সকাল ৬:৩৫ | রবিবার | ১২ই জুলাই, ২০২০ ইং | ২৮শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মমেক হাসপাতালের নতুন ভবনে কোভিড চিকিৎসার সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী

জনমত ডেক্সঃ

একাধিক বিকল্প ব্যবস্থা থাকার পরও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের নতুন ভবনেকে কোভিড-১৯ আক্রান্তদের চিকিৎসায় ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত বা প্রস্তাবকে আত্মঘাতী হবে বলে মন্তব্য করেছেন অভিজ্ঞরা। এক্ষেত্রে সরকারের কোটি কোটি টাকার সব অত্যাধুনিক যন্ত্রাংশ ক্ষতির মুখে পড়বে বলেও আলোচনায় এসেছে। এ নিয়ে ময়মনসিংহের প্রশাসনিক, নাগরিক ও মমেক পরিচালনা পর্ষদে পৃথক মন্তব্য চলছে।

 

 

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন আট তলা ভবনকে কোভিড ডেডিকেডেট হাসপাতাল করার প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো এক পত্রে এই আপত্তির কথা জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। নাগরিক আন্দোলন নেতৃবৃন্দও এমন প্রস্তাবের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

 

 

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত কোভিড সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির এক সভায় হাসপাতালের এই নতুন ভবনটিকে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল করার প্রস্তাব ও এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হয়। ময়মনসিংহ নাগরিক আন্দোলন কমিটির সভাপতি এ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান খান ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ময়মনসিংহবাসীর প্রত্যাশা ও চাহিদার প্রেক্ষিতে গত চার বছরে নতুন ভবনে তিল তিল করে গড়ে তোলা হয়েছে বহুল প্রত্যাশিত ক্যাথল্যাব, করোনারি কেয়ার ইউনিট, আইসিইউ ও ডায়ালাইসিসসহ আধুনিক প্রযুক্তি ও চিকিৎসা সেবার ওয়ার্ড-ইউনিট। কোভিড হাসপাতালে রূপান্তরের সিদ্ধান্তয় এসব সেবা ভেঙ্গে পড়বে, ধ্বংসের মুখে পড়বে মূল্যবান মেশিনারিজ সামগ্রী।

 

 

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাছির উদ্দিন আহমেদ একাধিক পত্রিকার প্রতিনিধিকে জানান, একাধিক বিকল্প থাকার পরও নতুন আট তলা ভবনকে কোভিড করার ঘোষণা আত্মঘাতী ছাড়া আর কিছুই নয়। কোভিড চিকিৎসায় জড়িত চিকিৎসক ও নার্সসহ স্বাস্থ্য কর্মীদের থাকা খাওয়াসহ ব্যক্তিগত সুরক্ষায় সব ধরনের উদ্যোগ নেয়ার কথা উল্লেখ করে হাসপাতাল পরিচালক আরও জানান, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় হাসপাতালের নতুন ভবন ছাড়াও একাধিক বিকল্প রয়েছে।

 

 

তবে কোভিড প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান জানান, এ নিয়ে উদ্বেগের কিছুই নেই। পরিস্থিতি মোকাবেলায় এসকে হাসপাতাল, পরানগঞ্জ হাসপাতাল, নার্সিং ডরমেটরি ও সিবিএমসিএইচসহ বেসরকারী প্রাইভেট হাসপাতালকে বিকল্প হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি বেশি খারাপ হলে চূড়ান্ত পর্যায়ে হাসপাতালের নতুন ভবনকে ব্যবহার করা হবে। এই ক্ষেত্রে রোগী ছাড়া আর কিছুই স্থানান্তর করা হবে না বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

 

 

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের এই আটতলা নতুন ভবনে রয়েছে বহুল প্রত্যাশিত ক্যাথল্যাব, হৃদরোগীদের জন্য করোনারি কেয়ার ইউনিট-সিসিইউ, ইমারজেন্সি বায়োকেমেস্ট্রি ল্যাব, মরণাপন্ন রোগীদের জন্য ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট-আইসিইউ, কিডনী ডায়ালাইসিস ইউনিট, নিউরো সার্জারি, ইউরোলজি, প্লাস্টিক ও বার্ণ ইউনিট, হেমাটোলজি ওয়ার্ড, সিটি স্ক্যান, এমআরআই ও প্যাথলজি ল্যাবসহ বিশেষায়িত বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিট। অপর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন ও সেন্ট্রাল এ্যাসির এই নতুন ভবনটিকে কোভিড হাসপাতাল করা হলে গুরুত্বপূর্ণ এসব ওয়ার্ড ইউনিট ও মেশিনারিজসহ ক্যাবল,ওয়্যারিং ও প্ল্যান্ট সরিয়ে পাশের পুরনো চারতলা ভবনে স্থানান্তর করতে হবে। এ সময় মোটা অঙ্কের টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা স্পর্শকাতর মেশিনারিজ অকেজো ও বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

 

সেই সাথে ব্যাহত হবে হৃদরোগ, কিডনি, গাইনি ও জেনারেল সার্জারিসহ আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রোগীদের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম। অথচ নতুন এই ভবনের বিকল্প হিসেবে একই ক্যাম্পাসের অন্তত ২০০ শয্যার একটি নার্সিং ডরমেটরির নতুন ভবনকে কোভিড হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। কোভিড প্রতিরোধ কমিটির সদস্যরা এই ডরমেটরি পরিদর্শনও করেছিলেন। এর বাইরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের আওতাধীন সংক্রামক ব্যাধির সূর্যকান্ত হাসপাতালে ৭০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড ছাড়াও সাত শয্যার আলাদা আইসিইউতে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। ময়মনসিংহ সদরের পরাণগঞ্জ হাসপাতালে ৩০ শয্যা ও মুক্তাগাছার শারীরিক শিক্ষা কলেজে ৫০ শয্যার কোভিড রোগীদের সেবা নিয়ে প্রস্তুতি ছিল স্বাস্থ্য বিভাগের। এতসব বিকল্প থাকার পরও এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে গুঞ্জন উঠেছে নতুন আটতলা ভবনের চিকিৎসাসেবা অকার্যকর করতে একটি মহল কলকাটি নাড়ছে।

 

 

করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন ডা. এবিএম মশিউল আলম জানান, গত ২৮ এপ্রিল ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। কমিটির সদস্যরা এ সময় বলেন, দিন দিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতসহ পরিস্থিতি সামাল দিতে রোগীদের সরিয়ে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নতুন আট তলা ভবনটিকে কোভিড ডেডিকেটেড করার প্রস্তাব করা হয়। ওই সভায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এমপি, জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান, হাসপাতালের উপ পরিচালক ডাঃ লক্ষ্মীনারায়ণ মজুমদার, মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ চিত্ত রঞ্জন দেবনাথ ও সিভিল সার্জন ডা. এবিএম মশিউল আলম উপস্থিত ছিলেন। কমিটির সুপারিশ ও এই প্রস্তাবটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয় গত ৩রা মে।

Print Friendly, PDF & Email
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন : Share on Facebook
Facebook
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» রাসেল পাঠানের উদ্যােগে ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগের বৃক্ষ রোপন

» আলোচিত অপরাধ প্রবনতা প্রতিহত করতে বিট পুলিশিং- ওসি ফিরোজ তালুকদার

» যুবলীগ চেয়ারম্যানের জন্মদিন উপলক্ষে ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগের দোয়া মাহফিল

» ৬২ বছরের আস্থায় অটুট সাবেক সফল ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান

» মুক্তাগাছায় ছাগল পেপে গাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের আঘাতে যুবক নিহত

» ময়মনসিংহে পাইপগানসহ ৪ ডাকাত গ্রেফতার

» মুক্তাগাছায় সংখ্যালঘু পরিবারের জমি জবরদখলের পায়তারা;বাউন্ডারি দেয়াল ভাংচুর

» মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগের বৃক্ষ রোপণ

» আঃ লীগের ৭১ তম জন্মদিনে সাবেক ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমানের ভিডিও বার্তায় শুভেচ্ছা

» ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত চক্ষু চিকিৎসক হরি শংকর দাস

» চরাঞ্চলে ঐতিহাসিক দরবার; উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফ হোসাইনের একদিন

» গুষ্ঠিগত বিরোধে পাল্টাপাল্টি ১০ মামলা; ধান আটকে মীমাংসার পায়তারা

» পরকিয়ার জেরে লাভলী হত্যাকান্ড; হত্যাকারী ডিবির হাতে গ্রেফতার

» অজ্ঞাত সেই নারীর পরিচয় মিলেছে, হত্যাকারী সনাক্তে মাঠে নেমেছে ডিবি পুলিশ

» ফুলবাড়িয়ায় জঙ্গল থেকে অজ্ঞাত নারীর বিবস্ত্র লাশ উদ্ধার

আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

২২ সি কে ঘোষ রোড, ময়মনসিংহ
বার্তা কক্ষ : ০১৭৩৬ ৫১৪ ৮৭২
ইমেইল : dailyjonomot@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার দৈনিক জনমত .কম

কারিগরি সহযোগিতায় BDiTZone.com

,

basic-bank

মমেক হাসপাতালের নতুন ভবনে কোভিড চিকিৎসার সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী

জনমত ডেক্সঃ

একাধিক বিকল্প ব্যবস্থা থাকার পরও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের নতুন ভবনেকে কোভিড-১৯ আক্রান্তদের চিকিৎসায় ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত বা প্রস্তাবকে আত্মঘাতী হবে বলে মন্তব্য করেছেন অভিজ্ঞরা। এক্ষেত্রে সরকারের কোটি কোটি টাকার সব অত্যাধুনিক যন্ত্রাংশ ক্ষতির মুখে পড়বে বলেও আলোচনায় এসেছে। এ নিয়ে ময়মনসিংহের প্রশাসনিক, নাগরিক ও মমেক পরিচালনা পর্ষদে পৃথক মন্তব্য চলছে।

 

 

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন আট তলা ভবনকে কোভিড ডেডিকেডেট হাসপাতাল করার প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো এক পত্রে এই আপত্তির কথা জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। নাগরিক আন্দোলন নেতৃবৃন্দও এমন প্রস্তাবের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

 

 

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত কোভিড সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির এক সভায় হাসপাতালের এই নতুন ভবনটিকে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল করার প্রস্তাব ও এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হয়। ময়মনসিংহ নাগরিক আন্দোলন কমিটির সভাপতি এ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান খান ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ময়মনসিংহবাসীর প্রত্যাশা ও চাহিদার প্রেক্ষিতে গত চার বছরে নতুন ভবনে তিল তিল করে গড়ে তোলা হয়েছে বহুল প্রত্যাশিত ক্যাথল্যাব, করোনারি কেয়ার ইউনিট, আইসিইউ ও ডায়ালাইসিসসহ আধুনিক প্রযুক্তি ও চিকিৎসা সেবার ওয়ার্ড-ইউনিট। কোভিড হাসপাতালে রূপান্তরের সিদ্ধান্তয় এসব সেবা ভেঙ্গে পড়বে, ধ্বংসের মুখে পড়বে মূল্যবান মেশিনারিজ সামগ্রী।

 

 

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাছির উদ্দিন আহমেদ একাধিক পত্রিকার প্রতিনিধিকে জানান, একাধিক বিকল্প থাকার পরও নতুন আট তলা ভবনকে কোভিড করার ঘোষণা আত্মঘাতী ছাড়া আর কিছুই নয়। কোভিড চিকিৎসায় জড়িত চিকিৎসক ও নার্সসহ স্বাস্থ্য কর্মীদের থাকা খাওয়াসহ ব্যক্তিগত সুরক্ষায় সব ধরনের উদ্যোগ নেয়ার কথা উল্লেখ করে হাসপাতাল পরিচালক আরও জানান, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় হাসপাতালের নতুন ভবন ছাড়াও একাধিক বিকল্প রয়েছে।

 

 

তবে কোভিড প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান জানান, এ নিয়ে উদ্বেগের কিছুই নেই। পরিস্থিতি মোকাবেলায় এসকে হাসপাতাল, পরানগঞ্জ হাসপাতাল, নার্সিং ডরমেটরি ও সিবিএমসিএইচসহ বেসরকারী প্রাইভেট হাসপাতালকে বিকল্প হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি বেশি খারাপ হলে চূড়ান্ত পর্যায়ে হাসপাতালের নতুন ভবনকে ব্যবহার করা হবে। এই ক্ষেত্রে রোগী ছাড়া আর কিছুই স্থানান্তর করা হবে না বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

 

 

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের এই আটতলা নতুন ভবনে রয়েছে বহুল প্রত্যাশিত ক্যাথল্যাব, হৃদরোগীদের জন্য করোনারি কেয়ার ইউনিট-সিসিইউ, ইমারজেন্সি বায়োকেমেস্ট্রি ল্যাব, মরণাপন্ন রোগীদের জন্য ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট-আইসিইউ, কিডনী ডায়ালাইসিস ইউনিট, নিউরো সার্জারি, ইউরোলজি, প্লাস্টিক ও বার্ণ ইউনিট, হেমাটোলজি ওয়ার্ড, সিটি স্ক্যান, এমআরআই ও প্যাথলজি ল্যাবসহ বিশেষায়িত বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিট। অপর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন ও সেন্ট্রাল এ্যাসির এই নতুন ভবনটিকে কোভিড হাসপাতাল করা হলে গুরুত্বপূর্ণ এসব ওয়ার্ড ইউনিট ও মেশিনারিজসহ ক্যাবল,ওয়্যারিং ও প্ল্যান্ট সরিয়ে পাশের পুরনো চারতলা ভবনে স্থানান্তর করতে হবে। এ সময় মোটা অঙ্কের টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা স্পর্শকাতর মেশিনারিজ অকেজো ও বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

 

সেই সাথে ব্যাহত হবে হৃদরোগ, কিডনি, গাইনি ও জেনারেল সার্জারিসহ আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রোগীদের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম। অথচ নতুন এই ভবনের বিকল্প হিসেবে একই ক্যাম্পাসের অন্তত ২০০ শয্যার একটি নার্সিং ডরমেটরির নতুন ভবনকে কোভিড হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। কোভিড প্রতিরোধ কমিটির সদস্যরা এই ডরমেটরি পরিদর্শনও করেছিলেন। এর বাইরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের আওতাধীন সংক্রামক ব্যাধির সূর্যকান্ত হাসপাতালে ৭০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড ছাড়াও সাত শয্যার আলাদা আইসিইউতে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। ময়মনসিংহ সদরের পরাণগঞ্জ হাসপাতালে ৩০ শয্যা ও মুক্তাগাছার শারীরিক শিক্ষা কলেজে ৫০ শয্যার কোভিড রোগীদের সেবা নিয়ে প্রস্তুতি ছিল স্বাস্থ্য বিভাগের। এতসব বিকল্প থাকার পরও এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে গুঞ্জন উঠেছে নতুন আটতলা ভবনের চিকিৎসাসেবা অকার্যকর করতে একটি মহল কলকাটি নাড়ছে।

 

 

করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন ডা. এবিএম মশিউল আলম জানান, গত ২৮ এপ্রিল ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। কমিটির সদস্যরা এ সময় বলেন, দিন দিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতসহ পরিস্থিতি সামাল দিতে রোগীদের সরিয়ে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নতুন আট তলা ভবনটিকে কোভিড ডেডিকেটেড করার প্রস্তাব করা হয়। ওই সভায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এমপি, জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান, হাসপাতালের উপ পরিচালক ডাঃ লক্ষ্মীনারায়ণ মজুমদার, মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ চিত্ত রঞ্জন দেবনাথ ও সিভিল সার্জন ডা. এবিএম মশিউল আলম উপস্থিত ছিলেন। কমিটির সুপারিশ ও এই প্রস্তাবটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয় গত ৩রা মে।

Print Friendly, PDF & Email
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন : Share on Facebook
Facebook
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin

সর্বশেষ খবর



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

২২ সি কে ঘোষ রোড, ময়মনসিংহ
বার্তা কক্ষ : ০১৭৩৬ ৫১৪ ৮৭২
ইমেইল : dailyjonomot@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার দৈনিক জনমত .কম

কারিগরি সহযোগিতায় BDiTZone.com