রাত ১১:৪৫ | শুক্রবার | ২৩শে আগস্ট, ২০১৯ ইং | ৮ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মোশতাকের সরকার যে সাংবিধানিক ছিলো না নিজের ভাষণেই উল্লেখ করেছিলেন তিনি

পনেরই আগস্টের অভ্যুথানের মধ্যদিয়ে যে সরকার গঠিত হয়েছিল তা যে সাংবিধানিকভাবে বৈধ ছিলো না। সরকার প্রধান হিসেবে খন্দকার মোশতাক আহমদও তার প্রথম ভাষণে তা উল্লেখ করেছিলেন।
অবশ্য পরবর্তি সময়ে হাইকোর্টের একটি রায়েও মোশতাকসহ আরো কয়েকজনকে অবৈধ ক্ষমতা দখলকারি হিসেবে রায় দেয়া হয়েছে।
পনেরই আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর প্রেসিডেন্ট হিসেবে অধিষ্ঠিত হন খন্দকার মোশতাক আহমদ। সামরিক আইনের জবর দখলকারী স্বত্বের জোরে, সরকার ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে জাতির উদ্দেশ্যে রেডিও ও টেলিভিশনে তিনি এদিন এক ভাষণ দেন।
১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট দৈনিক ইত্তেফাকে এ সংক্রান্ত সংবাদ ছাপা হয় । ভাষণে মোশতাক এক ঐতিহাসিক প্রয়োজনে এবং বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের সঠিক ও সত্যিকারের আকাঙ্খাকে বাস্তবে রুপদানের পূতপবিত্র কর্তব্য সামগ্রিক ও সমষ্টিগতভাবে সম্পাদনের জন্য করুণাময়ের দোয়ার ওপর ভরসা করে রাষ্ট্রপতি হিসেবে সরকারের দাযিত্ব তার ওপর অর্পিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
তবে তিনি বলেন, দেশের শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন সর্ব মহলের কাম্য হওয়া সত্ত্বেও বিধান অনুযায়ী তা সম্ভব না হওয়ায় সরকার পরিবর্তনের জন্য সামরিক বাহিনীকে এগিয়ে আসতে হয়েছে ।
মোশতাকের এই ভাষণে অবশ্য আরো একটি দাবি করা হয়েছে সেনাবাহিনীও এই পরিবর্তনের জন্য কাজ করেছে এবং সরকারের (তার) প্রতি অকুন্ঠ আনুগত্য ও আস্থা প্রকাশ করেছেন। তবে সেনাবাহিনীর পুরো অংশ এই ষড়যন্ত্র এবং অভ্যুথানের সাথে জড়িত ছিলো তা কিন্তু খোদ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়নি। আওয়ামী লীগ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল মনে করে, সেনাবাহিনীর বিপদগামী একটি অংশ এ হত্যাকান্ডে অংশগ্রহণ করেছিল।
১৯৮০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গবন্ধুসহ চার নেতা হত্যার তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছিল লন্ডনে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুই কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা, মনসুর আলীর পুত্র মোহাম্মদ সেলিম এবং সৈয়দ নজরুল ইসলামের পুত্র সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের আবেদনক্রমে স্যার থমাস উইলিয়ামস কিউ. সি. এমপি’র নেতৃত্বে এই কমিশন গঠন করা হয়।
পরবর্তি সময়ে কমিশন বিভিন্ন প্রমাণ সম্বলিত দলিলপত্রাদি পরীক্ষা করে এই সিদ্ধান্তে উপণীত হন যে, এ হত্যাকান্ডগুলো অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত কতিপয় সামরিক অফিসারের নেতৃত্বে সামরিক বাহিনীর স্বল্পসংখ্যক ব্যক্তির দ্বারা সংগঠিত হয়।
অন্যদিকে বিধান অনুযায়ী পরিবর্তন সম্ভব না হওয়ার কথা বলে নিজেই নিজের সরকারকে অবৈধতার সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন মোশতাক। মোশতাক ক্ষমতায় ছিলেন মাত্র ৮২ দিন। এরই মধ্যে দেশকে পাকিস্তানীকরণের দিকে এগিয়ে নেয়া ছাড়া তার সবচেয়ে বড় দুটি কীর্তি হলো জেলে জাতীয় চার নেতাকে খুন এবং ১৫ আগস্টের খুনীদের বিচার করা যাবে না- দায়মুক্তির অধ্যাদেশ জারি করা। পঁচাত্তরের ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি এই অধ্যাদেশ জারি করেন। আর জেলে নির্মম হত্যাকান্ড ঘটান ৩ নভেম্বর ভোর রাতে।
গোলাম মুরশিদ তার ‘মুক্তিযুদ্ধ ও তারপর’ গ্রন্থে লিখেছেন মোশতাক জেলহত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন কেবল ফারুক আর রশিদকে নিয়ে। তিনি ঠিক করেছিলেন যে, যে কোন পাল্টা অভ্যুথান হলে কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক তাজউদ্দিন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মনসুর আলী এবং কামারুজ্জামানকে হত্যা করা হবে। যাতে নতুন সরকার গঠিত হলেও এই নেতারা তাতে নেতৃত্ব দিতে না পারেন।
মোশতাক রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে যেতে বাধ্য হন ৬ নভেম্বর। রাষ্ট্রপতি হিসেবে ক্ষমতা লাভ করেন বিচারপতি আবু সাদত সায়েম। তবে মোশতাক অথবা সায়েমের অধীনে যে সরকার ছিল, তা আদৌ বৈধ ছিলো না। এরা দুজনেই ক্ষমতায় বসেছিলেন সম্পূর্ণ বেআইনি পথে। আর এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তি সময়ে জিয়াউর রহমান এবং এরশাদ ক্ষমতায় আসলেও সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী বাতিল করে ২০১০ সালে হাইকোর্টের একটি রায়ে খন্দকার মোশতাক আহমেদ , আবু সা‘দাত মোহাম্মদ সায়েম ও জিয়াউর রহমান এবং হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে অবৈধ ক্ষমতা দখলকারি হিসাবে রায় দেয়া হয়।

Print Friendly, PDF & Email
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন : Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» ময়মনসিংহ ক্লাব পাড়ায় র‍্যাবের অভিযান;জরিমানা

» পাগলায় হত্যা মামলার আসামি বন্দুকযুদ্ধে নিহত

» শেখ হাসিনাকে বাঁচিয়ে বাংলাদেশকে বাঁচানো হয়েছে- মোহিত উর রহমান শান্ত

» গারো মেয়েকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মামলা পদ্ধা ক্লিনিকের মালিক আটক

» ময়মনসিংহে সড়ক দূর্ঘটনায় একই পরিবারের নিহত ৪

» যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন বঙ্গবন্ধু থাকবে -মোহিত উর রহমান শান্ত

» ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঠিকাদার মুরাদের আয়োজনে আলোচনা সভা

» নির্ধারিত টোলে দাপুনিয়ায় ঐতিহাসিক কুরবানির পশুর হাট

» জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে কোতোয়ালী থানায় চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা

» ময়মনসিংহ দুদকের অভিযানে পাসপোর্ট দালাল গ্রেফতার, ১৫ দিনের কারাদণ্ড

» দেশিয় অস্ত্র গুলি মাদকসহ দিপু ও তার ৫ সহযোগী র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার

» ময়মনসিংহে বন্ধুকযুদ্ধে ধর্ষকসহ ২ যুবক নিহত, ৪ পুলিশ আহত

» ডাঃ মুশফিকুর রহমান শুভ মেমোরিয়াল হাসপাতালের নির্মান কাজের উদ্বোধন

» ঘাগড়ায় বিজিএফ চাল বিতরণ পরিদর্শন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান

» ছাত্রলীগকে করায়ত্ত করার রাজনীতিতে অস্থির আনন্দমোহন কলেজ

আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

২২ সি কে ঘোষ রোড, ময়মনসিংহ
বার্তা কক্ষ : ০১৭৩৬ ৫১৪ ৮৭২
ইমেইল : dailyjonomot@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার দৈনিক জনমত .কম

কারিগরি সহযোগিতায় বিডি আইটি এক্সপার্ট

,

basic-bank

মোশতাকের সরকার যে সাংবিধানিক ছিলো না নিজের ভাষণেই উল্লেখ করেছিলেন তিনি

পনেরই আগস্টের অভ্যুথানের মধ্যদিয়ে যে সরকার গঠিত হয়েছিল তা যে সাংবিধানিকভাবে বৈধ ছিলো না। সরকার প্রধান হিসেবে খন্দকার মোশতাক আহমদও তার প্রথম ভাষণে তা উল্লেখ করেছিলেন।
অবশ্য পরবর্তি সময়ে হাইকোর্টের একটি রায়েও মোশতাকসহ আরো কয়েকজনকে অবৈধ ক্ষমতা দখলকারি হিসেবে রায় দেয়া হয়েছে।
পনেরই আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর প্রেসিডেন্ট হিসেবে অধিষ্ঠিত হন খন্দকার মোশতাক আহমদ। সামরিক আইনের জবর দখলকারী স্বত্বের জোরে, সরকার ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে জাতির উদ্দেশ্যে রেডিও ও টেলিভিশনে তিনি এদিন এক ভাষণ দেন।
১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট দৈনিক ইত্তেফাকে এ সংক্রান্ত সংবাদ ছাপা হয় । ভাষণে মোশতাক এক ঐতিহাসিক প্রয়োজনে এবং বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের সঠিক ও সত্যিকারের আকাঙ্খাকে বাস্তবে রুপদানের পূতপবিত্র কর্তব্য সামগ্রিক ও সমষ্টিগতভাবে সম্পাদনের জন্য করুণাময়ের দোয়ার ওপর ভরসা করে রাষ্ট্রপতি হিসেবে সরকারের দাযিত্ব তার ওপর অর্পিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
তবে তিনি বলেন, দেশের শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন সর্ব মহলের কাম্য হওয়া সত্ত্বেও বিধান অনুযায়ী তা সম্ভব না হওয়ায় সরকার পরিবর্তনের জন্য সামরিক বাহিনীকে এগিয়ে আসতে হয়েছে ।
মোশতাকের এই ভাষণে অবশ্য আরো একটি দাবি করা হয়েছে সেনাবাহিনীও এই পরিবর্তনের জন্য কাজ করেছে এবং সরকারের (তার) প্রতি অকুন্ঠ আনুগত্য ও আস্থা প্রকাশ করেছেন। তবে সেনাবাহিনীর পুরো অংশ এই ষড়যন্ত্র এবং অভ্যুথানের সাথে জড়িত ছিলো তা কিন্তু খোদ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়নি। আওয়ামী লীগ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল মনে করে, সেনাবাহিনীর বিপদগামী একটি অংশ এ হত্যাকান্ডে অংশগ্রহণ করেছিল।
১৯৮০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গবন্ধুসহ চার নেতা হত্যার তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছিল লন্ডনে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুই কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা, মনসুর আলীর পুত্র মোহাম্মদ সেলিম এবং সৈয়দ নজরুল ইসলামের পুত্র সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের আবেদনক্রমে স্যার থমাস উইলিয়ামস কিউ. সি. এমপি’র নেতৃত্বে এই কমিশন গঠন করা হয়।
পরবর্তি সময়ে কমিশন বিভিন্ন প্রমাণ সম্বলিত দলিলপত্রাদি পরীক্ষা করে এই সিদ্ধান্তে উপণীত হন যে, এ হত্যাকান্ডগুলো অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত কতিপয় সামরিক অফিসারের নেতৃত্বে সামরিক বাহিনীর স্বল্পসংখ্যক ব্যক্তির দ্বারা সংগঠিত হয়।
অন্যদিকে বিধান অনুযায়ী পরিবর্তন সম্ভব না হওয়ার কথা বলে নিজেই নিজের সরকারকে অবৈধতার সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন মোশতাক। মোশতাক ক্ষমতায় ছিলেন মাত্র ৮২ দিন। এরই মধ্যে দেশকে পাকিস্তানীকরণের দিকে এগিয়ে নেয়া ছাড়া তার সবচেয়ে বড় দুটি কীর্তি হলো জেলে জাতীয় চার নেতাকে খুন এবং ১৫ আগস্টের খুনীদের বিচার করা যাবে না- দায়মুক্তির অধ্যাদেশ জারি করা। পঁচাত্তরের ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি এই অধ্যাদেশ জারি করেন। আর জেলে নির্মম হত্যাকান্ড ঘটান ৩ নভেম্বর ভোর রাতে।
গোলাম মুরশিদ তার ‘মুক্তিযুদ্ধ ও তারপর’ গ্রন্থে লিখেছেন মোশতাক জেলহত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন কেবল ফারুক আর রশিদকে নিয়ে। তিনি ঠিক করেছিলেন যে, যে কোন পাল্টা অভ্যুথান হলে কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক তাজউদ্দিন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মনসুর আলী এবং কামারুজ্জামানকে হত্যা করা হবে। যাতে নতুন সরকার গঠিত হলেও এই নেতারা তাতে নেতৃত্ব দিতে না পারেন।
মোশতাক রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে যেতে বাধ্য হন ৬ নভেম্বর। রাষ্ট্রপতি হিসেবে ক্ষমতা লাভ করেন বিচারপতি আবু সাদত সায়েম। তবে মোশতাক অথবা সায়েমের অধীনে যে সরকার ছিল, তা আদৌ বৈধ ছিলো না। এরা দুজনেই ক্ষমতায় বসেছিলেন সম্পূর্ণ বেআইনি পথে। আর এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তি সময়ে জিয়াউর রহমান এবং এরশাদ ক্ষমতায় আসলেও সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী বাতিল করে ২০১০ সালে হাইকোর্টের একটি রায়ে খন্দকার মোশতাক আহমেদ , আবু সা‘দাত মোহাম্মদ সায়েম ও জিয়াউর রহমান এবং হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে অবৈধ ক্ষমতা দখলকারি হিসাবে রায় দেয়া হয়।

Print Friendly, PDF & Email
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন : Share on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin

সর্বশেষ খবর



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

২২ সি কে ঘোষ রোড, ময়মনসিংহ
বার্তা কক্ষ : ০১৭৩৬ ৫১৪ ৮৭২
ইমেইল : dailyjonomot@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার দৈনিক জনমত .কম

কারিগরি সহযোগিতায় বিডি আইটি এক্সপার্ট