বিকাল ৫:২৯ | বৃহস্পতিবার | ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ইং | ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহে ২৬০ শিক্ষার্থীর ভাগ্য অনিশ্চিত; স্কুল ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে সিটি করপোরেশন

বিল্লাল হোসেন প্রান্তঃ

জমি জটিলতায় ময়মনসিংহের আকুয়ায় এলাকাবাসীর উদ্দ্যেগে স্থাপিত ডাঃ মুশফিকুর রহমান শুভ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ২৬০ শিক্ষার্থীসহ শিক্ষক কর্মচারীদের ভাগ্য অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। রবিবার ৯ নভেম্বর সকালে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে স্কুলটি গুরিয়ে দেয় ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন। জমির দখল নিয়ে সেখানে মসিকের মালিকানার সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, মসিকের সহকারী সচিব আমিনুল ইসলাম, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আঃ হালিম, সম্পত্তি কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান, মসিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব উল আহসান ও পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে এ উচ্ছেদ অভিযান চালান।

মসিকের সম্পত্তি কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, মসিকের দুই একর ৫৬ শতাংশ জমিতে সাবেক ধর্মমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের প্রয়াত ছেলে ডাঃ মুশফিকুর রহমান শুভর নামে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।

জমি সংক্রান্ত জটিলতায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক আদালতে মামলা করেন। ১ নভেম্বর ময়মনসিংহের একটি আদালত রায় দেয় সিটি করপোরেশনের পক্ষে। আদালতের রায় পেয়েই পুলিশ ও মসিক ম্যাজিস্ট্রেট স্কুলটি গুড়িয়ে দেয়।

 

 

তবে সচেতন মহলে আলোচনা চলছে যেহেতু স্থাপনাটি মসিকের জমিতে হয়েছে এটি ধ্বংস না করে নিজেদের আওতায় রাখা যেত। সিটি করপোরেশন রায় পাওয়ার পর কিছু সময় নিতে পারতো, এবং শিক্ষার্থীদের অন্যত্র ব্যবস্থা করার পরও উচ্ছেদ করা যেত। স্কুলটিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা এ অবস্থায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়বে পড়াশোনা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলের অভিমত।

 

 

বর্তমান সরকার নারীশিক্ষা  ও নারী অগ্রগতি তরান্বিত করতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করছে। নারী শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার অবৈতনিক করে একাদশ শ্রেনী পর্যন্ত। উচ্ছেদকৃত স্কুলের শিক্ষার্থী অভিভাবকরা হতাশাব্যাক্ত করে বলেন, হঠাৎ এ উচ্ছেদে আমাদের সন্তানদের পড়াশোনা হুমকির মুখে ফেলেছে। তারা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাকার্যক্রম অব্যাহত রাখতে স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসন ও সরকারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

 

 

স্কুলটির সহকারী প্রধান শিক্ষক শাহাদাত হোসেন জানান, কোন পূর্ব নোটিশ ছাড়াই সিটি করপোরেশন স্কুলটি ভেঙ্গে দিয়েছে। আমরা আদালতের য়ার সম্পর্কিত কোন নোটিশও পাইনি। প্রথম থেকে নবম শ্রেনী পর্যন্ত ২৬০ জন শিক্ষার্থী স্কুলটিতে অধ্যায়নরত। এ স্কুলের শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যে তাদের মেধার স্বাক্ষর রেখেছে ময়মনসিংহের শিক্ষাঙ্গনে।

 

 

তিনি বলেন, স্কুলটির স্থানে এক সময় ময়লা আবর্জন ফেলা হতো। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী যায়গাটিতে একটি স্কুল করার জন্য উদ্দ্যেগী হয়। এবং পৌরসভার সাথে আলোচনা স্বাপেক্ষে স্কুলটি নির্মাণ করে এলাকাবাসী। শতভাগ পাশের রেকর্ড করা স্কুলটি ধ্বংস না করে সরকারী আওতাধীন করা যেত। এক্ষেত্রে স্কুলটি উচ্ছেদে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণ হিসাবে সাবেক ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের প্রয়াত পুত্রের নামে স্কুলটির নামকরণ হওয়াকে বড় করে দেখছেন স্থানীয়রা।

Print Friendly, PDF & Email
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন : Share on Facebook
Facebook
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» ভূয়া বিয়ের সনদ তৈরি করে চার সন্তানের মাকে পোষ্টার ছেপে হয়রানি ; প্রতারক হানিফ গ্রেফতার

» ময়মনসিংহ ডিবি’র অভিযানে ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

» কোতোয়ালী পুলিশের তৎপরতায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি; ডাকাতি শূন্যের কোঠায়

» হাইব্রিড নিধনে শেখ হাসিনা তৎপর আগামীতে এদের অস্তিত্ব থাকবেনা দাপুনিয়া কর্মীসভায় শান্ত

» রাজনৈতিক বেনিয়াদের বিরুদ্ধে ঐক্যের ডাক; উচ্ছ্বাসে উত্তাল বিদ্রোহী মৌজা আকুয়া

» ময়মনসিংহ জেলায় শ্রেষ্ঠ ওসির পুরস্কার পেলেন মোঃ মাহমুদুল হাসান

» ৩২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগে রাজনৈতিক হৃদ্রতার মেলবন্ধন

» অটো ছিনিয়ে নিতেই সিয়াম হত্যাকান্ড, ২ ঘাতক গ্রেফতার, আলামত উদ্ধার

» শীতার্তদের মাঝে ময়মনসিংহ মহানগর সাধারণ সম্পাদকের কম্বল বিতরণ

» ময়মনসিংহে নৌকার পক্ষে ব্যাপক সাড়া

» ‌আজ ময়মনসিংহে ১৩০৫ পরিবার পাবে নিজেদের “ঠিকানা” আধপাকা ঘর

» আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য হলেন এমপি নাহিম রাজ্জাক

» টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিট পুলিশিং সত্যিকার অর্থে বাস্তবায়ন হবে- এসপি আহমার উজ্জামান

» নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে জেলা স্কুল মোড়ে বহুতল ভবন; মসিক প্রশাসন উদাসীন!

» ময়মনসিংহে আইনজীবীদের মাঝে অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথির সৌজন্যে মাস্ক বিতরণ

আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

২২ সি কে ঘোষ রোড, ময়মনসিংহ
বার্তা কক্ষ : ০১৭৩৬ ৫১৪ ৮৭২
ইমেইল : dailyjonomot@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার দৈনিক জনমত .কম

কারিগরি সহযোগিতায় BDiTZone.com

,

basic-bank

ময়মনসিংহে ২৬০ শিক্ষার্থীর ভাগ্য অনিশ্চিত; স্কুল ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে সিটি করপোরেশন

বিল্লাল হোসেন প্রান্তঃ

জমি জটিলতায় ময়মনসিংহের আকুয়ায় এলাকাবাসীর উদ্দ্যেগে স্থাপিত ডাঃ মুশফিকুর রহমান শুভ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ২৬০ শিক্ষার্থীসহ শিক্ষক কর্মচারীদের ভাগ্য অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। রবিবার ৯ নভেম্বর সকালে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে স্কুলটি গুরিয়ে দেয় ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন। জমির দখল নিয়ে সেখানে মসিকের মালিকানার সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, মসিকের সহকারী সচিব আমিনুল ইসলাম, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আঃ হালিম, সম্পত্তি কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান, মসিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব উল আহসান ও পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে এ উচ্ছেদ অভিযান চালান।

মসিকের সম্পত্তি কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, মসিকের দুই একর ৫৬ শতাংশ জমিতে সাবেক ধর্মমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের প্রয়াত ছেলে ডাঃ মুশফিকুর রহমান শুভর নামে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।

জমি সংক্রান্ত জটিলতায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক আদালতে মামলা করেন। ১ নভেম্বর ময়মনসিংহের একটি আদালত রায় দেয় সিটি করপোরেশনের পক্ষে। আদালতের রায় পেয়েই পুলিশ ও মসিক ম্যাজিস্ট্রেট স্কুলটি গুড়িয়ে দেয়।

 

 

তবে সচেতন মহলে আলোচনা চলছে যেহেতু স্থাপনাটি মসিকের জমিতে হয়েছে এটি ধ্বংস না করে নিজেদের আওতায় রাখা যেত। সিটি করপোরেশন রায় পাওয়ার পর কিছু সময় নিতে পারতো, এবং শিক্ষার্থীদের অন্যত্র ব্যবস্থা করার পরও উচ্ছেদ করা যেত। স্কুলটিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা এ অবস্থায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়বে পড়াশোনা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলের অভিমত।

 

 

বর্তমান সরকার নারীশিক্ষা  ও নারী অগ্রগতি তরান্বিত করতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করছে। নারী শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার অবৈতনিক করে একাদশ শ্রেনী পর্যন্ত। উচ্ছেদকৃত স্কুলের শিক্ষার্থী অভিভাবকরা হতাশাব্যাক্ত করে বলেন, হঠাৎ এ উচ্ছেদে আমাদের সন্তানদের পড়াশোনা হুমকির মুখে ফেলেছে। তারা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাকার্যক্রম অব্যাহত রাখতে স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসন ও সরকারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

 

 

স্কুলটির সহকারী প্রধান শিক্ষক শাহাদাত হোসেন জানান, কোন পূর্ব নোটিশ ছাড়াই সিটি করপোরেশন স্কুলটি ভেঙ্গে দিয়েছে। আমরা আদালতের য়ার সম্পর্কিত কোন নোটিশও পাইনি। প্রথম থেকে নবম শ্রেনী পর্যন্ত ২৬০ জন শিক্ষার্থী স্কুলটিতে অধ্যায়নরত। এ স্কুলের শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যে তাদের মেধার স্বাক্ষর রেখেছে ময়মনসিংহের শিক্ষাঙ্গনে।

 

 

তিনি বলেন, স্কুলটির স্থানে এক সময় ময়লা আবর্জন ফেলা হতো। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী যায়গাটিতে একটি স্কুল করার জন্য উদ্দ্যেগী হয়। এবং পৌরসভার সাথে আলোচনা স্বাপেক্ষে স্কুলটি নির্মাণ করে এলাকাবাসী। শতভাগ পাশের রেকর্ড করা স্কুলটি ধ্বংস না করে সরকারী আওতাধীন করা যেত। এক্ষেত্রে স্কুলটি উচ্ছেদে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণ হিসাবে সাবেক ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের প্রয়াত পুত্রের নামে স্কুলটির নামকরণ হওয়াকে বড় করে দেখছেন স্থানীয়রা।

Print Friendly, PDF & Email
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন : Share on Facebook
Facebook
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin

সর্বশেষ খবর



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



আমাদের সঙ্গী হোন

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

২২ সি কে ঘোষ রোড, ময়মনসিংহ
বার্তা কক্ষ : ০১৭৩৬ ৫১৪ ৮৭২
ইমেইল : dailyjonomot@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার দৈনিক জনমত .কম

কারিগরি সহযোগিতায় BDiTZone.com