সকাল ১১:৩২ | বুধবার | ২৭শে মে, ২০২০ ইং | ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহে ছেলেধরা গুজবের পায়তারা, পুলিশের তৎপরতায় প্রতিহত

বিল্লাল হোসেন প্রান্তঃ

সম্প্রতি সারা দেশে ছেলেধরা গুজব আতংক চলছে। ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত ৪ টি অনভিপ্রেত ঘটনাকে ছেলেধরা বলে চালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে তিনটি মামলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে ময়মনসিংহে গুজব ষড়যন্ত্রে চক্র কাজ করছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এদের প্রতিহত করা সম্ভব।

 

 

বুধবার ২৪ জুলাই সকালে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনা তুলে ধরে এ সংক্রান্তে কথা বলেন জেলা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার হুমায়ন কবির।

 

 

প্রেস নোট সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার উজানঘাগড়া এলাকায় জৈনিক জসিম এর ঘরে রাকিব নামের এক সিধেল চোর ছুরি নিয়ে প্রবেশ করে। ঘরের লোকজনের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে সিধেল চোরকে ছেলেধরা বলে গণপিটুনি দেয়। পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে চোরকে আটক করে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে চোরের নামে মামলা দেয় পুলিশ।

 

 

দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে ভালুকা উপজেলার আমতলী গ্রামে। ওই গ্রামে বোনের বাড়িতে বেড়াতে আসে মঞ্জুরুল ও শেখ ফরিদ। মঞ্জুরুল তার বোনের সাথে বাড়ির পাশে রাস্তায় দাড়িয়ে কথা বলার সময় দুই যুবক তাদের পরিচয় জানতে চায়। পরিচয় দেয়ার পরেও সুজন ও হৃদয় নামের সেই দুই যুবক বিষয়টিকে গুজব আতংকের রূপ দিয়ে মারপিট করে তাদের কাছে চাঁদা দাবি করে। পরে পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করে মামলা দায়ের করে।

 

 

তৃতীয় ঘটনাটি ঘটে ভালুকা উপজেলার ধামশুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে। একটি কোম্পানিতে চাকরিজীবী মহিলা মালেকা খাতুন(৩৫)। ঘটনার দিন তার শরীরে জ্বর অনুভব হওয়ার অফিস থেকে বাসার উদ্দেশ্য রওনা দেয়। পথে শরীর বেশি ক্লান্ত লাগায় স্কুলের সামনে বসে পরে। সেখানে উপস্থিত লোকজন তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করলে সে নিজ জন্মস্থান ভোলার ভাষায় কথা বলে। তার কথা সন্দেহ করে ঈদগাহের মিম্বারের সাথে বেধে মারধর করে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরন করলে তার সঠিক পরিচয় পাওয়া যায়। এবং পুলিশ জানতে পারে মহিলার আচরনে পাগলামি ভাব আছে।

 

 

চতুর্থ ঘটনাটিও ঘটে ভালুকা উপজেলায়।জীবনতলা গ্রামে সাবিনা নামের এক মহিলা তার ছেলেকে নিয়ে বাড়ির পাশে দাড়িয়ে হঠাৎ গলাকাটা বলে চিৎকার দেয়। পরে জানা যায় ওই মহিলার হৃদরোগ মানসিক সমস্যাও রয়েছে।

 

 

উল্লেখ্য প্রতিটি ঘটনায় প্রতিটি স্থানের লোকজন সাময়িক আতংকিত হয়ে পরে। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌছে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনে। উপরোক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে একটি বিষয় পরিস্কার যেকোন ঘটনাকে না যেনে উস্কানিকারীদের কথায় কোন পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থি। তাই সচেতন নাগরিকদের দায়িত্ব এ ধরনের ঘটনা দেখামাত্র পুলিশকে জানানে। এতে বেচে যেতে পারে কারও জীবন। প্রতিহত হবে গুজব সন্ত্রাসীরা।

 

 

জেলা পুলিশের প্রেস ব্রিফিংএ উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এ নেওয়াজি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর মুর্শেদা বেগম, ফুলপুর সার্কেল এএসপি দীপক, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ অফিসার ইনচার্জ শাহ কামাল আকন্দ, ডিআইও ওয়ান মোখলেছুর রহমান প্রমুখ।

Print Friendly, PDF & Email
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন : Share on Facebook
Facebook
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» মমেক হাসপাতালের নতুন ভবনে কোভিড চিকিৎসার সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী

» বেসরকারি স্বাস্থ্যকর্মীদের ঈদ উপহার নগদ অর্থ দিলেন করোনা যোদ্ধা ডা: আশিক

» আফাজ উদ্দিন সরকার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ

» এসএসসি ১৯৯৯-২০০০ ব্যাচের উদ্যােগে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ

» মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাদার ইফতার ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

» ছিন্নমূলদের মাঝে খাবার বিতরণ করলো জেলা ছাত্রলীগ নেতা নাহিদুল

» ঈদের পূর্বে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পাচ্ছে না হালুয়াঘাটের ধুরাইলবাসী! ভিডিও

» বাকৃবি ২০১১-১৩ ছাত্রলীগের উদ্যোগে দরিদ্রদের মাঝে ঈদ সামগ্রী প্রদান

» ঈশ্বরগঞ্জে যুবলীগ নেতা মাহবুবের ঈদ উপহার পেলো ৪শ পরিবার

» দ্বিতীয় দিনে ৩শ পরিবারকে ঈদ উপহার দিলেন যুবলীগ নেতা রুমেল

» আগামীকাল থেকে নিত্যপণ্য ছাড়া সকল দোকানপাট বন্ধ থাকবে

» আনন্দমোহন কলেজ মাঠ থেকেই ছাত্রলীগ সভাপতি রকিবের ত্রাণ বিতরণ

» ঈদ উপহার নিয়ে এক হাজার পরিবারের পাশে যুবলীগ নেতা আসাদুজ্জামান রুমেল

» ঈদে কেনাকাটার টাকায় খাদ্য কিনে প্রতিবন্ধীদের দিলেন ময়মনসিংহের এসপি

» বিশেষ ওএমএস খাদ্য তালিকায় কারাবন্দীর নাম; সমালোচনার ঝড়

আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

২২ সি কে ঘোষ রোড, ময়মনসিংহ
বার্তা কক্ষ : ০১৭৩৬ ৫১৪ ৮৭২
ইমেইল : dailyjonomot@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার দৈনিক জনমত .কম

কারিগরি সহযোগিতায় BDiTZone.com

,

basic-bank

ময়মনসিংহে ছেলেধরা গুজবের পায়তারা, পুলিশের তৎপরতায় প্রতিহত

বিল্লাল হোসেন প্রান্তঃ

সম্প্রতি সারা দেশে ছেলেধরা গুজব আতংক চলছে। ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত ৪ টি অনভিপ্রেত ঘটনাকে ছেলেধরা বলে চালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে তিনটি মামলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে ময়মনসিংহে গুজব ষড়যন্ত্রে চক্র কাজ করছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এদের প্রতিহত করা সম্ভব।

 

 

বুধবার ২৪ জুলাই সকালে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনা তুলে ধরে এ সংক্রান্তে কথা বলেন জেলা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার হুমায়ন কবির।

 

 

প্রেস নোট সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার উজানঘাগড়া এলাকায় জৈনিক জসিম এর ঘরে রাকিব নামের এক সিধেল চোর ছুরি নিয়ে প্রবেশ করে। ঘরের লোকজনের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে সিধেল চোরকে ছেলেধরা বলে গণপিটুনি দেয়। পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে চোরকে আটক করে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে চোরের নামে মামলা দেয় পুলিশ।

 

 

দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে ভালুকা উপজেলার আমতলী গ্রামে। ওই গ্রামে বোনের বাড়িতে বেড়াতে আসে মঞ্জুরুল ও শেখ ফরিদ। মঞ্জুরুল তার বোনের সাথে বাড়ির পাশে রাস্তায় দাড়িয়ে কথা বলার সময় দুই যুবক তাদের পরিচয় জানতে চায়। পরিচয় দেয়ার পরেও সুজন ও হৃদয় নামের সেই দুই যুবক বিষয়টিকে গুজব আতংকের রূপ দিয়ে মারপিট করে তাদের কাছে চাঁদা দাবি করে। পরে পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করে মামলা দায়ের করে।

 

 

তৃতীয় ঘটনাটি ঘটে ভালুকা উপজেলার ধামশুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে। একটি কোম্পানিতে চাকরিজীবী মহিলা মালেকা খাতুন(৩৫)। ঘটনার দিন তার শরীরে জ্বর অনুভব হওয়ার অফিস থেকে বাসার উদ্দেশ্য রওনা দেয়। পথে শরীর বেশি ক্লান্ত লাগায় স্কুলের সামনে বসে পরে। সেখানে উপস্থিত লোকজন তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করলে সে নিজ জন্মস্থান ভোলার ভাষায় কথা বলে। তার কথা সন্দেহ করে ঈদগাহের মিম্বারের সাথে বেধে মারধর করে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরন করলে তার সঠিক পরিচয় পাওয়া যায়। এবং পুলিশ জানতে পারে মহিলার আচরনে পাগলামি ভাব আছে।

 

 

চতুর্থ ঘটনাটিও ঘটে ভালুকা উপজেলায়।জীবনতলা গ্রামে সাবিনা নামের এক মহিলা তার ছেলেকে নিয়ে বাড়ির পাশে দাড়িয়ে হঠাৎ গলাকাটা বলে চিৎকার দেয়। পরে জানা যায় ওই মহিলার হৃদরোগ মানসিক সমস্যাও রয়েছে।

 

 

উল্লেখ্য প্রতিটি ঘটনায় প্রতিটি স্থানের লোকজন সাময়িক আতংকিত হয়ে পরে। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌছে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনে। উপরোক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে একটি বিষয় পরিস্কার যেকোন ঘটনাকে না যেনে উস্কানিকারীদের কথায় কোন পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থি। তাই সচেতন নাগরিকদের দায়িত্ব এ ধরনের ঘটনা দেখামাত্র পুলিশকে জানানে। এতে বেচে যেতে পারে কারও জীবন। প্রতিহত হবে গুজব সন্ত্রাসীরা।

 

 

জেলা পুলিশের প্রেস ব্রিফিংএ উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এ নেওয়াজি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর মুর্শেদা বেগম, ফুলপুর সার্কেল এএসপি দীপক, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ অফিসার ইনচার্জ শাহ কামাল আকন্দ, ডিআইও ওয়ান মোখলেছুর রহমান প্রমুখ।

Print Friendly, PDF & Email
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন : Share on Facebook
Facebook
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin

সর্বশেষ খবর



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

২২ সি কে ঘোষ রোড, ময়মনসিংহ
বার্তা কক্ষ : ০১৭৩৬ ৫১৪ ৮৭২
ইমেইল : dailyjonomot@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার দৈনিক জনমত .কম

কারিগরি সহযোগিতায় BDiTZone.com