উপ নির্বাচন গৌরীপুর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের জন্য ছিল গুরুত্বপূর্ন।
বিশেষ করে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতা ফেরদৌস আলম, কৃষিবিদ ড. শামীউল আলম লিটন, কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সহ সম্পাদক মোরশেদ্জ্জুামান সেলিম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সেলভি, গৌরীপুর পৌর মেয়র রফিকুজ্জামান রফিক, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শরীফ হাসান অনু, আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাবেক জিএস অধ্যাপক মফিজুন নূর খোকা প্রমুখদের জন্য এটি ছিল দলীয় মনোনয়ন লাভের সম্ভাবনা। সংসদীয় ভোট রাজনীতিতে উত্থান পর্ব। টার্নিং পয়েন্ট
ক্যাপ্টেন মুজিবের মৃত্যুর পর গৌরীপুরে ফেরদৌস আলম ও ড. সামীউল আলম লিটনের মধ্যে কে এগিয়ে যাবেন সেই প্রশ্নে ছিল জল্পনা কল্পনা।
কিন্তু উপ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রার্থী হিসেবে নাজনীন আলম কেও সামনে এগিয়ে দিয়ে ব্যাকফুটে চলে আসেন ফেরদৌস আলম।
নির্বাচনে অনেকটা চমক হিসেবে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয় বীরমুক্তিযোদ্ধা এড. নাজিম উদ্দিন আহম্মেদকে। বর্ষীয়ান এই নেতা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সর্বশেষ সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি ছাত্রজীবনে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের কমিটিতে। যিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বর্তমানে প্রেসিডিয়াম সদস্য। ফলে বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ উপ নির্বাচনে গৌরীপুরের এমপি হওয়ার মধ্য দিয়ে গৌরীপুরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পরিবর্তনের সে স্বপ্নকে সামনে রেখে অনেকে অগ্রসর হচ্ছিলেন্ তারা এখন নতুন বাস্তবতায় অন্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
গৌরীপুরে উপ নির্বাচনে বিজয়ী এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ পরবর্তী নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে আশাবাদ।
মনোনয়ন পরিবর্তন না হলে তিনিই একাদশ সংসদ নির্বাচনে লড়বেন। ফলে অন্যাত্র মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সামনে থাকবে আরো অপেক্ষার পালা।
আর , গত উপ নির্বাচন দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী নাজনীন আলমকে পরবর্তী নির্বাচনে মনোনয়ন দেবার কথা দেয়া ছিল । উপ নির্বাচনে নিজ প্রার্থীতা প্রত্যাহার করার পর থেকে তিনি মাঠে রয়েছেন। জেলায় তিনি একজন নারী নেত্রী যিনি সরাসরি ভোটযুদ্ধ অবর্তীণ হতে প্রস্তুত।
মনোনয়ন পরিবর্তন করা বা না করা নারী নেত্রীকে দেয়া কথা রাখা না রাখা , ছাড়াও গৌরীপুরে দলীয় মনোনয়নে ভোটের রাজনীতি বিবেচনায় দলীয় মনোনয়নে কী সিদ্ধান্ত নেন আওয়ামী লীগ হাই কমান্ড সে সম্পর্কে শেষ কথা বলার এখনো সময় হয়নি। সময়ই বলে দিবে সে কথা
কেননা গৌরীপুর ভোট মানচিত্রে জনপ্রিয়তা, গ্রহণ যোগ্যতা ও রাজনৈতিক ভূমিকা ও অবদান রাখার ক্ষেত্রে কৃষিবিদ ড. সামীউল আলম লিটনও জনমতে কারো চেয়ে পিছিয়ে নেই। বরং এ মুহূর্তে জনসমর্থন ও মাঠ গুছানোর ক্ষেত্রে তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে, তৃণমূলের ঐক্য ও জনসমর্থনে ভোটযুদ্ধে বিএনপিকে প্রতিহত করতে তার সক্ষমতা বেশি। এই সক্ষমতার ফোকাস এর কারণে তিনি ক্রমশ: জনপ্রিয়।
সব দেখে শুনে মনে হয়- গৌরীপুরে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন যাই হোক এখানে এমন প্রার্থী প্রয়োজন যিনি আওয়ামী লীগের ভেতর ঐক্যের জন্য হবেন সেরা বিকল্প। বেস্ট অব দ্য বেস্ট। নাজিম,নাজনীন লিটনের মধ্যেই যাবে দলীয় মনোনয়ন । নৌকা।

Print Friendly, PDF & Email
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন : Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» নিবেদিত মাঠ কর্মীদের সমন্বয়ে ৩২,৩৩ নং আওয়ামী লীগের নয়া কমিটি অনুমোদন

» ১৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগে দক্ষ সংগঠক আসাদুজ্জামান রুমেল

» মহিলা আঃ লীগে পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হলেন নুরুন নাহার সম্পাদক সেলিনা

» ফুলবাড়ীয়ায় মুক্তিযোদ্ধার উপর হামলা;শাস্তির দাবিতে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের স্বারকলিপি

» যুবলীগকে দক্ষিণ এশিয়ায় সুপরিচিত করেছেন শেখ ফজলুল হক মনি-এড.আজহারুল ইসলাম

» ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগের উদ্যেগে ফজলুল হক মনির ৮০ তম জন্মবার্ষিকী পালন

» ১৪ মাসে ১৩ বার শ্রেষ্ঠ ওসি শাহ কামাল আকন্দ

» ঢাকা টাইমস সম্পাদককে হুমকির প্রতিবাদে ময়মনসিংহে মানববন্ধন

» নবনির্বাচিত স্বেচ্ছাসেবকলীগ সাধারণ সম্পাদকে ময়মনসিংহে অভিনন্দন

» আফজাল বাবুকে সম্পাদক করায় ময়মনসিংহে অভিনন্দনের ঝড়

» তথাকথিত সংবাদ সম্মেলনের নামে চাদাঁবাজির অভিযোগ আড়ালের চেষ্টা

» বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাশার জায়গায় পৌছুতে পেড়েছে আজকের পুলিশ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

» এখনও মানুষকে একটা ভালো সেবা দেয়া আমরা শিখিনি- ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক

» করদাতারাই দেশ উন্নয়নের মূল নেয়ামক- সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

» ২০ গজের মধ্যেই চুরি, পুলিশ ব্যস্ত ফেসবুকিং নিয়ে;ময়মনসিংহ রেলওয়ে ষ্টেশন

আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

২২ সি কে ঘোষ রোড, ময়মনসিংহ
বার্তা কক্ষ : ০১৭৩৬ ৫১৪ ৮৭২
ইমেইল : dailyjonomot@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার দৈনিক জনমত .কম

কারিগরি সহযোগিতায় BDiTZone.com

,

basic-bank

গৌরীপুর প্রার্থীকে হতে হবে বেস্ট অব দ্য বেস্ট

আশিক চৌধুরী ॥
ময়মনসিংহ ৩ গৌরীপুর আওয়ামী লীগের দুর্গ। এখানে ঐক্যবদ্ধ আওয়ালীগের সাথে বিএনপি দাড়াতে পারে না। গত ৫টি সংসদ নির্বাচনের দৃষ্টান্ত এটি। কিন্তু গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হয়। বিএনপি আওয়ামী লীগে প্রায় দেড় ডজন মনোনয়ন প্রার্থী রয়েছেন। যাদের মধ্যে ৫ জন সিরিয়াস। শক্তিশালী ও সম্ভাবনাময় । তৃণমূলে যাদের অবস্থান রয়েছে।
সাবেক এমপি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডা: ক্যাপ্টেন (অব) মুজিবের জীবনদশায় শেষ নির্বাচন ছিল দশম সংসদ। তখন গৌরীপুরে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক রাজনীতি দুটি বলয়ে বিভক্ত হয়। একটি অংশ দলীয় মনোনয়ন পরিবর্তনের পক্ষে সোচ্চার হয়।
দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রায় সকলেই এই ইস্যুতে অভিন্ন অবস্থানে আসেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পরিবর্তন দাবিকে আওয়ামী লীগ হাই কমান্ড গ্রহণ করেনি।
এতে জনমনে হতাশা নামে, দলীয় নেতাকর্মীরাও মনোনয়ন বদল না হওয়ায় খুশী হয়। এই বিরূপ পরিস্থিতিতে গৌরীপুরে দলীয় সিদ্ধান্তের বিপরীতে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হননি। একথা যেমন সত্য তেমনি এটা মিথ্যা নয়- জনগন চেয়েছিলেন বিকল্প কিছু। তাই কৌশলগত ভাবে গৌরীপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে মাঠে নামানো হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী হন নাজনীন আলম।
দশম সংসদ নির্বাচনে যেখানে প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় এমপিরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয় সেখানে গৌরীপুরে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যেতে দেয়া হয়নি প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন মুজিবকে।
ভোটযুদ্ধে তাকে কাপিয়ে দিয়েছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী নাজনীন আলম। নির্বাচনের দিন বৈরি পরিবেশে নির্বাচন বর্জন করে কারচুপির প্রতিবাদ জানান তিনি। কিন্তু, মাত্র ৫০ হাজার ভোট পেয়ে সামান্য ভোটের ব্যবধানে পূণ: নির্বাচিত হন ডা: ক্যাপ্টেন মুজিব যেখানে অতীত বিএনপির সাথে প্রতিদ্বদ্বিতায় তার ভোট ব্যবধান থাকতো লক্ষাধিক।
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পরিবর্তন ইস্যুটি শুধু তৎকালীন এমপির জনপ্রিয়তা হ্রাসজনিত কারণ ছিল না। গৌরীপুরে নতুন নেতৃত্বের উত্থান ও জনপ্রিয়তাও ছিল এর কারণ।
সেই সময়ে বিশিষ্ট ব্যাংকার বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সাধারন সম্পাদক ফেরদৌস আলম এর জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে । তিনি ক্যাপ্টেন মুজিবের প্যারালাল অবস্থানে তার জনপ্রিয়তাকে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন।
সেই সময়ে আরো একজন নেতার জনপ্রিয়তা প্রতিদ্বন্দ্বী পর্যায়ে এসেছিল। তিনি কৃষিবিদ ড. সামীউল আলম লিটন। জনপ্রিয়তায় সুসংহত অবস্থানে ছিলেন তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান আলী আহম্মেদ খান পাঠান সিলভী।
আওয়ামী লীগের মনোনয়নয্দ্ধু তখন দারুন জমেছিল। টালমাটাল পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন তৎকালীন এমপি। কিন্তু মনোনয়ন বদল না হওয়ায় তৃণমূল এর জবাব দিতে গোপনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে চেয়েছিল। জনমতে উঠে এসেছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী নাজনীন আলম।
তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রার্থী ফেরদৌস আলমের সহধর্মিনী। ছাত্রলীগ নেত্রী ছিলেন। বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় নেত্রীও তিনি । ওই নির্বাচনে নাজনীন আলম হেরে গেলেও তিনি গৌরীপুরের নির্বাচনী রাজনীতিতে তার অবস্থান করে নেন। জনগনও তার সাথে আছেন।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডা: ক্যাপ্টেন মুজিবুর রহমান ফকির এমপির মৃত্যুর পর উপ নির্বাচন গৌরীপুর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের জন্য ছিল গুরুত্বপূর্ন।
বিশেষ করে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতা ফেরদৌস আলম, কৃষিবিদ ড. শামীউল আলম লিটন, কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সহ সম্পাদক মোরশেদ্জ্জুামান সেলিম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সেলভি, গৌরীপুর পৌর মেয়র রফিকুজ্জামান রফিক, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শরীফ হাসান অনু, আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাবেক জিএস অধ্যাপক মফিজুন নূর খোকা প্রমুখদের জন্য এটি ছিল দলীয় মনোনয়ন লাভের সম্ভাবনা। সংসদীয় ভোট রাজনীতিতে উত্থান পর্ব। টার্নিং পয়েন্ট
ক্যাপ্টেন মুজিবের মৃত্যুর পর গৌরীপুরে ফেরদৌস আলম ও ড. সামীউল আলম লিটনের মধ্যে কে এগিয়ে যাবেন সেই প্রশ্নে ছিল জল্পনা কল্পনা।
কিন্তু উপ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রার্থী হিসেবে নাজনীন আলম কেও সামনে এগিয়ে দিয়ে ব্যাকফুটে চলে আসেন ফেরদৌস আলম।
নির্বাচনে অনেকটা চমক হিসেবে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয় বীরমুক্তিযোদ্ধা এড. নাজিম উদ্দিন আহম্মেদকে। বর্ষীয়ান এই নেতা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সর্বশেষ সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি ছাত্রজীবনে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের কমিটিতে। যিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বর্তমানে প্রেসিডিয়াম সদস্য। ফলে বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ উপ নির্বাচনে গৌরীপুরের এমপি হওয়ার মধ্য দিয়ে গৌরীপুরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পরিবর্তনের সে স্বপ্নকে সামনে রেখে অনেকে অগ্রসর হচ্ছিলেন্ তারা এখন নতুন বাস্তবতায় অন্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
গৌরীপুরে উপ নির্বাচনে বিজয়ী এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ পরবর্তী নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে আশাবাদ।
মনোনয়ন পরিবর্তন না হলে তিনিই একাদশ সংসদ নির্বাচনে লড়বেন। ফলে অন্যাত্র মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সামনে থাকবে আরো অপেক্ষার পালা।
আর , গত উপ নির্বাচন দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী নাজনীন আলমকে পরবর্তী নির্বাচনে মনোনয়ন দেবার কথা দেয়া ছিল । উপ নির্বাচনে নিজ প্রার্থীতা প্রত্যাহার করার পর থেকে তিনি মাঠে রয়েছেন। জেলায় তিনি একজন নারী নেত্রী যিনি সরাসরি ভোটযুদ্ধ অবর্তীণ হতে প্রস্তুত।
মনোনয়ন পরিবর্তন করা বা না করা নারী নেত্রীকে দেয়া কথা রাখা না রাখা , ছাড়াও গৌরীপুরে দলীয় মনোনয়নে ভোটের রাজনীতি বিবেচনায় দলীয় মনোনয়নে কী সিদ্ধান্ত নেন আওয়ামী লীগ হাই কমান্ড সে সম্পর্কে শেষ কথা বলার এখনো সময় হয়নি। সময়ই বলে দিবে সে কথা
কেননা গৌরীপুর ভোট মানচিত্রে জনপ্রিয়তা, গ্রহণ যোগ্যতা ও রাজনৈতিক ভূমিকা ও অবদান রাখার ক্ষেত্রে কৃষিবিদ ড. সামীউল আলম লিটনও জনমতে কারো চেয়ে পিছিয়ে নেই। বরং এ মুহূর্তে জনসমর্থন ও মাঠ গুছানোর ক্ষেত্রে তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে, তৃণমূলের ঐক্য ও জনসমর্থনে ভোটযুদ্ধে বিএনপিকে প্রতিহত করতে তার সক্ষমতা বেশি। এই সক্ষমতার ফোকাস এর কারণে তিনি ক্রমশ: জনপ্রিয়।
সব দেখে শুনে মনে হয়- গৌরীপুরে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন যাই হোক এখানে এমন প্রার্থী প্রয়োজন যিনি আওয়ামী লীগের ভেতর ঐক্যের জন্য হবেন সেরা বিকল্প। বেস্ট অব দ্য বেস্ট। নাজিম,নাজনীন লিটনের মধ্যেই যাবে দলীয় মনোনয়ন । নৌকা।

Print Friendly, PDF & Email
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন : Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin

সর্বশেষ খবর



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

২২ সি কে ঘোষ রোড, ময়মনসিংহ
বার্তা কক্ষ : ০১৭৩৬ ৫১৪ ৮৭২
ইমেইল : dailyjonomot@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার দৈনিক জনমত .কম

কারিগরি সহযোগিতায় BDiTZone.com