সন্ধ্যা ৭:০১ | বুধবার | ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং | ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

লোমহর্ষকর হত্যাকান্ড রহস্যভেদে ডিবি পুলিশের উদ্ধার অভিযান

বিল্লাল হোসেন প্রান্ত ॥
নিখোঁজ স্কুল ছাত্রকে উদ্ধারে জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম এর নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের অভিযান ফুলবাড়িয়া রোড। যাত্রা শুরু রাত ১০ টা। গন্তব্য কেশরগঞ্জ বাজার। ওসি ডিবি আশিকুর রহমান নিজেই ড্রাইভ করছেন সাংবাদিকদের বহনকারী গাড়িটি । রাতের সড়কে গাড়ি চলছে। সবার মাঝে কাজ করছে উৎকন্ঠা। এর মাঝেই গান ধরলেন দৃঢ় চেতনার পুলিশ অফিসার আশিকুর রহমান। ‘আমার সোনার ময়নাপাখি’। দারুন গান পাগল মানুষ তিনি বুঝাই যাচ্ছিল। কন্ঠও খারাপ না। গানের ফাকে ফাকে ল্যবস্তু ও বহরের খবর নিচ্ছেন। একসাথে ৭ টি গাড়ি ধেয়ে চলছে।

রাতের ফুলবাড়িয়ার জেগে থাকা মানুষগুলো কিছুটা অবাক। কি ব্যাপার পুলিশের গাড়িসমেত বহর কোথায় যাচ্ছে। কি ঘটনা? এরি মাঝে বহর ফুলবাড়িয়া বাকতা পার করেছে। সামনে কেশরগঞ্জ। মনে পড়ছে গোয়েন্দা কাহিনী মাসুদ রানার গল্পের কথা। অনেক পড়েছি। আজ একটি অভিযানে বাস্তবে স্কুল ছাত্রগুম ঘটনার রহস্য উদঘাটনের সহযাত্রী হলাম ডিবি পুলিশের সাথে। এ অভিযানের টিম লিডার এসপি সৈয়দ নুরুল ইসলাম। আমাদের গাড়িতে আছেন বাংলাদেশ প্রতিদিন জেলা প্রতিনিধি ও নিউজ টুয়েন্টিফোর এর সৈয়দ নোমান, চ্যানেল টুয়েন্টফোর ও এর রাকিবুল হাসান রুবেল ভাই, দি ডেইলি ট্রাইব্রুনাল ও ব্রেকিংনিউজ ডটকম ডটবিডি এর স্টাফ করেসপন্ডেন্ট মাসুদ রানা, আনন্দ টিভি এর হামিম ও আমি। আমাদের পেছনের গাড়িতে আছেন সময় টিভির ময়মনসিংহ প্রতিনিধি হারুন আর রশিদ, ক্যামেরায় হোসেন আলী।


হ্যা গাড়ি পৌছে গেছে গন্তব্য কেশরগঞ্জ বাজারে। অবাক আমরা চতুর্দিকে হাজার হাজার মানুষ রাত তখন ১২ টা। ডিবি পুলিশের গাড়ি থেকে তুষার নামের এক তরুণকে নামাচ্ছেন এসআই পরিমল চন্দ্র দাস ও তার সহকর্মীরা। তাকে নিয়ে পুলিশের অভিযানিক টিম পাকা সড়ক থেকে বাজারের দিকে হাটছেন। বাজারের ভিতরে একটি টিনসেট ঘর। এটি গুদামঘর বলে পরিচিত। এর মালিক তুষারের বড় ভাই উজ্জল। গুদামঘটির দুটি পাটিশন। ভিতরের ঘরে একটি টিনের প্রবেশ দ্বার রয়েছে। তালা দেয়া। সময় কম তাই পায়ে লাথি দিয়েই দরজা ভেঙ্গে ফেললেন গোয়েন্দা পুলিশের তদন্ত ওসি মোখলেছুর রহমান। ভিতরে নেয়া হলো আসামি তুষারকে। আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল ঘরের মেজেতে থাকা চকিটির দিকে। মাটি দেখেই বুঝা যাচ্ছিল স্থানটি সদ্য উপরানো। বুঝতে বাকি রইল না গুম হয়ে যাওয়া মেহেদি হাসান বাবু হত্যার শিকার হয়েছে। ততণে এসপি নুরুল ইসলাম,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ নওয়াজী, কোতোয়ালী সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল আমিন, ফুলবাড়ীয়া থানার ওসি শেখ কবিরুল ইসলাম ও নিহত মেহেদীর বাবা শাহজাহানসহ পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা, ইলেক্টনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সহকর্মীরা উপস্থিত। এরপর ডোম এলো মাটি খুড়া শুরু হলো। প্রায় সোয়া একঘন্টা মাটি খুড়ার পর কোমড় সমান গর্তের নিচে দেখা মিললো মেধাবী ছাত্র মেহেদীর মরদেহ। এসপি সৈয়দ নুরুল ইসলাম কান্না জড়িত অবস্থায় নিজেকে একটু সামলে নিয়েই শক্ত করে বাহ হাতে বুকের সাথে ধরলেন নিহত মেহেদীর বাবা শাহজাহানকে। তার মুখ দিয়ে চিৎকার বের হচ্ছে না। দু চোখ দিয়ে আর্তনাদের পানি বেয়ে পড়ছে। বুকের ধনের হাত পা বাধাঁ বিকৃত দেহ মাটি সরে যতটাই পরিস্কার হচ্ছে ততটাই বুক ফাটা আর্তনাদে কেদে উঠছেন সে। এরই মাঝে লাশ মাটি থেকে তোলা হলো। কোমড় থেকে মাথা পর্যন্ত লোহার গুনা দিয়ে পেচিয়ে মাথার উপর তালা লাগানো হয়েছে তার। এ এক নৃশংস, মর্মান্তিক, লোমহর্ষকর হত্যাকান্ড। নিখোঁজের আড়াই মাস পর রহস্যভেদ করে লাশ ও হত্যার কারণ উদঘাটন করলো জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এ হত্যাকান্ডের কারণ প্রেমঘটিত।

নিখোঁজের আড়াইমাস পর স্কুল ছাত্রের লাশ উদ্ধার

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় অপহরন করে হত্যার আড়াইমাস পর মাটিখুঁড়ে নিচ থেকে মেহেদী হাসান বাবু (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে উপজেলার নাওগাঁও ইউনিয়নের পলাশিহাটা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীায় অংশগ্রহন করে জিপিএ-৫ পেয়েছিল। মেহেদী নাওগাঁও ইউনিয়নের শিবগঞ্জ গ্রামের প্রবাসী শাহজাহানের ছেলে মেহেদী।

বৃহস্পতিবার (২৪ মে ) মধ্যরাত ১ টার দিকে উপজেলার কেশরগঞ্জ বাজারের একটি পরিত্যাক্ত গোডাউনের ভিতর মাটি খুড়ে এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় হত্যার মূলহোতা তুষার, তার বড় ভাই উজ্জল ও তুষারের সহযোগী আল আমিনসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আশিকুর রহমান এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত ৬ মার্চ মেহেদীকে তার নিজ বাড়ি থেকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে যায় তুষার। এরপর তাকে অপহরণের কথা বলে ৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এ ঘটনায় ফুলবাড়ীয়া থানায় একটি অপহরন মামলা করেন মেহেদীর পরিবার। পরে ডিবি পুলিশের কাছে মামলাটি হস্তান্তর করা হয়।

তিনি আরও জানান, ডিবিতে মামলা আসার পর এসআই পরিমল চন্দ্র দাস তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে তুষার ও আল আমিনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অপহরনের আসল রহস্য বের হয়ে আসে। তারা দুইবন্ধু প্রেম ঘটিত ঘটনার জেরে মেহেদীকে নৃশংস ভাবে হত্যার পর লাশ মাটি চাপা দেয়ার কথা শিকার করে।
জানা যায়, উপজেলার পলাশিহাটা উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্র মেহেদী হাসান এবং আল আমিন ও তুষার একই স্কুলের ছাত্র। ওই স্কুলের একটি ছাত্রীর সাথে প্রেমঘটিত বিষয়ে বাধার কারণ হয় মেহেদী। আর সেখান থেকেই হত্যা পরিকল্পনা ও হত্যার কারণ বলে জানা য়ায়।

বুধবার (২৩ মে) রাত ১১ টার দিকে তুষারের তথ্যমতে মেহেদী লাশ উত্তোলন করতে ফুলবাড়ীয়ার কেশরগঞ্জ বাজার এলাকায় অভিযানে নামে পুলিশ।

ওসি আশিক আরও বলেন, বৃহস্পতিবার (২৪ মে) মধ্যরাত ১ টার দিকে সেখানে পৌছে তুষারের বড় ভাইয়ের হাফ বিল্ডিং পরিত্যাক্ত একটি গোডাউনের ভিতর মাটি খুঁড়ে মেহেদীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য মমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় তুষার, তার বড় ভাই উজ্জল ও সহযোগী বন্ধু আল আমিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

Print Friendly, PDF & Email
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন : Share on Facebook
Facebook
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» অনিয়ন্ত্রিত ময়মনসিংহ ছাত্রলীগ! দায় কাদের?

» প্রতিবন্ধী ও অসহায়দের মাঝে ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগের খাবার বিতরণ

» প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে জেলা যুবলীগের বৃক্ষ রোপণ ও খাবার বিতরণ

» ময়মনসিংহের কৃষ্টপুরে নিয়ম বহির্ভূত বিল্ডিংয়ে জনদুর্ভোগ

» ময়মনসিংহে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের প্রতিবাদ সমাবেশ, মানববন্ধন

» ছাত্রলীগের পদ প্রত্যাশায় ত্যাগী নেতাদের নিয়ে সমালোচনার প্রতিযোগীতা

» পরাণগঞ্জে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন প্রতিবাদ সমাবেশ

» কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের আগস্ট আলোচনা সভায় ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগ

» দলীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সম্মেলন;একান্ত স্বাক্ষাৎকারে-সাংঠনিক সম্পাদক নাদেল

» সংগ্রাম ছাড়া, রাজপথ ছাড়া নেতা হওয়া যায়না,চক্রান্ত করা যায়- ইউসুফ খান পাঠান

» ময়মনসিংহে দোকানকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ককটেল চার্জ ৩১ আটক

» ময়মনসিংহে ফের ৮জনের মৃত্যু; মানুষ খেকো মহাসড়ক ১৪ দিনে কেড়ে নিলো ২২ প্রাণ

» ময়মনসিংহের সড়কে মৃত্যুর মিছিল! ১০ দিনের ব্যবধানে ঝরে গেল ১৫ তাজা প্রাণ

» ধোবাউড়ায় গৃহবধূর মৃত্যু; আত্মহত্যা না হত্যা তা নিয়ে ধুম্রজাল!

» ময়মনসিংহে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ৭

আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

২২ সি কে ঘোষ রোড, ময়মনসিংহ
বার্তা কক্ষ : ০১৭৩৬ ৫১৪ ৮৭২
ইমেইল : dailyjonomot@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার দৈনিক জনমত .কম

কারিগরি সহযোগিতায় BDiTZone.com

,

basic-bank

লোমহর্ষকর হত্যাকান্ড রহস্যভেদে ডিবি পুলিশের উদ্ধার অভিযান

বিল্লাল হোসেন প্রান্ত ॥
নিখোঁজ স্কুল ছাত্রকে উদ্ধারে জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম এর নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের অভিযান ফুলবাড়িয়া রোড। যাত্রা শুরু রাত ১০ টা। গন্তব্য কেশরগঞ্জ বাজার। ওসি ডিবি আশিকুর রহমান নিজেই ড্রাইভ করছেন সাংবাদিকদের বহনকারী গাড়িটি । রাতের সড়কে গাড়ি চলছে। সবার মাঝে কাজ করছে উৎকন্ঠা। এর মাঝেই গান ধরলেন দৃঢ় চেতনার পুলিশ অফিসার আশিকুর রহমান। ‘আমার সোনার ময়নাপাখি’। দারুন গান পাগল মানুষ তিনি বুঝাই যাচ্ছিল। কন্ঠও খারাপ না। গানের ফাকে ফাকে ল্যবস্তু ও বহরের খবর নিচ্ছেন। একসাথে ৭ টি গাড়ি ধেয়ে চলছে।

রাতের ফুলবাড়িয়ার জেগে থাকা মানুষগুলো কিছুটা অবাক। কি ব্যাপার পুলিশের গাড়িসমেত বহর কোথায় যাচ্ছে। কি ঘটনা? এরি মাঝে বহর ফুলবাড়িয়া বাকতা পার করেছে। সামনে কেশরগঞ্জ। মনে পড়ছে গোয়েন্দা কাহিনী মাসুদ রানার গল্পের কথা। অনেক পড়েছি। আজ একটি অভিযানে বাস্তবে স্কুল ছাত্রগুম ঘটনার রহস্য উদঘাটনের সহযাত্রী হলাম ডিবি পুলিশের সাথে। এ অভিযানের টিম লিডার এসপি সৈয়দ নুরুল ইসলাম। আমাদের গাড়িতে আছেন বাংলাদেশ প্রতিদিন জেলা প্রতিনিধি ও নিউজ টুয়েন্টিফোর এর সৈয়দ নোমান, চ্যানেল টুয়েন্টফোর ও এর রাকিবুল হাসান রুবেল ভাই, দি ডেইলি ট্রাইব্রুনাল ও ব্রেকিংনিউজ ডটকম ডটবিডি এর স্টাফ করেসপন্ডেন্ট মাসুদ রানা, আনন্দ টিভি এর হামিম ও আমি। আমাদের পেছনের গাড়িতে আছেন সময় টিভির ময়মনসিংহ প্রতিনিধি হারুন আর রশিদ, ক্যামেরায় হোসেন আলী।


হ্যা গাড়ি পৌছে গেছে গন্তব্য কেশরগঞ্জ বাজারে। অবাক আমরা চতুর্দিকে হাজার হাজার মানুষ রাত তখন ১২ টা। ডিবি পুলিশের গাড়ি থেকে তুষার নামের এক তরুণকে নামাচ্ছেন এসআই পরিমল চন্দ্র দাস ও তার সহকর্মীরা। তাকে নিয়ে পুলিশের অভিযানিক টিম পাকা সড়ক থেকে বাজারের দিকে হাটছেন। বাজারের ভিতরে একটি টিনসেট ঘর। এটি গুদামঘর বলে পরিচিত। এর মালিক তুষারের বড় ভাই উজ্জল। গুদামঘটির দুটি পাটিশন। ভিতরের ঘরে একটি টিনের প্রবেশ দ্বার রয়েছে। তালা দেয়া। সময় কম তাই পায়ে লাথি দিয়েই দরজা ভেঙ্গে ফেললেন গোয়েন্দা পুলিশের তদন্ত ওসি মোখলেছুর রহমান। ভিতরে নেয়া হলো আসামি তুষারকে। আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল ঘরের মেজেতে থাকা চকিটির দিকে। মাটি দেখেই বুঝা যাচ্ছিল স্থানটি সদ্য উপরানো। বুঝতে বাকি রইল না গুম হয়ে যাওয়া মেহেদি হাসান বাবু হত্যার শিকার হয়েছে। ততণে এসপি নুরুল ইসলাম,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ নওয়াজী, কোতোয়ালী সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল আমিন, ফুলবাড়ীয়া থানার ওসি শেখ কবিরুল ইসলাম ও নিহত মেহেদীর বাবা শাহজাহানসহ পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা, ইলেক্টনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সহকর্মীরা উপস্থিত। এরপর ডোম এলো মাটি খুড়া শুরু হলো। প্রায় সোয়া একঘন্টা মাটি খুড়ার পর কোমড় সমান গর্তের নিচে দেখা মিললো মেধাবী ছাত্র মেহেদীর মরদেহ। এসপি সৈয়দ নুরুল ইসলাম কান্না জড়িত অবস্থায় নিজেকে একটু সামলে নিয়েই শক্ত করে বাহ হাতে বুকের সাথে ধরলেন নিহত মেহেদীর বাবা শাহজাহানকে। তার মুখ দিয়ে চিৎকার বের হচ্ছে না। দু চোখ দিয়ে আর্তনাদের পানি বেয়ে পড়ছে। বুকের ধনের হাত পা বাধাঁ বিকৃত দেহ মাটি সরে যতটাই পরিস্কার হচ্ছে ততটাই বুক ফাটা আর্তনাদে কেদে উঠছেন সে। এরই মাঝে লাশ মাটি থেকে তোলা হলো। কোমড় থেকে মাথা পর্যন্ত লোহার গুনা দিয়ে পেচিয়ে মাথার উপর তালা লাগানো হয়েছে তার। এ এক নৃশংস, মর্মান্তিক, লোমহর্ষকর হত্যাকান্ড। নিখোঁজের আড়াই মাস পর রহস্যভেদ করে লাশ ও হত্যার কারণ উদঘাটন করলো জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এ হত্যাকান্ডের কারণ প্রেমঘটিত।

নিখোঁজের আড়াইমাস পর স্কুল ছাত্রের লাশ উদ্ধার

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় অপহরন করে হত্যার আড়াইমাস পর মাটিখুঁড়ে নিচ থেকে মেহেদী হাসান বাবু (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে উপজেলার নাওগাঁও ইউনিয়নের পলাশিহাটা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীায় অংশগ্রহন করে জিপিএ-৫ পেয়েছিল। মেহেদী নাওগাঁও ইউনিয়নের শিবগঞ্জ গ্রামের প্রবাসী শাহজাহানের ছেলে মেহেদী।

বৃহস্পতিবার (২৪ মে ) মধ্যরাত ১ টার দিকে উপজেলার কেশরগঞ্জ বাজারের একটি পরিত্যাক্ত গোডাউনের ভিতর মাটি খুড়ে এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় হত্যার মূলহোতা তুষার, তার বড় ভাই উজ্জল ও তুষারের সহযোগী আল আমিনসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আশিকুর রহমান এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত ৬ মার্চ মেহেদীকে তার নিজ বাড়ি থেকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে যায় তুষার। এরপর তাকে অপহরণের কথা বলে ৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এ ঘটনায় ফুলবাড়ীয়া থানায় একটি অপহরন মামলা করেন মেহেদীর পরিবার। পরে ডিবি পুলিশের কাছে মামলাটি হস্তান্তর করা হয়।

তিনি আরও জানান, ডিবিতে মামলা আসার পর এসআই পরিমল চন্দ্র দাস তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে তুষার ও আল আমিনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অপহরনের আসল রহস্য বের হয়ে আসে। তারা দুইবন্ধু প্রেম ঘটিত ঘটনার জেরে মেহেদীকে নৃশংস ভাবে হত্যার পর লাশ মাটি চাপা দেয়ার কথা শিকার করে।
জানা যায়, উপজেলার পলাশিহাটা উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্র মেহেদী হাসান এবং আল আমিন ও তুষার একই স্কুলের ছাত্র। ওই স্কুলের একটি ছাত্রীর সাথে প্রেমঘটিত বিষয়ে বাধার কারণ হয় মেহেদী। আর সেখান থেকেই হত্যা পরিকল্পনা ও হত্যার কারণ বলে জানা য়ায়।

বুধবার (২৩ মে) রাত ১১ টার দিকে তুষারের তথ্যমতে মেহেদী লাশ উত্তোলন করতে ফুলবাড়ীয়ার কেশরগঞ্জ বাজার এলাকায় অভিযানে নামে পুলিশ।

ওসি আশিক আরও বলেন, বৃহস্পতিবার (২৪ মে) মধ্যরাত ১ টার দিকে সেখানে পৌছে তুষারের বড় ভাইয়ের হাফ বিল্ডিং পরিত্যাক্ত একটি গোডাউনের ভিতর মাটি খুঁড়ে মেহেদীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য মমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় তুষার, তার বড় ভাই উজ্জল ও সহযোগী বন্ধু আল আমিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

Print Friendly, PDF & Email
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন : Share on Facebook
Facebook
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin

সর্বশেষ খবর



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

২২ সি কে ঘোষ রোড, ময়মনসিংহ
বার্তা কক্ষ : ০১৭৩৬ ৫১৪ ৮৭২
ইমেইল : dailyjonomot@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার দৈনিক জনমত .কম

কারিগরি সহযোগিতায় BDiTZone.com